ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মোস্তাফিজের বোলিংয়ে ডুবেছে বাংলাদেশ, ফাইনালে ভারত- পাকিস্তান

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৪১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্বপ্ন আর বাস্তবতার মধ্যে প্রার্থক্য দেখলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস৷ আইচি নাগোয়া এশিয়ান গেমসে টাইগারদের সেই স্বপ্নের মৃত্যু হলো পাকিস্তানের কাছে হেরে৷ স্বর্নের লড়াইটি হবে এখন ভারত- পাকিস্তানে৷ ব্রোঞ্জ পদকের লড়াই হবে বাংলাদেশ – শ্রীলঙ্কা৷ হারলে বাকি স্বপ্নেরও মৃত্যু ঘটবে৷ কিন্তু কেন এই ব্যার্থতা? এশিয়ান গেমস অন্যান্য ইভেন্টে যখন দর্শকশুন্য তখন ক্রিকেটের ভেন্যু দর্শকপূর্ন৷ প্রবাসী বাঙালিরা দিনের কাজ বাদ দিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন মাঠে৷ ফিরলেন তারা হতাশ হয়ে৷

তাহলে বাংলাদেশ কোথায় ম্যাচটি হেরেছে—সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে অধিনায়ক লিটন দাস দায় দেখেছেন মাঝের ওভারের বোলিংয়ে। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে আমরা মিডল ওভারে বোলিংটা যদি আরেকটু ভালো করতে পারতাম, যদি ওভার বাউন্ডারিগুলো কম খেতাম তাহলে (জেতার) সুযোগ বেশি ছিল।’

বাংলাদেশের বোলিংয়ে সবচেয়ে কঠিন দিন গেছে মোস্তাফিজুর রহমানের। ২ ওভারে ৪১ রান দিয়েছেন তিনি। শেষ ৪ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৩৪ রান। এমন পরিস্থিতিতে এক ওভারেই ২৩ রান দেন মোস্তাফিজ। তার বদলে অন্য কাউকে তখন বোলিংয়ে আনা যেত কি না, এমন প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়েছে লিটনকে।

জবাবে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘অনেকজনই ছিল বিকল্প হিসেবে। আজকে মোস্তাফিজ ৩ উইকেট পেলে আপনি এই প্রশ্ন করতেন না। এতদিন তো করে আসছে। আমার কাছে বেস্ট অপশন মোস্তাফিজ মনে হয়েছে, আমি করিয়েছি। আপনার কাছে যদি কখনো মনে হয় অন্য অপশন বেস্ট আপনি করাবেন।’

ব্যাটিংয়েও অবশ্য প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয় ২৫ বলে ৪২ রানের কার্যকর ইনিংস খেললেও অন্য ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে তেমন সহযোগিতা পাননি। অধিনায়ক লিটন নিজেও ৩ বলে ২ রান করে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন।

এর আগে জাপানে দলের প্রস্তুতিতেও বড় বাধা ছিল বৃষ্টি। কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় অনুশীলনের সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ। গতকালই প্রথম কিছুটা রোদের দেখা পেয়েছিল দল। দীর্ঘ সময় ঘরবন্দি থাকার পর হঠাৎ ম্যাচ খেলতে নামার প্রভাব পড়েছে পারফরম্যান্সে—এমনটাই মনে করেন লিটন।

বাংলাদেশ অধিনায়কের দাবি, ‘আপনি যদি দেখেন আমরা অনেকদিন ধরে রুমে বসে, সঙ্গে আমরা টস হেরে গেছি। আমাদের হাতে কোনো বিকল্প ছিল না। যদি ভালো খেলতে পারতাম ভালো হতো। কিন্তু এটা খুব সহজ না যে আপনি এতদিন বসে থাকবেন এবং গিয়ে খুব অসাধারণ ইনিংস খেলে ফেলবেন।’

শুধু প্রস্তুতিই নয়, ম্যাচের আগে উইকেট সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা ছিল না বাংলাদেশের। লিটন বলেন, ‘আমাদের তো কোনো ধারণা ছিল না। কারণ এখানে আমরা গত কয়দিন ধরে কোনো খেলা দেখিনি এবং উইকেটে অনুশীলন করার সুযোগও নেই। ধারণা ছাড়া আমরা ক্রিকেট খেলেছি প্রথম কয়েকটা ওভার। তারপর আস্তে আস্তে ব্যাটসম্যানরা ধারণা পেয়েছে।’

ফলে ফাইনালে খেলার প্রত্যাশা নিয়ে জাপানে যাওয়া বাংলাদেশকে শেষ পর্যন্ত থামতে হয়েছে সেমিফাইনালেই। পাকিস্তানের কাছে হেরে এশিয়ান গেমসের সোনার পদকের লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ম্যাচের ভুল ও সীমাবদ্ধতাগুলোই তুলে ধরেছেন অধিনায়ক লিটন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মোস্তাফিজের বোলিংয়ে ডুবেছে বাংলাদেশ, ফাইনালে ভারত- পাকিস্তান

আপডেট সময় : ০৩:৪১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

স্বপ্ন আর বাস্তবতার মধ্যে প্রার্থক্য দেখলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস৷ আইচি নাগোয়া এশিয়ান গেমসে টাইগারদের সেই স্বপ্নের মৃত্যু হলো পাকিস্তানের কাছে হেরে৷ স্বর্নের লড়াইটি হবে এখন ভারত- পাকিস্তানে৷ ব্রোঞ্জ পদকের লড়াই হবে বাংলাদেশ – শ্রীলঙ্কা৷ হারলে বাকি স্বপ্নেরও মৃত্যু ঘটবে৷ কিন্তু কেন এই ব্যার্থতা? এশিয়ান গেমস অন্যান্য ইভেন্টে যখন দর্শকশুন্য তখন ক্রিকেটের ভেন্যু দর্শকপূর্ন৷ প্রবাসী বাঙালিরা দিনের কাজ বাদ দিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন মাঠে৷ ফিরলেন তারা হতাশ হয়ে৷

তাহলে বাংলাদেশ কোথায় ম্যাচটি হেরেছে—সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে অধিনায়ক লিটন দাস দায় দেখেছেন মাঝের ওভারের বোলিংয়ে। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে আমরা মিডল ওভারে বোলিংটা যদি আরেকটু ভালো করতে পারতাম, যদি ওভার বাউন্ডারিগুলো কম খেতাম তাহলে (জেতার) সুযোগ বেশি ছিল।’

বাংলাদেশের বোলিংয়ে সবচেয়ে কঠিন দিন গেছে মোস্তাফিজুর রহমানের। ২ ওভারে ৪১ রান দিয়েছেন তিনি। শেষ ৪ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৩৪ রান। এমন পরিস্থিতিতে এক ওভারেই ২৩ রান দেন মোস্তাফিজ। তার বদলে অন্য কাউকে তখন বোলিংয়ে আনা যেত কি না, এমন প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়েছে লিটনকে।

জবাবে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘অনেকজনই ছিল বিকল্প হিসেবে। আজকে মোস্তাফিজ ৩ উইকেট পেলে আপনি এই প্রশ্ন করতেন না। এতদিন তো করে আসছে। আমার কাছে বেস্ট অপশন মোস্তাফিজ মনে হয়েছে, আমি করিয়েছি। আপনার কাছে যদি কখনো মনে হয় অন্য অপশন বেস্ট আপনি করাবেন।’

ব্যাটিংয়েও অবশ্য প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয় ২৫ বলে ৪২ রানের কার্যকর ইনিংস খেললেও অন্য ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে তেমন সহযোগিতা পাননি। অধিনায়ক লিটন নিজেও ৩ বলে ২ রান করে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন।

এর আগে জাপানে দলের প্রস্তুতিতেও বড় বাধা ছিল বৃষ্টি। কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় অনুশীলনের সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ। গতকালই প্রথম কিছুটা রোদের দেখা পেয়েছিল দল। দীর্ঘ সময় ঘরবন্দি থাকার পর হঠাৎ ম্যাচ খেলতে নামার প্রভাব পড়েছে পারফরম্যান্সে—এমনটাই মনে করেন লিটন।

বাংলাদেশ অধিনায়কের দাবি, ‘আপনি যদি দেখেন আমরা অনেকদিন ধরে রুমে বসে, সঙ্গে আমরা টস হেরে গেছি। আমাদের হাতে কোনো বিকল্প ছিল না। যদি ভালো খেলতে পারতাম ভালো হতো। কিন্তু এটা খুব সহজ না যে আপনি এতদিন বসে থাকবেন এবং গিয়ে খুব অসাধারণ ইনিংস খেলে ফেলবেন।’

শুধু প্রস্তুতিই নয়, ম্যাচের আগে উইকেট সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা ছিল না বাংলাদেশের। লিটন বলেন, ‘আমাদের তো কোনো ধারণা ছিল না। কারণ এখানে আমরা গত কয়দিন ধরে কোনো খেলা দেখিনি এবং উইকেটে অনুশীলন করার সুযোগও নেই। ধারণা ছাড়া আমরা ক্রিকেট খেলেছি প্রথম কয়েকটা ওভার। তারপর আস্তে আস্তে ব্যাটসম্যানরা ধারণা পেয়েছে।’

ফলে ফাইনালে খেলার প্রত্যাশা নিয়ে জাপানে যাওয়া বাংলাদেশকে শেষ পর্যন্ত থামতে হয়েছে সেমিফাইনালেই। পাকিস্তানের কাছে হেরে এশিয়ান গেমসের সোনার পদকের লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ম্যাচের ভুল ও সীমাবদ্ধতাগুলোই তুলে ধরেছেন অধিনায়ক লিটন।