ঢাকা ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

নাচে গানে বিদায় আইচি-নাগোয়া, ওয়েলকাম কাতার

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:০৬:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৯৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গত ষোলদিন ধরে আইচি-নাগোয়া ছিলো হাজার হাজার অ্যাথলেট, কর্মকর্তা, ও পর্যটকদের পদভারে মুখরিত। আজ সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নাগোয়া শহর আবারও ফিরছে সেই আগের মতোই সুনশান নিরবতায়৷  অতিথিরা ফিরে গেছেন নিজ নিজ দেশে। তাদের বিদায় জানানো হলো জাপানের আইচি-নাগোয়ার আলোঝলমলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। আলো নিভানোর মধ্য দিয়ে জাপানে  শেষ হলো এবারের আসর। অপেক্ষার মঞ্চে কাতার।

বিদায় মঞ্চ থেকেই এশিয়ার সবচেয়ে বড় বহুক্রীড়া আসরের পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে চলে গেল পরবর্তী আয়োজক কাতারের হাতে। ২০৩০ সালে দোহায় বসবে এশিয়ান গেমসের ২১তম আসর।

আতশবাজি, নাচ-গান আর বিদায়—১৫ ছবিতে এশিয়ান গেমসের সমাপনী | প্রথম আলো

মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে সমাপনী অনুষ্ঠানে কাতারের প্রতিনিধি এশিয়ান গেমসের পতাকা গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো দোহা ২০৩০-এর প্রস্তুতির নতুন অধ্যায়। ২০০৬ সালে প্রথমবার এশিয়ান গেমস আয়োজনের ২৪ বছর পর আবারও মহাদেশের শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদদের স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় কাতারের রাজধানী।

তারুণ্যের ঝলক, রেকর্ডের আসর

১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে অংশ নেয় এশিয়ার ৪৫টি জাতীয় অলিম্পিক কমিটি। প্রায় ১৭ হাজার অ্যাথলেট, কোচ ও কর্মকর্তা এবারের আসরে অংশ নেন। ৪৬৯টি স্বর্ণপদকের জন্য লড়াই হয়েছে জাপানের টোকিও থেকে ওসাকা পর্যন্ত বিস্তৃত বিভিন্ন ভেন্যুতে। অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে প্রায় ২ হাজার বেশি হওয়ায় আয়োজকদের আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছিল।

তবে সাংগঠনিক নানা সমস্যাকে ছাপিয়ে এবারের গেমস স্মরণীয় হয়ে থাকবে তরুণ অ্যাথলেটদের অসাধারণ পারফরম্যান্সে। চীনের ১৩ বছর বয়সী সাঁতারু ইউ জিদি তিনটি স্বর্ণ জিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন। তাঁর পাশাপাশি চীনের ঝাং ঝানশুও সাতটি স্বর্ণপদক জিতে আসরের অন্যতম সেরা তারকা হয়ে ওঠেন। থাইল্যান্ডের স্প্রিন্টার পুরিপোল বুনসনও ১০০ ও ২০০ মিটারে স্বর্ণ জিতে পুরুষ বিভাগের এমভিপি নির্বাচিত হন।

রেকর্ডের দিক থেকেও সমৃদ্ধ ছিল আইচি-নাগোয়া। অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) হিসাবে আসরে ৫৪টি বিশ্বরেকর্ড, ৮৯টি এশিয়ান রেকর্ড, ২১২টি গেমস রেকর্ড এবং ১১টি জুনিয়র বিশ্বরেকর্ড হয়েছে। বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণ ও অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে আয়োজকরা এটিকে এশিয়ান গেমসের ইতিহাসের অন্যতম সফল আসর হিসেবে অভিহিত করেছে।

আয়োজনে স্বস্তি-অস্বস্তি

তবে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি আয়োজকদের কিছু দুর্বলতাও আলোচনায় এসেছে। আইচি-নাগোয়া আসরে প্রচলিত অর্থে কোনো নির্দিষ্ট অ্যাথলেট ভিলেজ ছিল না। কিছু ক্রীড়াবিদকে হোটেল, অস্থায়ী কেবিন এমনকি ক্রুজ জাহাজেও রাখা হয়। বিপুলসংখ্যক অংশগ্রহণকারী শেষ মুহূর্তে যুক্ত হওয়ায় আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থায় তৈরি হয় চাপ। অ্যাথলেটদের একটি অংশ আবাসন, যাতায়াত ও চেক-ইন ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেন।

অবশ্য ওসিএর দাবি, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আসরটি সফল হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে হাংঝু ২০২২-এর তুলনায় বিপণন, স্পনসরশিপ ও টেলিভিশন স্বত্ব থেকে আয় প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে এবারের আসর এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ক্রীড়ার মাধ্যমে ঐক্যের বার্তাও দিয়েছে বলে মনে করে ওসিএ।

দোহায় দ্বিতীয়বার এশিয়ান গেমস

এবারের সমাপনীতে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল দোহাকে পতাকা হস্তান্তর। ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর ওমানের মাসকাটে ওসিএর সাধারণ সভায় ২০৩০ এশিয়ান গেমসের আয়োজক হিসেবে দোহাকে নির্বাচিত করা হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের রিয়াদ পেয়েছিল ২০৩৪ আসর আয়োজনের দায়িত্ব।

দোহায় এশিয়ান গেমস ফিরছে দীর্ঘ ২৪ বছর পর। ২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো আসর আয়োজন করেছিল কাতারের রাজধানী। এবার দ্বিতীয়বারের মতো সেই দায়িত্ব পেয়ে কাতার চাইছে আগের অভিজ্ঞতার সঙ্গে আধুনিক অবকাঠামো ও নতুন প্রযুক্তির সমন্বয়ে আরও বড় পরিসরে আসর আয়োজন করতে।

এশিয়াড ২০-এ জাপানের সমাপনী অনুষ্ঠান ছিল জমকালো ও আবেগঘন; পরবর্তী আয়োজক কে হবে?

দোহার সবচেয়ে বড় শক্তি তার প্রস্তুত অবকাঠামো। বিশ্বকাপ ফুটবলসহ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজন করেছে কাতার। ২০৩০ এশিয়ান গেমসেও বিদ্যমান ভেন্যুগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার, কমপ্যাক্ট আয়োজন এবং টেকসই অবকাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে আয়োজকরা।

২০৩০ নাকি ২০৩১?

তবে দোহা ২০৩০ নিয়ে একটি নতুন আলোচনাও সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ও ওসিএ এশিয়ান গেমসকে অলিম্পিকের আগে বাছাইপর্ব হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে। সে ক্ষেত্রে গেমস ২০৩১ সালে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। দোহা আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, সময়সূচি নিয়ে ওসিএ যে সিদ্ধান্ত নেবে, তারা তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত।

133 Amir Mansour Stock Photos and High-Res Images - Getty Images

অর্থাৎ আইচি-নাগোয়ার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে দোহার কাউন্টডাউন শুরু হলেও ২০৩০ সালেই আসরটি হবে কি না, সেটি এখনো আলোচনার বিষয়। তবে আয়োজনের প্রস্তুতি থেমে নেই। আইচি-নাগোয়া আসর চলাকালে দোহা ২০৩০ আয়োজক কমিটির প্রতিনিধিরা পর্যবেক্ষক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জাপানের আয়োজন কাছ থেকে দেখেছেন। আবাসন, পরিবহন, প্রতিযোগিতা পরিচালনা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা তারা নিজেদের আয়োজনে কাজে লাগাতে চান।

জাপানের মাটিতে তাই শুধু একটি এশিয়ান গেমসের সমাপ্তি হলো না; একই সঙ্গে শুরু হলো পরবর্তী আসরের অপেক্ষা। আইচি-নাগোয়ার মশাল নিভে গেছে, পতাকা গেছে দোহায়। এখন এশিয়ার ক্রীড়াঙ্গনের চোখ ধীরে ধীরে ঘুরবে কাতারের দিকে—দেখার অপেক্ষা, ২০৩০-এর দোহা কতটা বদলে দিতে পারে এশিয়ান গেমসের আয়োজনের চেহারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নাচে গানে বিদায় আইচি-নাগোয়া, ওয়েলকাম কাতার

আপডেট সময় : ১০:০৬:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

গত ষোলদিন ধরে আইচি-নাগোয়া ছিলো হাজার হাজার অ্যাথলেট, কর্মকর্তা, ও পর্যটকদের পদভারে মুখরিত। আজ সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নাগোয়া শহর আবারও ফিরছে সেই আগের মতোই সুনশান নিরবতায়৷  অতিথিরা ফিরে গেছেন নিজ নিজ দেশে। তাদের বিদায় জানানো হলো জাপানের আইচি-নাগোয়ার আলোঝলমলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। আলো নিভানোর মধ্য দিয়ে জাপানে  শেষ হলো এবারের আসর। অপেক্ষার মঞ্চে কাতার।

বিদায় মঞ্চ থেকেই এশিয়ার সবচেয়ে বড় বহুক্রীড়া আসরের পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে চলে গেল পরবর্তী আয়োজক কাতারের হাতে। ২০৩০ সালে দোহায় বসবে এশিয়ান গেমসের ২১তম আসর।

আতশবাজি, নাচ-গান আর বিদায়—১৫ ছবিতে এশিয়ান গেমসের সমাপনী | প্রথম আলো

মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে সমাপনী অনুষ্ঠানে কাতারের প্রতিনিধি এশিয়ান গেমসের পতাকা গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো দোহা ২০৩০-এর প্রস্তুতির নতুন অধ্যায়। ২০০৬ সালে প্রথমবার এশিয়ান গেমস আয়োজনের ২৪ বছর পর আবারও মহাদেশের শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদদের স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় কাতারের রাজধানী।

তারুণ্যের ঝলক, রেকর্ডের আসর

১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে অংশ নেয় এশিয়ার ৪৫টি জাতীয় অলিম্পিক কমিটি। প্রায় ১৭ হাজার অ্যাথলেট, কোচ ও কর্মকর্তা এবারের আসরে অংশ নেন। ৪৬৯টি স্বর্ণপদকের জন্য লড়াই হয়েছে জাপানের টোকিও থেকে ওসাকা পর্যন্ত বিস্তৃত বিভিন্ন ভেন্যুতে। অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে প্রায় ২ হাজার বেশি হওয়ায় আয়োজকদের আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছিল।

তবে সাংগঠনিক নানা সমস্যাকে ছাপিয়ে এবারের গেমস স্মরণীয় হয়ে থাকবে তরুণ অ্যাথলেটদের অসাধারণ পারফরম্যান্সে। চীনের ১৩ বছর বয়সী সাঁতারু ইউ জিদি তিনটি স্বর্ণ জিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন। তাঁর পাশাপাশি চীনের ঝাং ঝানশুও সাতটি স্বর্ণপদক জিতে আসরের অন্যতম সেরা তারকা হয়ে ওঠেন। থাইল্যান্ডের স্প্রিন্টার পুরিপোল বুনসনও ১০০ ও ২০০ মিটারে স্বর্ণ জিতে পুরুষ বিভাগের এমভিপি নির্বাচিত হন।

রেকর্ডের দিক থেকেও সমৃদ্ধ ছিল আইচি-নাগোয়া। অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) হিসাবে আসরে ৫৪টি বিশ্বরেকর্ড, ৮৯টি এশিয়ান রেকর্ড, ২১২টি গেমস রেকর্ড এবং ১১টি জুনিয়র বিশ্বরেকর্ড হয়েছে। বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণ ও অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে আয়োজকরা এটিকে এশিয়ান গেমসের ইতিহাসের অন্যতম সফল আসর হিসেবে অভিহিত করেছে।

আয়োজনে স্বস্তি-অস্বস্তি

তবে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি আয়োজকদের কিছু দুর্বলতাও আলোচনায় এসেছে। আইচি-নাগোয়া আসরে প্রচলিত অর্থে কোনো নির্দিষ্ট অ্যাথলেট ভিলেজ ছিল না। কিছু ক্রীড়াবিদকে হোটেল, অস্থায়ী কেবিন এমনকি ক্রুজ জাহাজেও রাখা হয়। বিপুলসংখ্যক অংশগ্রহণকারী শেষ মুহূর্তে যুক্ত হওয়ায় আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থায় তৈরি হয় চাপ। অ্যাথলেটদের একটি অংশ আবাসন, যাতায়াত ও চেক-ইন ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেন।

অবশ্য ওসিএর দাবি, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আসরটি সফল হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে হাংঝু ২০২২-এর তুলনায় বিপণন, স্পনসরশিপ ও টেলিভিশন স্বত্ব থেকে আয় প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে এবারের আসর এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ক্রীড়ার মাধ্যমে ঐক্যের বার্তাও দিয়েছে বলে মনে করে ওসিএ।

দোহায় দ্বিতীয়বার এশিয়ান গেমস

এবারের সমাপনীতে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল দোহাকে পতাকা হস্তান্তর। ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর ওমানের মাসকাটে ওসিএর সাধারণ সভায় ২০৩০ এশিয়ান গেমসের আয়োজক হিসেবে দোহাকে নির্বাচিত করা হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের রিয়াদ পেয়েছিল ২০৩৪ আসর আয়োজনের দায়িত্ব।

দোহায় এশিয়ান গেমস ফিরছে দীর্ঘ ২৪ বছর পর। ২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো আসর আয়োজন করেছিল কাতারের রাজধানী। এবার দ্বিতীয়বারের মতো সেই দায়িত্ব পেয়ে কাতার চাইছে আগের অভিজ্ঞতার সঙ্গে আধুনিক অবকাঠামো ও নতুন প্রযুক্তির সমন্বয়ে আরও বড় পরিসরে আসর আয়োজন করতে।

এশিয়াড ২০-এ জাপানের সমাপনী অনুষ্ঠান ছিল জমকালো ও আবেগঘন; পরবর্তী আয়োজক কে হবে?

দোহার সবচেয়ে বড় শক্তি তার প্রস্তুত অবকাঠামো। বিশ্বকাপ ফুটবলসহ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজন করেছে কাতার। ২০৩০ এশিয়ান গেমসেও বিদ্যমান ভেন্যুগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার, কমপ্যাক্ট আয়োজন এবং টেকসই অবকাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে আয়োজকরা।

২০৩০ নাকি ২০৩১?

তবে দোহা ২০৩০ নিয়ে একটি নতুন আলোচনাও সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ও ওসিএ এশিয়ান গেমসকে অলিম্পিকের আগে বাছাইপর্ব হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে। সে ক্ষেত্রে গেমস ২০৩১ সালে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। দোহা আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, সময়সূচি নিয়ে ওসিএ যে সিদ্ধান্ত নেবে, তারা তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত।

133 Amir Mansour Stock Photos and High-Res Images - Getty Images

অর্থাৎ আইচি-নাগোয়ার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে দোহার কাউন্টডাউন শুরু হলেও ২০৩০ সালেই আসরটি হবে কি না, সেটি এখনো আলোচনার বিষয়। তবে আয়োজনের প্রস্তুতি থেমে নেই। আইচি-নাগোয়া আসর চলাকালে দোহা ২০৩০ আয়োজক কমিটির প্রতিনিধিরা পর্যবেক্ষক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জাপানের আয়োজন কাছ থেকে দেখেছেন। আবাসন, পরিবহন, প্রতিযোগিতা পরিচালনা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা তারা নিজেদের আয়োজনে কাজে লাগাতে চান।

জাপানের মাটিতে তাই শুধু একটি এশিয়ান গেমসের সমাপ্তি হলো না; একই সঙ্গে শুরু হলো পরবর্তী আসরের অপেক্ষা। আইচি-নাগোয়ার মশাল নিভে গেছে, পতাকা গেছে দোহায়। এখন এশিয়ার ক্রীড়াঙ্গনের চোখ ধীরে ধীরে ঘুরবে কাতারের দিকে—দেখার অপেক্ষা, ২০৩০-এর দোহা কতটা বদলে দিতে পারে এশিয়ান গেমসের আয়োজনের চেহারা।