ঢাকা ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৫:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে ঢাকা মহানগর ঘিরে অভ্যন্তরীণ বৃত্তাকার সড়ক (ইনার সার্কুলার রিং রোড) নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং কাজ শেষ করতে বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রোববার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনাবিষয়ক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশ দেন। সভায় তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে সমন্বিতভাবে বিদ্যমান পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

সভায় প্রধানমন্ত্রী দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে থাকা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধানের ওপর জোর দেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি যাতে কাজের গতি ব্যাহত না করে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রাজধানীর যানজট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নগরবাসী অন্যতম প্রধান ভোগান্তির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাকেন্দ্রে যাতায়াত করেন। যানজটে অতিরিক্ত সময় ব্যয়ের পাশাপাশি জ্বালানি খরচ ও পরিবেশদূষণও বাড়ে।

যে কারণে বৃত্তাকার সড়ক প্রকল্পের ধীরগতি নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। আজকের সভায় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিদ্যমান পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৃত্তাকার সড়কের চলমান অংশগুলো দ্রুত শেষ করা এবং বৃহত্তর রিং রোড পরিকল্পনার অন্যান্য অংশ বাস্তবায়নে গতি আনতে পারলে রাজধানীর ভেতর দিয়ে অপ্রয়োজনীয় যান চলাচল কমানো সম্ভব হবে। এতে ঢাকার প্রধান সড়কগুলোর ওপর চাপ কমার পাশাপাশি নগরবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াতে সময় সাশ্রয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

প্রায় ৮৯ কিলোমিটারের পরিকল্পনা

ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার সড়ক গড়ে তোলার পরিকল্পনাটি একক কোনো সড়ক নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইনার সার্কুলার রিং রোডের একটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেট থেকে ধউর, বিরুলিয়া, গাবতলী, বছিলা, হাজারীবাগ, সোয়ারীঘাট, কদমতলী, তেঘরিয়া, পোস্তগোলা, ফতুল্লা, চাষাঢ়া ও শিমরাইল হয়ে ডেমরা পর্যন্ত বিস্তৃত। আরেকটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেট থেকে তেরমুখ, পূর্বাচল ও বেরাইদ হয়ে ডেমরায় যুক্ত হওয়ার কথা। সব মিলিয়ে প্রস্তাবিত বৃত্তাকার সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৯ কিলোমিটার।

এর মধ্যে রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অংশের নির্মাণকাজ চলছে। জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত অগ্রগতি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অংশে প্রায় ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

 বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো রাজধানীর কেন্দ্রীয় ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার যানবাহনের চলাচল কমানো। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় প্রবেশ ও ঢাকার ভেতর দিয়ে অন্য গন্তব্যে যাওয়া বিপুলসংখ্যক যানকে নগরীর ব্যস্ত সড়ক ব্যবহার করতে হয়। এতে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়ে এবং দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

পরিকল্পিত বৃত্তাকার সড়ক চালু হলে সিলেট, মাওয়া ও চট্টগ্রামমুখী যানবাহনের একটি বড় অংশ রাজধানীর ভেতরের ব্যস্ত সড়ক এড়িয়ে চলাচলের সুযোগ পাবে। ফলে একদিকে আন্তজেলা যানবাহনের জন্য বিকল্প করিডর তৈরি হবে, অন্যদিকে ঢাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় যানবাহনের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

 বৃত্তাকার নৌপথেরও পরিকল্পনা করছে সরকার

রাজধানীর যানজট কমাতে সড়কের পাশাপাশি বৃত্তাকার নৌপথ ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। ঢাকা শহর ঘিরে প্রায় ১১০ কিলোমিটার নদীপথকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর বিষয়টি নিয়েও এর আগে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই নৌপথ কার্যকর করা গেলে সড়কের ওপর যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাপ কিছুটা সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার যানজট কমাতে শুধু নতুন সড়ক নির্মাণ যথেষ্ট নয়; আন্তজেলা যানবাহনকে নগরকেন্দ্র এড়িয়ে চলার সুযোগ, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সড়ক-নৌপথের সমন্বিত ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বৃত্তাকার সড়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প করিডর হিসেবে কাজ করতে পারে।

ঢাকার বৃত্তাকার সড়ক

প্রস্তাবিত মোট দৈর্ঘ্য: প্রায় ৮৯ কিলোমিটার

চলমান অংশ: রায়েরবাজার–হাজারীবাগ–কামরাঙ্গীরচর অংশ

চলমান অংশের দৈর্ঘ্য: প্রায় ১২ কিলোমিটার

বর্তমান অগ্রগতি: প্রায় ৪৫ শতাংশ

পরিকল্পিত সংযোগ: আব্দুল্লাহপুর রেলগেট–ধউর–বিরুলিয়া–গাবতলী–বছিলা–হাজারীবাগ–সোয়ারীঘাট–কদমতলী–তেঘরিয়া–পোস্তগোলা–ফতুল্লা–চাষাঢ়া–শিমরাইল–ডেমরা

আরেকটি অংশ: আব্দুল্লাহপুর–তেরমুখ–পূর্বাচল–বেরাইদ–ডেমরা

সম্ভাব্য সুবিধা

  • রাজধানীর কেন্দ্রীয় সড়কে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার যানবাহনের চাপ কমবে
  • ঢাকার ভেতরের যানজট কমানোর সুযোগ তৈরি হবে
  • সিলেট, মাওয়া ও চট্টগ্রামমুখী যানবাহনের বিকল্প করিডর তৈরি হবে
  • যাতায়াতে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হতে পারে
  • পণ্য পরিবহনে গতি বাড়বে
  • রাজধানীর প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর ওপর চাপ কমবে
  • নগরীর সামগ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা আরও বিকেন্দ্রীভূত করার সুযোগ তৈরি হবে

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:৩৫:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে ঢাকা মহানগর ঘিরে অভ্যন্তরীণ বৃত্তাকার সড়ক (ইনার সার্কুলার রিং রোড) নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং কাজ শেষ করতে বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রোববার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনাবিষয়ক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশ দেন। সভায় তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে সমন্বিতভাবে বিদ্যমান পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

সভায় প্রধানমন্ত্রী দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে থাকা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধানের ওপর জোর দেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি যাতে কাজের গতি ব্যাহত না করে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রাজধানীর যানজট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নগরবাসী অন্যতম প্রধান ভোগান্তির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাকেন্দ্রে যাতায়াত করেন। যানজটে অতিরিক্ত সময় ব্যয়ের পাশাপাশি জ্বালানি খরচ ও পরিবেশদূষণও বাড়ে।

যে কারণে বৃত্তাকার সড়ক প্রকল্পের ধীরগতি নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। আজকের সভায় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিদ্যমান পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৃত্তাকার সড়কের চলমান অংশগুলো দ্রুত শেষ করা এবং বৃহত্তর রিং রোড পরিকল্পনার অন্যান্য অংশ বাস্তবায়নে গতি আনতে পারলে রাজধানীর ভেতর দিয়ে অপ্রয়োজনীয় যান চলাচল কমানো সম্ভব হবে। এতে ঢাকার প্রধান সড়কগুলোর ওপর চাপ কমার পাশাপাশি নগরবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াতে সময় সাশ্রয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

প্রায় ৮৯ কিলোমিটারের পরিকল্পনা

ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার সড়ক গড়ে তোলার পরিকল্পনাটি একক কোনো সড়ক নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইনার সার্কুলার রিং রোডের একটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেট থেকে ধউর, বিরুলিয়া, গাবতলী, বছিলা, হাজারীবাগ, সোয়ারীঘাট, কদমতলী, তেঘরিয়া, পোস্তগোলা, ফতুল্লা, চাষাঢ়া ও শিমরাইল হয়ে ডেমরা পর্যন্ত বিস্তৃত। আরেকটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেট থেকে তেরমুখ, পূর্বাচল ও বেরাইদ হয়ে ডেমরায় যুক্ত হওয়ার কথা। সব মিলিয়ে প্রস্তাবিত বৃত্তাকার সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৯ কিলোমিটার।

এর মধ্যে রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অংশের নির্মাণকাজ চলছে। জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত অগ্রগতি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অংশে প্রায় ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

 বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো রাজধানীর কেন্দ্রীয় ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার যানবাহনের চলাচল কমানো। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় প্রবেশ ও ঢাকার ভেতর দিয়ে অন্য গন্তব্যে যাওয়া বিপুলসংখ্যক যানকে নগরীর ব্যস্ত সড়ক ব্যবহার করতে হয়। এতে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়ে এবং দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

পরিকল্পিত বৃত্তাকার সড়ক চালু হলে সিলেট, মাওয়া ও চট্টগ্রামমুখী যানবাহনের একটি বড় অংশ রাজধানীর ভেতরের ব্যস্ত সড়ক এড়িয়ে চলাচলের সুযোগ পাবে। ফলে একদিকে আন্তজেলা যানবাহনের জন্য বিকল্প করিডর তৈরি হবে, অন্যদিকে ঢাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় যানবাহনের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

 বৃত্তাকার নৌপথেরও পরিকল্পনা করছে সরকার

রাজধানীর যানজট কমাতে সড়কের পাশাপাশি বৃত্তাকার নৌপথ ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। ঢাকা শহর ঘিরে প্রায় ১১০ কিলোমিটার নদীপথকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর বিষয়টি নিয়েও এর আগে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই নৌপথ কার্যকর করা গেলে সড়কের ওপর যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাপ কিছুটা সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার যানজট কমাতে শুধু নতুন সড়ক নির্মাণ যথেষ্ট নয়; আন্তজেলা যানবাহনকে নগরকেন্দ্র এড়িয়ে চলার সুযোগ, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সড়ক-নৌপথের সমন্বিত ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বৃত্তাকার সড়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প করিডর হিসেবে কাজ করতে পারে।

ঢাকার বৃত্তাকার সড়ক

প্রস্তাবিত মোট দৈর্ঘ্য: প্রায় ৮৯ কিলোমিটার

চলমান অংশ: রায়েরবাজার–হাজারীবাগ–কামরাঙ্গীরচর অংশ

চলমান অংশের দৈর্ঘ্য: প্রায় ১২ কিলোমিটার

বর্তমান অগ্রগতি: প্রায় ৪৫ শতাংশ

পরিকল্পিত সংযোগ: আব্দুল্লাহপুর রেলগেট–ধউর–বিরুলিয়া–গাবতলী–বছিলা–হাজারীবাগ–সোয়ারীঘাট–কদমতলী–তেঘরিয়া–পোস্তগোলা–ফতুল্লা–চাষাঢ়া–শিমরাইল–ডেমরা

আরেকটি অংশ: আব্দুল্লাহপুর–তেরমুখ–পূর্বাচল–বেরাইদ–ডেমরা

সম্ভাব্য সুবিধা

  • রাজধানীর কেন্দ্রীয় সড়কে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার যানবাহনের চাপ কমবে
  • ঢাকার ভেতরের যানজট কমানোর সুযোগ তৈরি হবে
  • সিলেট, মাওয়া ও চট্টগ্রামমুখী যানবাহনের বিকল্প করিডর তৈরি হবে
  • যাতায়াতে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হতে পারে
  • পণ্য পরিবহনে গতি বাড়বে
  • রাজধানীর প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর ওপর চাপ কমবে
  • নগরীর সামগ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা আরও বিকেন্দ্রীভূত করার সুযোগ তৈরি হবে