ঢাকা ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ভারত- ব্রাজিল ম্যাচ যে কারনে ভাবাচ্ছে বাংলাদেশকে

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৯:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১১৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
 ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে যুক্ত হলো এক স্মরণীয় অধ্যায়। ক্রিকেটের উন্মাদনা সরিয়ে শনিবার রাতে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন (সল্টলেক স্টেডিয়াম) মেতে উঠেছিল ফুটবল জোয়ারে। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও ভারতের ‘ব্লু টাইগার্স’রা। যদিও শক্তির চরম প্রদর্শনী দেখিয়ে ভারতকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে সেলেসাওরা।
কার্লো আনচেলত্তির শীর্ষ্যরা মাঠজুড়ে আধিপত্য বজায় রেখে বিশ্বমঞ্চের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ আরও একবার ফুটিয়ে তুললেন।
খেলার শুরু থেকেই গ্যালারি জুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। ব্রাজিলের প্রখ্যাত কোচ কার্লো আনচেলত্তি আজ তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার এক দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ একাদশ মাঠে নামিয়েছিলেন।
এই ঐতিহাসিক ম্যাচ দিয়েই ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হলো তরুণ গোলরক্ষক পেদ্রো মরিসকোর। প্রথমার্ধে এস্তেভাও উইলিয়ান ও পেদ্রোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর, দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের হয়ে জোড়া গোল করে ভারতের ফেরার সব পথ বন্ধ করে দেন স্যামুয়েল লিনো।
১৩২ ধাপ এগিয়ে থাকা পাঁচবারের বিশ্বচ্যম্পিয়ন ব্রাজিল ভালো খেলবে সেটাই সর্বজন স্বীকৃত৷ কিন্তু এই উপমহাদেশের ফুটবল অনুরাগীদের দৃষ্টি ছিল বিশ্বকাপ ও এশিয়াকাপ প্রাক বাছাইয়ে হামজাদের কাছে হেরে যাওয়া দল ভারতের লড়াইয়ের দিকে৷
ওয়াটসনকে দলে ভিড়িয়ে ভারত কতোটা শক্তিশালী হতে পেরেছে৷ ব্রাজিলের সাথে কতোটা লড়াইয়ে মেতে উঠতে পেরেছিলোন তারা৷ মাঠের দর্শক আর ফুটবল অনুরাগীদের আশার আলো কিছুটা হলেও দেখাতে পেরেছেন ভারতীয় ব্লু টাইগাররা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ একহালি গোল হজম করলেও সাম্বাদের চোখে চোখ রেখে ভারতীয় ফুটবলারদের লড়াই সবার নজর কেড়েছে৷
তারও আগে পানামার বিপক্ষে ১-১ ব্যবধানের ম্যচটিও ভারতীয় ফুটবলকে শক্তিধরদের কাতারে যাওয়ার পথ দেখায়৷ এই দুই ম্যাচে ভারতে দেখা মিলেছে ইউরোপীয়ানদের মতো গতিময় ফুটবল খেলতে৷ কিংবা কখনো কখনো ব্রাজিলের মতো দলের রক্ষনবিভাগকে ভেঙ্গে ফেলতে৷
প্রীতি এই ম্যাচে ভারত হারলেও তাদের এগিয়ে যাওযাটা আসন্ন সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে হামজাদের মাথা ব্যাথার কারণ হওয়াই স্বাভাবিক৷ কারণ ভারতের সস্প্রতি এই দুই প্রীতি ম্যাচ বলছে সাফের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে তারা৷ নভেম্বরে ভারত- বাংলাদেশ দ্বৈরথে হয়ত সেটি আরো পরিস্কার হয়ে উঠতে পারে৷
এবার ফেরা যাক ব্রাজিলের বিপক্ষে ভারতের লড়াইয়ের সাতকাহনে…
কিা অফের শুরুর দিকে ব্রাজিলকে চেনা ছন্দে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আক্রমণগুলোতে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেলেও, সময় বাড়ার সাথে সাথে ম্যাচের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় সফরকারীরা। ম্যাচের ২৮ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন তরুণ সেনসেশন এস্তেভাও উইলিয়ান। ডান দিক থেকে একক প্রচেষ্টায় বল ড্রিবলিং করে ভারতের বক্সে ঢুকে এক দুর্দান্ত ও জোরালো শটে বল জালে জড়ান তিনি।
প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ৪২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে সেলেসাওরা। ভারতের ডি-বক্সের বাইরে থেকে ফরোয়ার্ড পেদ্রোর নেওয়া একটি জোরালো শট ভারতীয় গোলরক্ষকের হাতে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোললাইন পার হয়ে যায়। ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা।
বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা কিছুটা ম্যাড়ম্যাড়ে হলেও ৫৮ মিনিটে আবারও উল্লাসে মাতে ব্রাজিল শিবির। পেদ্রোর চমৎকার অ্যাসিস্ট থেকে বক্সের বাঁ দিক দিয়ে চিপ শটে ভারতীয় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিজের প্রথম ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন স্যামুয়েল লিনো। এরপর ম্যাচের শেষভাগে ভারত রক্ষণভাগ গোছানোর চেষ্টা করলেও লিনোর আরেকটি দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০।
ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ৬ নম্বর অবস্থানে থাকা ব্রাজিলের বিপক্ষে ১৩৮তম স্থানে থাকা ভারতের এই লড়াইটি কেবল হার-জিতের সমীকরণে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা শক্তির বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য যাচাই ও অমূল্য অভিজ্ঞতা অর্জনের এক বড় মঞ্চ ছিল এটি। শক্তির বিচারে দুই দলের আকাশ-পাতাল ব্যবধান থাকলেও, ব্রাজিলের মতো বিশ্বসেরা আক্রমণের সামনে প্রথমার্ধে ভারতীয় ফুটবলারদের লড়াই ছিল প্রশংসনীয়। শেষ পর্যন্ত কলকাতার হাজারো দর্শককে নান্দনিক ফুটবল উপহার দিয়ে এক রাজকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কার্লো আনচেলত্তির দল৷

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভারত- ব্রাজিল ম্যাচ যে কারনে ভাবাচ্ছে বাংলাদেশকে

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
 ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে যুক্ত হলো এক স্মরণীয় অধ্যায়। ক্রিকেটের উন্মাদনা সরিয়ে শনিবার রাতে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন (সল্টলেক স্টেডিয়াম) মেতে উঠেছিল ফুটবল জোয়ারে। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও ভারতের ‘ব্লু টাইগার্স’রা। যদিও শক্তির চরম প্রদর্শনী দেখিয়ে ভারতকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে সেলেসাওরা।
কার্লো আনচেলত্তির শীর্ষ্যরা মাঠজুড়ে আধিপত্য বজায় রেখে বিশ্বমঞ্চের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ আরও একবার ফুটিয়ে তুললেন।
খেলার শুরু থেকেই গ্যালারি জুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। ব্রাজিলের প্রখ্যাত কোচ কার্লো আনচেলত্তি আজ তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার এক দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ একাদশ মাঠে নামিয়েছিলেন।
এই ঐতিহাসিক ম্যাচ দিয়েই ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হলো তরুণ গোলরক্ষক পেদ্রো মরিসকোর। প্রথমার্ধে এস্তেভাও উইলিয়ান ও পেদ্রোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর, দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের হয়ে জোড়া গোল করে ভারতের ফেরার সব পথ বন্ধ করে দেন স্যামুয়েল লিনো।
১৩২ ধাপ এগিয়ে থাকা পাঁচবারের বিশ্বচ্যম্পিয়ন ব্রাজিল ভালো খেলবে সেটাই সর্বজন স্বীকৃত৷ কিন্তু এই উপমহাদেশের ফুটবল অনুরাগীদের দৃষ্টি ছিল বিশ্বকাপ ও এশিয়াকাপ প্রাক বাছাইয়ে হামজাদের কাছে হেরে যাওয়া দল ভারতের লড়াইয়ের দিকে৷
ওয়াটসনকে দলে ভিড়িয়ে ভারত কতোটা শক্তিশালী হতে পেরেছে৷ ব্রাজিলের সাথে কতোটা লড়াইয়ে মেতে উঠতে পেরেছিলোন তারা৷ মাঠের দর্শক আর ফুটবল অনুরাগীদের আশার আলো কিছুটা হলেও দেখাতে পেরেছেন ভারতীয় ব্লু টাইগাররা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ একহালি গোল হজম করলেও সাম্বাদের চোখে চোখ রেখে ভারতীয় ফুটবলারদের লড়াই সবার নজর কেড়েছে৷
তারও আগে পানামার বিপক্ষে ১-১ ব্যবধানের ম্যচটিও ভারতীয় ফুটবলকে শক্তিধরদের কাতারে যাওয়ার পথ দেখায়৷ এই দুই ম্যাচে ভারতে দেখা মিলেছে ইউরোপীয়ানদের মতো গতিময় ফুটবল খেলতে৷ কিংবা কখনো কখনো ব্রাজিলের মতো দলের রক্ষনবিভাগকে ভেঙ্গে ফেলতে৷
প্রীতি এই ম্যাচে ভারত হারলেও তাদের এগিয়ে যাওযাটা আসন্ন সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে হামজাদের মাথা ব্যাথার কারণ হওয়াই স্বাভাবিক৷ কারণ ভারতের সস্প্রতি এই দুই প্রীতি ম্যাচ বলছে সাফের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে তারা৷ নভেম্বরে ভারত- বাংলাদেশ দ্বৈরথে হয়ত সেটি আরো পরিস্কার হয়ে উঠতে পারে৷
এবার ফেরা যাক ব্রাজিলের বিপক্ষে ভারতের লড়াইয়ের সাতকাহনে…
কিা অফের শুরুর দিকে ব্রাজিলকে চেনা ছন্দে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আক্রমণগুলোতে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেলেও, সময় বাড়ার সাথে সাথে ম্যাচের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় সফরকারীরা। ম্যাচের ২৮ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন তরুণ সেনসেশন এস্তেভাও উইলিয়ান। ডান দিক থেকে একক প্রচেষ্টায় বল ড্রিবলিং করে ভারতের বক্সে ঢুকে এক দুর্দান্ত ও জোরালো শটে বল জালে জড়ান তিনি।
প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ৪২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে সেলেসাওরা। ভারতের ডি-বক্সের বাইরে থেকে ফরোয়ার্ড পেদ্রোর নেওয়া একটি জোরালো শট ভারতীয় গোলরক্ষকের হাতে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোললাইন পার হয়ে যায়। ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা।
বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা কিছুটা ম্যাড়ম্যাড়ে হলেও ৫৮ মিনিটে আবারও উল্লাসে মাতে ব্রাজিল শিবির। পেদ্রোর চমৎকার অ্যাসিস্ট থেকে বক্সের বাঁ দিক দিয়ে চিপ শটে ভারতীয় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিজের প্রথম ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন স্যামুয়েল লিনো। এরপর ম্যাচের শেষভাগে ভারত রক্ষণভাগ গোছানোর চেষ্টা করলেও লিনোর আরেকটি দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০।
ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ৬ নম্বর অবস্থানে থাকা ব্রাজিলের বিপক্ষে ১৩৮তম স্থানে থাকা ভারতের এই লড়াইটি কেবল হার-জিতের সমীকরণে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা শক্তির বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য যাচাই ও অমূল্য অভিজ্ঞতা অর্জনের এক বড় মঞ্চ ছিল এটি। শক্তির বিচারে দুই দলের আকাশ-পাতাল ব্যবধান থাকলেও, ব্রাজিলের মতো বিশ্বসেরা আক্রমণের সামনে প্রথমার্ধে ভারতীয় ফুটবলারদের লড়াই ছিল প্রশংসনীয়। শেষ পর্যন্ত কলকাতার হাজারো দর্শককে নান্দনিক ফুটবল উপহার দিয়ে এক রাজকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কার্লো আনচেলত্তির দল৷