আইচি-নাগোয়া শহরে বাজছে বিষাদের সুর
- আপডেট সময় : ১০:২৮:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ৮৯ বার পড়া হয়েছে
জাপানের আইচি-নাগোয়া গেমসে এবার বাজতে শুরু করেছে বিষাদের সুর। যেখানে ১১ হাজার অ্যাথলেট ৪৩টি ভিন্ন খেলায় ৪৬৯টি ইভেন্টে ষোলদিন ব্যাপী পদক পদক যুদ্ধে মেতেছিলেন। যদিও এই যুদ্ধে ছিলো না কোন হিংসা,বিদ্ধেষ কিংবা ৮১ বছর আগে হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত লিটল বয় নামে নিক্ষিপ্ত কোন পরমানু বোমায় ধ্বংসাশেষ। এখানে ছিলো একই ছাতার নিচে থেকে পদক লড়াইয়ের পাশাপাশি পারস্পারিক সম্পর্ক গড়ে তোলা ও ভ্রাতৃত্বের সেতু বন্ধন। ছিলো অ্যাথলেটদের পাওয়া না পাওয়ার আনন্দ, উল্লাস এবং ব্যদনার কতো না স্মৃতি। যেখানে ৪৬ টি দেশের ক্রীড়াবিদদের একটি আবেগের সঞ্চার হয়েছে, আমরা সবাই ‘এক এশিয়া’।
পাওয়া না পাওয়ার হিসাবে এখানেই অনেকটাই মুখ্য। সম্পর্ক যেখানে অনেক বড় বার্তা হয়ে আসে। পরস্পরের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে এবং হিংসা,বিদ্ধেষ এবং শত্রুতা কমিয়ে আনতে স্পোর্টস গেমস অনেক বড় উপকরণ। পরিচিতি,পরিধির বিস্তার যেখানে বীজ বপন করে। এক দেশের সাথে আরেক দেশের কৃষ্টি কালচারের দারুণ বিনিময় ঘটে। যদিও আইচি-নাগোয়া গেমস আয়োজনের শুরু থেকেই নানা সমালোচনায় বিদ্ধ ছিলো। বিশেষ করে ক্রীড়াবিদদের আবাসন সর্বকালের সর্বোচ্চ বাজে আয়োজন নিয়ে কম কথা হয়নি। টাইফুন আতঙ্ক, টিম বাসের মিস কমিউনিকেশন, এক দেশের খেলায় অন্য দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো নিয়ে তীব্র সমালোচনার জন্মদিয়েছে এবারের গেমসে। এমন কি মাঠে দর্শকও টানতে পারেনি আয়োজকরা। তবুও এসব কিছু উতরায়ে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের পদক যুদ্ধ শেষ হয় শনিবার, ৩ অক্টোবর। রোববার ৪ অক্টোবর সমাপনী অনুষ্ঠান। পালোমা মিজুহো স্টেডিয়ামে বেজে উঠবে বিদায়ের বিউগলের সুর। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু এবং সাড়ে সাতটায় নেমে পড়বে অন্ধকার। অ্যাথলেটরা ছেড়ে যাবেন যার যার গন্তব্যে। গুডবাই সূর্যদয়ের দেশ আইচি-নাগোয়া, স্বাগতম কাতার। আগামী চার বছর পর অর্থাৎ ২০৩০ সালে দেখা হবে মরুভূমির দেশ কাতারে। সেখানে বসবে এশিয়ান গেমসের একুশতম আসর।
জাপানের এই ইন্ড্রাষ্ট্রিয়াল এলাকা ছাড়ার আগে অ্যাথলেটরা নিজ দেশে নিয়ে যাবেন পদক গলায় ঝুলিয়ে। এ তালিকায় বরাবরই চীনের ক্রীড়াবিদরা এগিয়ে। আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে পদক যুদ্ধের শুরু থেকে শেষঅব্ধি তারা জিতেই গেছে পদক। পদক জয়ে সবার উপরে চীনের ক্রীড়াযোদ্ধারা। ৩৪১টি পদক জিতেছে তারা। যার মধ্যে ১৬৯টিই স্বর্ণ, ৮৯ টি রৌপ্য এবং ৮৩টি ব্রোঞ্জ। স্বাগতিক জাপান ২৬৯টি পদক জিতে আছে দ্বিতীয় তালিকায়। তারা ৮৩টি স্বর্ণ, ৯৫টি রৌপ্য এবং ৯১টি ব্রোঞ্জ জিতেছে। ১৫০টি পদক জিতে তৃতীয় স্থানে দক্ষিণ কোরিয়া। তারা ৩৯টি স্বর্ণ, ৪৩টি রৌপ্য এবং ৬৮টি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে।
পদক যুদ্ধে দক্ষিণ এশিয়ার ভারত আছে চতুর্থস্থানে। তারা ২১টি স্বর্ণ, ২৭টি রৌপ্য ও ৩৭টি ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে মোট ৮৫টি পদক ঘরে তুলেছে। এরপর শ্রীলঙ্কা আছে তালিকার ২৮তম স্থানে। তারা ১ স্বর্ণ, ১ রৌপ্য ও ১ বোঞ্জ জিতে মোট তিনটি পদক নিয়ে ঘরে ফিরেছে। ২৯তম স্থানে আছে পাকিস্তান। তারা ১০টি পদক জিতলেও তারা স্বর্ণ পদক না জেতায় তালিকায় শ্রীলঙ্কার নীচে অবস্থান করেছে। তারা ২টি রৌপ্য ও ৮টি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে। পদক তালিকার ৩৬তম স্থানে আছে হিমালয়ের দেশ নেপাল। তারা দুটি ব্রোঞ্চ পদক জিতেছে। কপালগুনে উশুতে বিনা পরিশ্রমে পদক জিতে পদক তালিকার ৩৭তম স্থানে বাংলাদেশের অবস্থান।













