ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

এশিয়ান গেমস ও বাংলাদেশের অর্জন

মো.বদরুল আলম চৌধুরী
  • আপডেট সময় : ০২:২৫:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নাচে-গানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো জাপান আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস। ষোলদিন ব্যাপী ৪৬টি দেশ ৪৩টিরও বেশি ক্রীড়া ডিসিপ্লিনে অংশ নেয়া প্রায় ১৫,০০০ ক্রীড়াবিদ ও অফিশিয়ালের পদচারণায় মুখরিত ছিল জাপানের বিভিন্ন ভেন্যু। আজ থেকে সেটি এখন ভাঙ্গা হাটে রুপ নিয়েছে। এশিয়ার সবচে বড় এই আসর থেকে পদক জিতে অ্যাথলেটরা ফিরে গেছেন নিজ নিজ দেশে।
এবারের গেমসে বেশ কিছু নতুন ডিসিপ্লিন যুক্ত হয়ে প্রতিযোগিতার আকর্ষণ বাড়িয়েছে। চীন বরাবরের মতো পদক তালিকায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখলেও ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো দুর্দান্ত লড়াই উপহার দিয়েছে শ্যুটিং, আরচারি ও ম্যারাথনে তৈরি হয়েছে নতুন অনেক রেকর্ড।
বাংলাদেশ থেকেও ২৬০ প্লাস কন্টিনজেন্টের মধ্যে ১৮৭ ক্রীড়াবিদের একটি বড় দল ২২ ইভেন্টে অংশ নেয়। অর্জন, উশুতে একমাত্র ব্রোঞ্জপদক জয়। তাও এক প্রতিদ্বন্দীর অনুপস্থিতি এবং পরবর্তী প্রতিদ্বন্ধীর ওভার ওয়েটের সুবাদে সেমিফাইনালে পৌছে এই পদকের অর্জন। এরপর বাকিটা শুধুই ব্যর্থতার  পুরানো গল্প। অজুহাতে থাকছে- গেমসে অংশ গ্রহনে অভিজ্ঞতা অর্জনই বড় কথা। স্বাধীনতাউত্তর পাওয়া ওই একই সূত্রই চলছে এখনো। অথচ এরই মাঝে কেটে গেছে স্বাধীনতার ৫৪টি বছর। প্রতিবারেই স্বপ্ন দেখা আর স্বপ্ন ভঙ্গের মধ্যেই আটকে আছে আমাদের ক্রীড়াঙ্গন।

অথচ গেমসে যাবার আগে প্রত্যাশায় ছিলো ক্রিকেট,কাবাডি, শ্যূটিং, আরচ্যারিতে পদক জেতার৷ বাকি সব কয়টিতে ছিল অভিজ্ঞতার দোহাই নিয়ে গেমসে অংশগ্রহন৷ অপ্রত্যাশিত উশু প্রতিযোগী আকতার কপালগুনে পেয়ে গেলেন ব্রোঞ্জপদক৷ আর সেটাই হয়ে উঠলোবাংলাদেশের খালি হাতের একমাত্র সম্ভল৷

এশিয়ার অন্যান্য দেশের প্রতিযোগীরা যখন পদক গলায় ঝুলিয়ে আনন্দ করছে তখন লাল সবুজ পতাকায় ভাসছে হতাশার সংবাদ৷ শ্যুটিং, আরচ্যারি আর কাবাডির পর শেষ ভরসা ক্রিকেটেও যাচ্ছে তাই৷

এছাড়া আরচারির মতো সম্ভাবনাময় ইভেন্টগুলোতে দারুণ লড়াই করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। যদিও কিছু ইভেন্টে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে, তবে বিশ্বমঞ্চে এই অংশগ্রহণ দেশের তরুণ অ্যাথলেটদের জন্য এক বড় অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজ করবে।

পারফরম্যান্স পর্যালোচনা: প্রাপ্তি ও স্বপ্নভঙ্গের গল্প

উশুতে ঐতিহাসিক সাফল্য ও একমাত্র পদক
এবারের আসরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র সাফল্য এসেছে উশু ডিসিপ্লিন থেকে মেয়েদের ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে সান্দা ইভেন্টে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেন জিন্নাত আক্তার। কোয়ার্টার ফাইনালে ইন্দোনেশিয়ার শক্তিশালী প্রতিপক্ষ অতিরিক্ত ওজনের কারণে ডিসকোয়ালিফাইড হলে সেমিফাইনালে পা রাখেন জিন্নাত । এশিয়ান গেমসের উশু ইভেন্টে এটিই বাংলাদেশের প্রথম পদক এবং ১৯৮৬ সালের পর একক কোনো ইভেন্টে এটি বাংলাদেশের প্রথম পদক জয় ।

ক্রিকেট: সেমিফাইনালে হার, ব্রোঞ্জের লড়াই বাকি
পুরুষ ক্রিকেট দল লিটন দাসের নেতৃত্বে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে জাপানে গিয়েছিল। কোয়ার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলেও র‌্যাংকিং সুবিধায় বাংলাদেশ সেমিফাইনালে ওঠে। তবে ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ। মাত্র ১১১ রানে আটকে যাওয়ার পর পাকিস্তান ১১.৩ ওভারেই লক্ষ্য পার করে ফেলে। ৩ অক্টোবর ব্রোঞ্জ পদক নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ দল ।

কাবাডি: চরম হতাশায় স্বপ্নভঙ্গ
বাংলাদেশের অন্যতম পদক সম্ভাবনাময় ইভেন্ট ছিল কাবাডি । পুরুষ দল গ্রুপ পর্বের প্রথম দুটি ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনা তাইপেইকে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছিল । কিš‘ সেমিফাইনাল ও পদক নিশ্চিত করার মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্বাগতিক জাপানের কাছে ৪০-৩৭ ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে ৩১-২০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। অন্যদিকে, নারী কাবাডি দলও ভারতের কাছে ৪২-২১ ব্যবধানে বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।

হকি: সেরা ছয়ের স্বপ্নভঙ্গ
জার্মান কোচের অধীনে নিবিড় প্র¯‘তি নিয়ে সেরা ছয়ে থাকার লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ হকি দল । গ্রুপ পর্বে ৪টি পয়েন্ট নিয়ে ভালো অব¯’ানে থাকলেও ¯’ান নির্ধারণী ম্যাচে চীনের কাছে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের ঠিক আগ মুহূর্তে রাকিবুল হাসান একটি ফিল্ড গোল করলেও চীনের আক্রমণভাগের সামনে পুরো ম্যাচেই অসহায় ছিল রক্ষণভাগ। ফলে সপ্তম-অষ্টম ¯’ান নির্ধারণী ম্যাচে থাইল্যান্ডের মুখোমুখি হতে হ”েছ তাদের।

আরচারি ও শ্যুটিং: আশানুরূপ ফলের অভাব
গেমসের অন্যতম প্রত্যাশিত ইভেন্ট আরচারি এবং শ্যুটিংয়ে বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পদকের দেখা পাননি। এশিয়ার বিশ্বমানের প্রতিযোগীদের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে কোয়ার্টার ফাইনাল বা চূড়ান্ত রাউন্ডের আগেই বিদায় নিতে হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।

সামগ্রিক মূল্যায়ন
উশুতে জিন্নাতের ব্রোঞ্জ পদক বাদ দিলে ২০২৬ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সামগ্রিক পারফরম্যান্স কিছুটা হতাশাজনক। বিশেষ করে ঐতিহ্যগতভাবে পদক পাওয়ার মূল ক্ষেত্র কাবাডি ও ক্রিকেটে স্বর্ণ বা রৌপ্যের লড়াইয়ে পৌঁছাতে না পারাটা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বড় একটি ধাক্কা। বিশ্বমঞ্চে পদক সংখ্যা বাড়াতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই, তা এই আসর আবারও প্রমাণ করল৷

২০২৬ এশিয়ান গেমসের অ্যাথলেটিক্সে পদক না পেলেও দেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান সেমিফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করেছেন । জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অ্যাথলেটিক্সের ট্র্যাকে বাংলাদেশের ৪ সদস্যের দল অংশ নেয়। মূল আলোটা কেড়ে নিয়েছিলেন দেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান, তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের সাথে কঠিন লড়াইয়ের পর সেমিফাইনাল থেকেই তাকে বিদায় নিতে হয়েছে।

অ্যাথলেটিক্সে বাংলাদেশ দলের বিস্তারিত পারফরম্যান্স নিচে তুলে ধরা হলো:

⚡ ইমরানুর রহমান: সেমিফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ

বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দেশের মূল ভরসা ছিলেন ।

প্রথম রাউন্ড (হিট): ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হিটে ১০.৪৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে তিনি নিজের গ্রুপে চতুর্থ হন এবং এশিয়ার সেরা ২৪ জন স্প্রিন্টারের মধ্যে থেকে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেন

সেমিফাইনাল: ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের প্রথম সেমিফাইনাল হিটে ইমরানুর রহমান কিছুটা টাইমিং উন্নত করে ১০.৪৪ সেকেন্ডে রেস শেষ করেন তবে এই গ্রুপে থাকা ৮ জন রানারের মধ্যে ৭ম ¯’ান অর্জন করায় ফাইনালের টিকিট কাটা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি এবং তিনি টুর্নামেন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এশিয়ান গেমস ও বাংলাদেশের অর্জন

আপডেট সময় : ০২:২৫:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

নাচে-গানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো জাপান আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস। ষোলদিন ব্যাপী ৪৬টি দেশ ৪৩টিরও বেশি ক্রীড়া ডিসিপ্লিনে অংশ নেয়া প্রায় ১৫,০০০ ক্রীড়াবিদ ও অফিশিয়ালের পদচারণায় মুখরিত ছিল জাপানের বিভিন্ন ভেন্যু। আজ থেকে সেটি এখন ভাঙ্গা হাটে রুপ নিয়েছে। এশিয়ার সবচে বড় এই আসর থেকে পদক জিতে অ্যাথলেটরা ফিরে গেছেন নিজ নিজ দেশে।
এবারের গেমসে বেশ কিছু নতুন ডিসিপ্লিন যুক্ত হয়ে প্রতিযোগিতার আকর্ষণ বাড়িয়েছে। চীন বরাবরের মতো পদক তালিকায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখলেও ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো দুর্দান্ত লড়াই উপহার দিয়েছে শ্যুটিং, আরচারি ও ম্যারাথনে তৈরি হয়েছে নতুন অনেক রেকর্ড।
বাংলাদেশ থেকেও ২৬০ প্লাস কন্টিনজেন্টের মধ্যে ১৮৭ ক্রীড়াবিদের একটি বড় দল ২২ ইভেন্টে অংশ নেয়। অর্জন, উশুতে একমাত্র ব্রোঞ্জপদক জয়। তাও এক প্রতিদ্বন্দীর অনুপস্থিতি এবং পরবর্তী প্রতিদ্বন্ধীর ওভার ওয়েটের সুবাদে সেমিফাইনালে পৌছে এই পদকের অর্জন। এরপর বাকিটা শুধুই ব্যর্থতার  পুরানো গল্প। অজুহাতে থাকছে- গেমসে অংশ গ্রহনে অভিজ্ঞতা অর্জনই বড় কথা। স্বাধীনতাউত্তর পাওয়া ওই একই সূত্রই চলছে এখনো। অথচ এরই মাঝে কেটে গেছে স্বাধীনতার ৫৪টি বছর। প্রতিবারেই স্বপ্ন দেখা আর স্বপ্ন ভঙ্গের মধ্যেই আটকে আছে আমাদের ক্রীড়াঙ্গন।

অথচ গেমসে যাবার আগে প্রত্যাশায় ছিলো ক্রিকেট,কাবাডি, শ্যূটিং, আরচ্যারিতে পদক জেতার৷ বাকি সব কয়টিতে ছিল অভিজ্ঞতার দোহাই নিয়ে গেমসে অংশগ্রহন৷ অপ্রত্যাশিত উশু প্রতিযোগী আকতার কপালগুনে পেয়ে গেলেন ব্রোঞ্জপদক৷ আর সেটাই হয়ে উঠলোবাংলাদেশের খালি হাতের একমাত্র সম্ভল৷

এশিয়ার অন্যান্য দেশের প্রতিযোগীরা যখন পদক গলায় ঝুলিয়ে আনন্দ করছে তখন লাল সবুজ পতাকায় ভাসছে হতাশার সংবাদ৷ শ্যুটিং, আরচ্যারি আর কাবাডির পর শেষ ভরসা ক্রিকেটেও যাচ্ছে তাই৷

এছাড়া আরচারির মতো সম্ভাবনাময় ইভেন্টগুলোতে দারুণ লড়াই করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। যদিও কিছু ইভেন্টে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে, তবে বিশ্বমঞ্চে এই অংশগ্রহণ দেশের তরুণ অ্যাথলেটদের জন্য এক বড় অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজ করবে।

পারফরম্যান্স পর্যালোচনা: প্রাপ্তি ও স্বপ্নভঙ্গের গল্প

উশুতে ঐতিহাসিক সাফল্য ও একমাত্র পদক
এবারের আসরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র সাফল্য এসেছে উশু ডিসিপ্লিন থেকে মেয়েদের ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে সান্দা ইভেন্টে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেন জিন্নাত আক্তার। কোয়ার্টার ফাইনালে ইন্দোনেশিয়ার শক্তিশালী প্রতিপক্ষ অতিরিক্ত ওজনের কারণে ডিসকোয়ালিফাইড হলে সেমিফাইনালে পা রাখেন জিন্নাত । এশিয়ান গেমসের উশু ইভেন্টে এটিই বাংলাদেশের প্রথম পদক এবং ১৯৮৬ সালের পর একক কোনো ইভেন্টে এটি বাংলাদেশের প্রথম পদক জয় ।

ক্রিকেট: সেমিফাইনালে হার, ব্রোঞ্জের লড়াই বাকি
পুরুষ ক্রিকেট দল লিটন দাসের নেতৃত্বে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে জাপানে গিয়েছিল। কোয়ার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলেও র‌্যাংকিং সুবিধায় বাংলাদেশ সেমিফাইনালে ওঠে। তবে ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ। মাত্র ১১১ রানে আটকে যাওয়ার পর পাকিস্তান ১১.৩ ওভারেই লক্ষ্য পার করে ফেলে। ৩ অক্টোবর ব্রোঞ্জ পদক নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ দল ।

কাবাডি: চরম হতাশায় স্বপ্নভঙ্গ
বাংলাদেশের অন্যতম পদক সম্ভাবনাময় ইভেন্ট ছিল কাবাডি । পুরুষ দল গ্রুপ পর্বের প্রথম দুটি ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনা তাইপেইকে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছিল । কিš‘ সেমিফাইনাল ও পদক নিশ্চিত করার মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্বাগতিক জাপানের কাছে ৪০-৩৭ ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে ৩১-২০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। অন্যদিকে, নারী কাবাডি দলও ভারতের কাছে ৪২-২১ ব্যবধানে বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।

হকি: সেরা ছয়ের স্বপ্নভঙ্গ
জার্মান কোচের অধীনে নিবিড় প্র¯‘তি নিয়ে সেরা ছয়ে থাকার লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ হকি দল । গ্রুপ পর্বে ৪টি পয়েন্ট নিয়ে ভালো অব¯’ানে থাকলেও ¯’ান নির্ধারণী ম্যাচে চীনের কাছে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের ঠিক আগ মুহূর্তে রাকিবুল হাসান একটি ফিল্ড গোল করলেও চীনের আক্রমণভাগের সামনে পুরো ম্যাচেই অসহায় ছিল রক্ষণভাগ। ফলে সপ্তম-অষ্টম ¯’ান নির্ধারণী ম্যাচে থাইল্যান্ডের মুখোমুখি হতে হ”েছ তাদের।

আরচারি ও শ্যুটিং: আশানুরূপ ফলের অভাব
গেমসের অন্যতম প্রত্যাশিত ইভেন্ট আরচারি এবং শ্যুটিংয়ে বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পদকের দেখা পাননি। এশিয়ার বিশ্বমানের প্রতিযোগীদের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে কোয়ার্টার ফাইনাল বা চূড়ান্ত রাউন্ডের আগেই বিদায় নিতে হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।

সামগ্রিক মূল্যায়ন
উশুতে জিন্নাতের ব্রোঞ্জ পদক বাদ দিলে ২০২৬ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সামগ্রিক পারফরম্যান্স কিছুটা হতাশাজনক। বিশেষ করে ঐতিহ্যগতভাবে পদক পাওয়ার মূল ক্ষেত্র কাবাডি ও ক্রিকেটে স্বর্ণ বা রৌপ্যের লড়াইয়ে পৌঁছাতে না পারাটা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বড় একটি ধাক্কা। বিশ্বমঞ্চে পদক সংখ্যা বাড়াতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই, তা এই আসর আবারও প্রমাণ করল৷

২০২৬ এশিয়ান গেমসের অ্যাথলেটিক্সে পদক না পেলেও দেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান সেমিফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করেছেন । জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অ্যাথলেটিক্সের ট্র্যাকে বাংলাদেশের ৪ সদস্যের দল অংশ নেয়। মূল আলোটা কেড়ে নিয়েছিলেন দেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান, তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের সাথে কঠিন লড়াইয়ের পর সেমিফাইনাল থেকেই তাকে বিদায় নিতে হয়েছে।

অ্যাথলেটিক্সে বাংলাদেশ দলের বিস্তারিত পারফরম্যান্স নিচে তুলে ধরা হলো:

⚡ ইমরানুর রহমান: সেমিফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ

বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দেশের মূল ভরসা ছিলেন ।

প্রথম রাউন্ড (হিট): ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হিটে ১০.৪৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে তিনি নিজের গ্রুপে চতুর্থ হন এবং এশিয়ার সেরা ২৪ জন স্প্রিন্টারের মধ্যে থেকে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেন

সেমিফাইনাল: ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের প্রথম সেমিফাইনাল হিটে ইমরানুর রহমান কিছুটা টাইমিং উন্নত করে ১০.৪৪ সেকেন্ডে রেস শেষ করেন তবে এই গ্রুপে থাকা ৮ জন রানারের মধ্যে ৭ম ¯’ান অর্জন করায় ফাইনালের টিকিট কাটা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি এবং তিনি টুর্নামেন্ট