ঢাকা ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

হামের আক্রান্তে বিপর্যস্ত দেশ, চাপের মুখে সরকার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:০০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৪৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রতিনিয়ত একই মিছিল, হামে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। একদিকে হাম, আরেক দিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। এই দুই সংক্রামনে আপাতত দেশের জনগনের ত্রাহিদশা। স্বস্তিতে নেই সরকারও। কোন কিছুতেই যেন কমছে না। জনসচেতনতার অভাবেই মূলত ডেঙ্গর প্রাদুর্ভাব হয়ে থাকে। কিন্তু হামের দায়টা কার? পূর্বের সরকার সঠিক সময় হামের টিকা আমদানি তথা জনগনের উপর প্রদান না করায় তার খেসারত দিতে হচ্ছে এই সময়টায়। তাই হামের সঙ্গে লড়ছে মানুষ,মরছে মানুষ। শোন যায় শধু অতো অতো হামের টিকা এসেছে, প্রয়োগ হচ্ছে অতো তারিখ থেকে। কিন্তু থামছে কই?

তবে এটাও ঠিক মাত্র তো শুরু হলো টিকা দান কর্মসূচি। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে, চলবে ৩১‘ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা প্রদানের আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু তার আগেই যে মরে সব ছাপ হয়ে যাচ্ছে!

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ছয় মাসেই অর্থাৎ ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৪ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামেই মারা গেছেন ১০১ জন, আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৩ জন।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) নিয়মিত হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৩৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৮৪ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে এবং ১ হাজার ২৫৫ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের তিনজন, চট্টগ্রাম বিভাগের একজন এবং সিলেট বিভাগের একজন। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আরও কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি—এমন তথ্যও সরকারি হিসাবভিত্তিক প্রতিবেদনে এসেছে।

আক্রান্ত দুই লাখ ছাড়িয়েছে

১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯০২ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় ২১ হাজার ৩৯২ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। বাকি ১ লাখ ৯০ হাজার ৫১০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে, হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহেও প্রতিদিন এক হাজারের বেশি নতুন রোগী হাসপাতালে আসছেন।

টিকাদানে বিশেষ কর্মসূচি

হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্প্রতি দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী এমন শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে, যারা আগে টিকা পায়নি বা কোনো কারণে টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে গেছে। এ কর্মসূচিতে প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় টিকাদানের মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং টিকাদানের বাইরে থাকা শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি। চলতি বছরের প্রাদুর্ভাবে নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি ও আগের কয়েক বছরের টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্নের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

এদিকে একই সময়ে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপও বাড়ছে। ফলে হাম ও ডেঙ্গু—দুই রোগের চাপ সামলাতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

হামের আক্রান্তে বিপর্যস্ত দেশ, চাপের মুখে সরকার

আপডেট সময় : ০৮:০০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রতিনিয়ত একই মিছিল, হামে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। একদিকে হাম, আরেক দিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। এই দুই সংক্রামনে আপাতত দেশের জনগনের ত্রাহিদশা। স্বস্তিতে নেই সরকারও। কোন কিছুতেই যেন কমছে না। জনসচেতনতার অভাবেই মূলত ডেঙ্গর প্রাদুর্ভাব হয়ে থাকে। কিন্তু হামের দায়টা কার? পূর্বের সরকার সঠিক সময় হামের টিকা আমদানি তথা জনগনের উপর প্রদান না করায় তার খেসারত দিতে হচ্ছে এই সময়টায়। তাই হামের সঙ্গে লড়ছে মানুষ,মরছে মানুষ। শোন যায় শধু অতো অতো হামের টিকা এসেছে, প্রয়োগ হচ্ছে অতো তারিখ থেকে। কিন্তু থামছে কই?

তবে এটাও ঠিক মাত্র তো শুরু হলো টিকা দান কর্মসূচি। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে, চলবে ৩১‘ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা প্রদানের আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু তার আগেই যে মরে সব ছাপ হয়ে যাচ্ছে!

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ছয় মাসেই অর্থাৎ ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৪ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামেই মারা গেছেন ১০১ জন, আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৩ জন।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) নিয়মিত হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৩৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৮৪ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে এবং ১ হাজার ২৫৫ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের তিনজন, চট্টগ্রাম বিভাগের একজন এবং সিলেট বিভাগের একজন। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আরও কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি—এমন তথ্যও সরকারি হিসাবভিত্তিক প্রতিবেদনে এসেছে।

আক্রান্ত দুই লাখ ছাড়িয়েছে

১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯০২ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় ২১ হাজার ৩৯২ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। বাকি ১ লাখ ৯০ হাজার ৫১০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে, হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহেও প্রতিদিন এক হাজারের বেশি নতুন রোগী হাসপাতালে আসছেন।

টিকাদানে বিশেষ কর্মসূচি

হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্প্রতি দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী এমন শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে, যারা আগে টিকা পায়নি বা কোনো কারণে টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে গেছে। এ কর্মসূচিতে প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় টিকাদানের মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং টিকাদানের বাইরে থাকা শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি। চলতি বছরের প্রাদুর্ভাবে নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি ও আগের কয়েক বছরের টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্নের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

এদিকে একই সময়ে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপও বাড়ছে। ফলে হাম ও ডেঙ্গু—দুই রোগের চাপ সামলাতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।