ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

হযরত শাহজালাল মাজার কেন্দ্রিক ইসলামিক সংস্কৃতি গড়ে উঠা উচিত : ডা.বাছিরুল ইসলাম টিপু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:১৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৬৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হযরত শাহজালাল মাজার যেন টাকার খনি। সপ্তাহ না যেতেই টাকায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে মাজারের সীলগালা ডেক্সিগুলো। ৩৪দিন পর শনিবার ১৫ আগস্ট মাজারের ডেক্সিগুলোতে জমা পড়েছে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২টাকা। এরপর তো রয়েছে আরো বিভিন্ন দেশের মূদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার ও রুপা। তিন দফায় গত ৫৬ দিনে জমা পড়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ ১৫৩ টাকা। পুরো টাকাই জমা থাকছে সরকারের তত্ববধানে।  যদিও এই টাকা ব্যবহারে কোন নীতিমালা এখনো তৈরি করা হয়নি। যদিও এক সময় খাদেমদের হাতেই জমা পড়তো এই টাকা। তারাই এর আয়-ব্যয় রাখতেন। কিন্তু সাধারণ মুসল্লিদের ধরা ছোঁয়ার বাহিরে ছিল। এমন কি এ নিয়ে সাধারণে কোন প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়নি।

মূলত ইসলাম মাজারে মানত করা সমর্থণ করে না। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো নামে মানত করাতে নিষেধ আছে। শরিয়তের দৃষ্টিতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে মানত করাটা হচ্ছে কবিরা গুনা বা শিরকের সমতুল অপরাধ। তবুও ভুল মানুষগুলোর মানতের টাকায় হযরত শাহ জালালের মাজারের দানবাক্সগুলো সপ্তাহ না যেতেই ভরে যায়। এই বিষয়টি সাধারণের মানুষের চোখ এড়িয়ে গেলেও সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের দৃষ্টি এড়ায়নি। তিনি মাজারের আর্থিক আয়-ব্যয়ে শৃঙ্খলা আনতে গত  ১৮জুন  মাজারের ডেক্সিগুলোতে সীলগালা করেন।

তার এই পদক্ষেপের কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে তোড়জোড় ও টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। এবং এর খেসারত স্বরুপ মাত্র কয়েকঘন্টার ব্যবধানে সারওয়ার আলমকে বদলী হতে হয়। যদিও সাধারণ মুসল্লিরা এই বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। এমন একটি কান্ডে সাধারণের সন্দেহের তীর পড়ে বিএনপি সরকারের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের ওপর। এ নিয়ে হযরত শাহজালালের মাজার এলাকায় বেশ ক’দিন উত্তাপ হাওয়া বয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সংসদের সঠিক হস্তক্ষেপে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে সারওয়ার আলম সিলেট থেকে বিদায় নেওয়ার আগে সীলগালা দানবাক্সগুলো খুলতেই উপস্থিত সবার চোখ যেন কপালে উঠে যাওয়ার দশা। মাত্র ৪দিনে দানবাক্সগুলোতে মানতের টাকা জমা পড়েছিল ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯টাকা। এ যেন টাকার ঢেউ উপচে পড়ছে হযরত শাহজালালের মাজারে সীলগালা ডেক্সিগুলোতে। মুসল্লিদের মনে স্বস্তি, সারওয়ার আলম বদলী হলেও মাজারে জমা পড়া অর্থ আপাতত জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণেই থাকছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী তথ্য মতে,  শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ এবং নতুন করে স্থাপন করা দানবাক্সগুলোর সিলগালা খোলার পর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অন্তত ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে প্রকাশ্য গণনা শুরু হয়ে সন্ধ্যা লেগে যায়।

সিসিক প্রশাসক জানান, নগদ টাকা ছাড়াও দানবাক্সে ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ এবং ১ ভরি ২ আনা রুপা পাওয়া গেছে। এছাড়া বিদেশি মুদ্রার মধ্যে ৩১.১১ পাউন্ড, ৩২৪৮ ভারতীয় রুপি, ৬০ পাকিস্তানি রুপি, সৌদির ৭০ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ৮৩ রিঙ্গিত, ৪ মার্কিন ডলার, নেপালের ১০০ রুপি, ওমানের ১০০০ বায়সা, আরব আমিরাতের ৬৪ দিরাম, ইরাকের ২৫০ দিনার, তুর্কির ৯০ লিরা, ভিয়েতনামের ১০০০ ডং, জাপানের ১০০০ ইয়েন, কাতারের ১১২ রিয়াল, লেবাননের ১০ পাউন্ড, মিসরের ১০ পাউন্ড, ৪০ ইউরো, বাহরাইনের ১ পয়সা, কানাডিয়ান ১ ডলার। নজরানা হিসেবে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি পাওয়া গেছে।

প্রশ্ন দাড়িয়েছে আয়কৃত এই অর্থ কোন পথে বা কি ভাবে ব্যয় করা হবে? স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে আর যাই হোক একটি পরিচ্ছন্ন কমিটি গঠন করে এই টাকার যথাযথ ব্যবহার হোক। স্থানীয় বাসিন্দা ডা.বাছিরুল ইসলাম টিপু দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছর যাবত সিলেটে চিকিৎসা সেবা  দিয়ে আসছেন। অনলাইন পোট্টাল ডেইলি ঢাকা মেট্রো ডটকমের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল মাজার কেন্দ্রিক ইসলামিক সংস্কৃতি গড়ে উঠা এখন সময়ের দাবি রাখে। এখানে আধুনিক লাইব্রেরী,ইসলামী গবেষনাগার থাকাটা জরুরি। সাধারণ মানুষ মাজারে আসছে, কিন্তু এ সম্পর্কে কিছু জানতে পারছে না, তা হয় না। মানুষ এখানে আসবে হয়রত শাহজালাল সম্পর্কে জানবে, তার ইসলাম প্রচার সম্পর্কে জানবে,তিনি কি কি করেছেন,তার অবদান, প্রতিদান গুলো নিয়ে গবেষণা হতে পারে। কিন্তু খাদেমদের নিয়ন্ত্রনে থাকায় এতোদিন সে দিকে দৃষ্টি দেয়া হয়নি বা সে দৃষ্টি ভঙ্গি জন্মায়নি। তবে এখন সময় এবং সুযোগ এসেছে বিষয়গুলো নিয়ে ভাববার।

ডাক্তার মো.বাছিরুল ইসলাম টিপু আরো বলেন, দানবাক্স ছাড়াও হযরত শাহজালালের মাজারে প্রতিবছর সমাজকল্যান মন্ত্রনালয় থেকে এবং  বিদেশ থেকেও অনুদান আসে। সব মিলে যে পরিমান টাকা হযরত শাহজালাল মাজারে জমা পড়ে তার সঠিক ব্যবহার হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আমার জানা মতে, মাজারের অভ্যন্তরে একটি বড় এতিম খানা,হেফজো খানা এবং একটি কওমী মাদ্রাসা রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় পনেরশত লোকের তিন বেলা খাবারের আয়োজন করতে হয়। এর পিছনে বড়  অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে। কিন্তু সেটা মান সম্মত হচ্ছে কিনা, কিংবা শিক্ষার্থীদের পড়া লেখার মান ও আবাসনের সুব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে দেখবাল করা জরুরি। সদ্যবিদায়ী জেলা প্রশাসক দেখিয়ে দিয়ে গেলেন কেমন অর্থ আয় হচ্ছে। সেখানে তো অত্যন্ত মানসম্মত ব্যবস্থাপনা থাকাটা কঠিন কিছু না। দরকার সঠিক পরিচালনা। তিনি আরো বলেন, হযরত শাহজালাল মাজারে যে পরিমান আয় হয় তার সঠিক ব্যবহার হলে খরচ হয়ে টাকা  আরো বেঁচে যাবে, যা দিয়ে অন্যান্য এতিমখানাতেও সহায়তা করা যেতে পারে। সর্বশেষ আমি মনে করি, হযরত শাহজালাল মাজার পরিচালনায় নির্ভেজাল একটি গ্রহনযোগ্য কমিটি গঠন করা জরুরি। যে কমিটিতে স্থান পেতে পারে, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব, খাদেম,প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন ও সমাজ কল্যানের প্রতিনিধি। যাদের অভিবাবক থাকবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।

এদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী স্বচ্ছতা আনতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে। খুব শিগগিরই একটি নতুন নীতিমালা নির্ধারণ করে দেয়া হবে এবং পরবর্তীতে সেই নীতিমালার আলোকেই মাজারের আয়-ব্যয় ও টাকা গণনা পরিচালিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

হযরত শাহজালাল মাজার কেন্দ্রিক ইসলামিক সংস্কৃতি গড়ে উঠা উচিত : ডা.বাছিরুল ইসলাম টিপু

আপডেট সময় : ০২:১৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

হযরত শাহজালাল মাজার যেন টাকার খনি। সপ্তাহ না যেতেই টাকায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে মাজারের সীলগালা ডেক্সিগুলো। ৩৪দিন পর শনিবার ১৫ আগস্ট মাজারের ডেক্সিগুলোতে জমা পড়েছে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২টাকা। এরপর তো রয়েছে আরো বিভিন্ন দেশের মূদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার ও রুপা। তিন দফায় গত ৫৬ দিনে জমা পড়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ ১৫৩ টাকা। পুরো টাকাই জমা থাকছে সরকারের তত্ববধানে।  যদিও এই টাকা ব্যবহারে কোন নীতিমালা এখনো তৈরি করা হয়নি। যদিও এক সময় খাদেমদের হাতেই জমা পড়তো এই টাকা। তারাই এর আয়-ব্যয় রাখতেন। কিন্তু সাধারণ মুসল্লিদের ধরা ছোঁয়ার বাহিরে ছিল। এমন কি এ নিয়ে সাধারণে কোন প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়নি।

মূলত ইসলাম মাজারে মানত করা সমর্থণ করে না। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো নামে মানত করাতে নিষেধ আছে। শরিয়তের দৃষ্টিতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে মানত করাটা হচ্ছে কবিরা গুনা বা শিরকের সমতুল অপরাধ। তবুও ভুল মানুষগুলোর মানতের টাকায় হযরত শাহ জালালের মাজারের দানবাক্সগুলো সপ্তাহ না যেতেই ভরে যায়। এই বিষয়টি সাধারণের মানুষের চোখ এড়িয়ে গেলেও সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের দৃষ্টি এড়ায়নি। তিনি মাজারের আর্থিক আয়-ব্যয়ে শৃঙ্খলা আনতে গত  ১৮জুন  মাজারের ডেক্সিগুলোতে সীলগালা করেন।

তার এই পদক্ষেপের কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে তোড়জোড় ও টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। এবং এর খেসারত স্বরুপ মাত্র কয়েকঘন্টার ব্যবধানে সারওয়ার আলমকে বদলী হতে হয়। যদিও সাধারণ মুসল্লিরা এই বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। এমন একটি কান্ডে সাধারণের সন্দেহের তীর পড়ে বিএনপি সরকারের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের ওপর। এ নিয়ে হযরত শাহজালালের মাজার এলাকায় বেশ ক’দিন উত্তাপ হাওয়া বয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সংসদের সঠিক হস্তক্ষেপে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে সারওয়ার আলম সিলেট থেকে বিদায় নেওয়ার আগে সীলগালা দানবাক্সগুলো খুলতেই উপস্থিত সবার চোখ যেন কপালে উঠে যাওয়ার দশা। মাত্র ৪দিনে দানবাক্সগুলোতে মানতের টাকা জমা পড়েছিল ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯টাকা। এ যেন টাকার ঢেউ উপচে পড়ছে হযরত শাহজালালের মাজারে সীলগালা ডেক্সিগুলোতে। মুসল্লিদের মনে স্বস্তি, সারওয়ার আলম বদলী হলেও মাজারে জমা পড়া অর্থ আপাতত জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণেই থাকছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী তথ্য মতে,  শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ এবং নতুন করে স্থাপন করা দানবাক্সগুলোর সিলগালা খোলার পর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অন্তত ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে প্রকাশ্য গণনা শুরু হয়ে সন্ধ্যা লেগে যায়।

সিসিক প্রশাসক জানান, নগদ টাকা ছাড়াও দানবাক্সে ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ এবং ১ ভরি ২ আনা রুপা পাওয়া গেছে। এছাড়া বিদেশি মুদ্রার মধ্যে ৩১.১১ পাউন্ড, ৩২৪৮ ভারতীয় রুপি, ৬০ পাকিস্তানি রুপি, সৌদির ৭০ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ৮৩ রিঙ্গিত, ৪ মার্কিন ডলার, নেপালের ১০০ রুপি, ওমানের ১০০০ বায়সা, আরব আমিরাতের ৬৪ দিরাম, ইরাকের ২৫০ দিনার, তুর্কির ৯০ লিরা, ভিয়েতনামের ১০০০ ডং, জাপানের ১০০০ ইয়েন, কাতারের ১১২ রিয়াল, লেবাননের ১০ পাউন্ড, মিসরের ১০ পাউন্ড, ৪০ ইউরো, বাহরাইনের ১ পয়সা, কানাডিয়ান ১ ডলার। নজরানা হিসেবে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি পাওয়া গেছে।

প্রশ্ন দাড়িয়েছে আয়কৃত এই অর্থ কোন পথে বা কি ভাবে ব্যয় করা হবে? স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে আর যাই হোক একটি পরিচ্ছন্ন কমিটি গঠন করে এই টাকার যথাযথ ব্যবহার হোক। স্থানীয় বাসিন্দা ডা.বাছিরুল ইসলাম টিপু দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছর যাবত সিলেটে চিকিৎসা সেবা  দিয়ে আসছেন। অনলাইন পোট্টাল ডেইলি ঢাকা মেট্রো ডটকমের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল মাজার কেন্দ্রিক ইসলামিক সংস্কৃতি গড়ে উঠা এখন সময়ের দাবি রাখে। এখানে আধুনিক লাইব্রেরী,ইসলামী গবেষনাগার থাকাটা জরুরি। সাধারণ মানুষ মাজারে আসছে, কিন্তু এ সম্পর্কে কিছু জানতে পারছে না, তা হয় না। মানুষ এখানে আসবে হয়রত শাহজালাল সম্পর্কে জানবে, তার ইসলাম প্রচার সম্পর্কে জানবে,তিনি কি কি করেছেন,তার অবদান, প্রতিদান গুলো নিয়ে গবেষণা হতে পারে। কিন্তু খাদেমদের নিয়ন্ত্রনে থাকায় এতোদিন সে দিকে দৃষ্টি দেয়া হয়নি বা সে দৃষ্টি ভঙ্গি জন্মায়নি। তবে এখন সময় এবং সুযোগ এসেছে বিষয়গুলো নিয়ে ভাববার।

ডাক্তার মো.বাছিরুল ইসলাম টিপু আরো বলেন, দানবাক্স ছাড়াও হযরত শাহজালালের মাজারে প্রতিবছর সমাজকল্যান মন্ত্রনালয় থেকে এবং  বিদেশ থেকেও অনুদান আসে। সব মিলে যে পরিমান টাকা হযরত শাহজালাল মাজারে জমা পড়ে তার সঠিক ব্যবহার হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আমার জানা মতে, মাজারের অভ্যন্তরে একটি বড় এতিম খানা,হেফজো খানা এবং একটি কওমী মাদ্রাসা রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় পনেরশত লোকের তিন বেলা খাবারের আয়োজন করতে হয়। এর পিছনে বড়  অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে। কিন্তু সেটা মান সম্মত হচ্ছে কিনা, কিংবা শিক্ষার্থীদের পড়া লেখার মান ও আবাসনের সুব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে দেখবাল করা জরুরি। সদ্যবিদায়ী জেলা প্রশাসক দেখিয়ে দিয়ে গেলেন কেমন অর্থ আয় হচ্ছে। সেখানে তো অত্যন্ত মানসম্মত ব্যবস্থাপনা থাকাটা কঠিন কিছু না। দরকার সঠিক পরিচালনা। তিনি আরো বলেন, হযরত শাহজালাল মাজারে যে পরিমান আয় হয় তার সঠিক ব্যবহার হলে খরচ হয়ে টাকা  আরো বেঁচে যাবে, যা দিয়ে অন্যান্য এতিমখানাতেও সহায়তা করা যেতে পারে। সর্বশেষ আমি মনে করি, হযরত শাহজালাল মাজার পরিচালনায় নির্ভেজাল একটি গ্রহনযোগ্য কমিটি গঠন করা জরুরি। যে কমিটিতে স্থান পেতে পারে, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব, খাদেম,প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন ও সমাজ কল্যানের প্রতিনিধি। যাদের অভিবাবক থাকবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।

এদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী স্বচ্ছতা আনতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে। খুব শিগগিরই একটি নতুন নীতিমালা নির্ধারণ করে দেয়া হবে এবং পরবর্তীতে সেই নীতিমালার আলোকেই মাজারের আয়-ব্যয় ও টাকা গণনা পরিচালিত হবে।