ঢাকা ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মধ্যপ্রাচ্যে ২০ হাজার মার্কিন সৈন্য, যে কোন মুহুর্তে ইরানে হামলার আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি নজিরবিহীনভাবে বাড়িয়ে তিনটি বিমানবাহী রণতরি (এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার) স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরানে নতুন করে শক্তিশালী হামলার হুমকির মধ্যেই পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এই বিশাল সামরিক বহর পাঠানোর সিদ্ধান্ত এলো। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তার বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের অভিমুখে রওনা হওয়া এই মার্কিন সামরিক বহরে রয়েছে এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ স্ট্রাইক গ্রুপ এবং বিশেষায়িত উভচর হামলাকারী দল ‘ইউএসএস মেকিন আইল্যান্ড’ অ্যামফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দুটি উভচর ল্যান্ডিং জাহাজও। এই বিশাল বহরে সব মিলিয়ে ৭ হাজারেরও বেশি নৌসেনা এবং ২ হাজার মেরিন সেনা অবস্থান করছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবরের শেষের দিকেই মধ্যপ্রাচ্যে একই সঙ্গে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি বহরের উপস্থিতি নিশ্চিত হতে পারে। নতুন এই সেনাদল পৌঁছালে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মোট নৌসেনা ও মেরিন সেনার সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর এই অঞ্চলে এটিই আমেরিকার বৃহত্তম সামরিক উপস্থিতি। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ’ এবং ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ নামে দুটি রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ‘ইউএসএস বক্সার’ অ্যামফিবিয়াস দল মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে টাইম সাময়িকীকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বোমাবর্ষণ ও হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানো হতে পারে। কৌশলগত নিরাপত্তার কারণে সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গার নাম উল্লেখ না করলেও হামলার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, ইরান থেকে আসা সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তিনি ইতিমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রণালি বা ‘স্ট্রেইট অব হরমুজ’ খুলে দেওয়ার মতো অফার ইরান থেকে দেওয়া হলেও তা পেন্টাগনের কাছে যথেষ্ট নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই যুদ্ধ মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির জন্য ক্ষতিকর হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, শুরুতে নেতিবাচক প্রভাবের সম্ভাবনা থাকলেও ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা অর্জন প্রতিহত করা সম্ভব হলে তা নির্বাচনের ফলাফলে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে৷

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মধ্যপ্রাচ্যে ২০ হাজার মার্কিন সৈন্য, যে কোন মুহুর্তে ইরানে হামলার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ১২:১৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি নজিরবিহীনভাবে বাড়িয়ে তিনটি বিমানবাহী রণতরি (এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার) স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরানে নতুন করে শক্তিশালী হামলার হুমকির মধ্যেই পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এই বিশাল সামরিক বহর পাঠানোর সিদ্ধান্ত এলো। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তার বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের অভিমুখে রওনা হওয়া এই মার্কিন সামরিক বহরে রয়েছে এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ স্ট্রাইক গ্রুপ এবং বিশেষায়িত উভচর হামলাকারী দল ‘ইউএসএস মেকিন আইল্যান্ড’ অ্যামফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দুটি উভচর ল্যান্ডিং জাহাজও। এই বিশাল বহরে সব মিলিয়ে ৭ হাজারেরও বেশি নৌসেনা এবং ২ হাজার মেরিন সেনা অবস্থান করছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবরের শেষের দিকেই মধ্যপ্রাচ্যে একই সঙ্গে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি বহরের উপস্থিতি নিশ্চিত হতে পারে। নতুন এই সেনাদল পৌঁছালে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মোট নৌসেনা ও মেরিন সেনার সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর এই অঞ্চলে এটিই আমেরিকার বৃহত্তম সামরিক উপস্থিতি। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ’ এবং ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ নামে দুটি রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ‘ইউএসএস বক্সার’ অ্যামফিবিয়াস দল মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে টাইম সাময়িকীকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বোমাবর্ষণ ও হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানো হতে পারে। কৌশলগত নিরাপত্তার কারণে সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গার নাম উল্লেখ না করলেও হামলার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, ইরান থেকে আসা সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তিনি ইতিমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রণালি বা ‘স্ট্রেইট অব হরমুজ’ খুলে দেওয়ার মতো অফার ইরান থেকে দেওয়া হলেও তা পেন্টাগনের কাছে যথেষ্ট নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই যুদ্ধ মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির জন্য ক্ষতিকর হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, শুরুতে নেতিবাচক প্রভাবের সম্ভাবনা থাকলেও ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা অর্জন প্রতিহত করা সম্ভব হলে তা নির্বাচনের ফলাফলে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে৷