তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে, কারা থাকবেন এখনো হয়নি সেই রুপ রেখা
- আপডেট সময় : ০৮:১১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪৪ বার পড়া হয়েছে
তত্ত্বাবধায়ক সরকার কী প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে গঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বিষয়টি সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির তৃতীয় বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে সংবিধানের বিভিন্ন বিষয়, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত এসেছে। তবে সরকারব্যবস্থা কীভাবে গঠিত হবে এবং কারা এতে থাকবেন—এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের মতামত বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এরপর আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি।
তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় গণভোটের বিষয়
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার সাংবিধানিক বিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে বলেও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ কমিটির সভাপতি জানিয়েছেন, সংবিধানের প্রস্তাবনাসহ কিছু মৌলিক বিষয়ে পরিবর্তন আনা হলে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে।
এর আগে ৯ জুলাই আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছিলেন, পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে। তবে নির্বাচনকালীন সরকার কোন প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে গঠিত হবে, তা আদালতের রায় ও পরবর্তী প্রক্রিয়া দেখে স্পষ্ট হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
বিরোধীদের প্রস্তাব চায় সরকার
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বিরোধী দলের অংশগ্রহণের জন্য সরকার আবারও আহ্বান জানিয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দল বিশেষ কমিটির আলোচনায় অংশ নিলে তাদের প্রস্তাব ও মতামতও বিবেচনা করা হবে। আলোচনার বাইরে থাকা ব্যক্তি বা সংগঠনের লিখিত প্রস্তাবও কমিটির কাছে পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
কমিটির কাজের প্রধান ভিত্তি জুলাই জাতীয় সনদ। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ তৈরির সময় বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা তাই এখন মূলত দুটি প্রশ্নকে ঘিরে—কী প্রক্রিয়ায় নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে এবং সেই সরকারের কাঠামোয় কারা থাকবেন। বিশেষ কমিটির সুপারিশ ও পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারিত হওয়ার কথা।





















