ঢাকা ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

র‍্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান ঘুচিয়ে সঠিক পথেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ: হামজা চৌধুরী

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৭৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
বাংলাদেশ খেলছে ফিফা আশিয়ান কাপ ২০২৬ টুর্নামেন্টে৷ দলের মধ্যমনি মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী (Sheffield United-এর ফুটবলার) সম্প্রতি ফিফাকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছন৷   ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে  সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের পর ফিফার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে তার একটি ইন্টারভিউটি প্রকাশিত হয়েছে। সাক্ষাৎকারে হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের ফুটবল ও তাদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন, যা অনলাইন পোট্রাল ডেইলি ঢাকা মেট্রোডট কমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো…
দলের উন্নতি ইতিবাচক :

সময়ের চেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোর মুখোমুখিই আমাদের বেশি পড়তে হয়েছে। তবে আমরা হাল ছাড়িনি, সবাই মিলে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার শক্ত একটা ভিত্তি তৈরি করছি।”

হামজা স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের উন্নতি কেবল জয়-পরাজয়ের হিসেবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে মাঠে সমান তালে লড়াই করার ক্ষমতার মাঝেই লুকিয়ে আছে আসল অগ্রগতি।

সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হারলেও দলের উন্নতি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন হামজা। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় আমরা এখন ধাঁধার (পাজল) শেষ দুই বা তিনটি টুকরো খুঁজছি। আশা করি আমরা সেগুলো দ্রুত মিলিয়ে নিতে পারব।”
অভিজ্ঞতার অভাব ও চাপ:
বর্তমানে বাংলাদেশ দল একটি রূপান্তর ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। হামজার বিশ্বাস, আসিয়ান কাপের মতো বড় মঞ্চে বাংলাদেশ এখনো তুলনামূলক অনভিজ্ঞ একটি দল। এই বিষয়টি কিছুটা মানসিক চাপ তৈরি করলেও, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার মতো এশিয়ার শক্তিধর ও অভিজ্ঞ দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য ঝালাই করে নেওয়ার এবং দারুণ সব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে।
দলের ভবিষ্যৎ গঠন:

অবশ্য এখনই বাংলাদেশ দল চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছে গেছে বলে মনে করেন না হামজা। তার বিশ্বাস, কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় পৌঁছাতে হলে বাংলাদেশের কয়েকটি জায়গায় আরও একটু উন্নতি ও গুছিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমার কাছে মনে হয়, আমাদের পুরো খেলার ধাঁধার শেষ দুই বা তিনটি পাজল মেলানোই এখন বাকি আছে। আশা করছি, আমরা খুব দ্রুতই সেই ছোট খাটো ঘাটতিগুলোও কাটিয়ে উঠতে পারব।”

বাংলাদেশ দলের সাথে তার দেড় বছরের যাত্রা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, এই পথচলায় উত্থান-পতন ছিল এবং সফলতার চেয়ে কঠিন মুহূর্তই বেশি এসেছে। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে দলটি এখন একটি ভালো কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
র‌্যাংকিংয়ের ব্যবধান :
মালয়েশিয়া ম্যাচের স্মৃতি রোমন্থন করে হামজা আরো বলেন, “আমার মনে হয়, আগের ম্যাচের চেয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আমরা আরও গোছানো ও ভালো ফুটবল খেলেছি। তারা তো অত্যন্ত শক্তিশালী একটি দল। তাদের বিপক্ষে ম্যাচে আমাদের শুরুটা একটু মন্থর ছিল, যা পরবর্তীতে কামব্যাক করাটা বেশ কঠিন করে তুলছিল।”

 ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে অন্তত ৪৫ ধাপ এগিয়ে রয়েছে মালয়েশিয়া। কিন্তু মাঠে নামার পর সেই র‍্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান খুব একটা টের পাওয়া যায় না বলেই মনে করেন এই ইংলিশ ফুটবলার। তিনি যোগ করেন, “এই লেভেলে এসে লড়াই করতে পারাটাই আমাদের জন্য বড় একটা প্রাপ্তি। ওরা র‍্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু ম্যাচের কিছু নির্দিষ্ট মুহূর্তের দিকে তাকালে মাঠে সেই পার্থক্যের ছিটেফোঁটাও বোঝা যায় না। এর মানে পরিষ্কার, আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি।”

বাংলাদেশের পরবর্তী লক্ষ্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
সামনে আরও বড় লক্ষ্য এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের জন্য। বিশেষ করে আগামী নভেম্বর মাসে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মর্যাদাপূর্ণ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। হামজা ও পুরো দলের জন্য নিজেদের সামর্থ্য ও ভিত্তিটাকে আরও পোক্ত করার দারুণ একটি সুযোগ এই টুর্নামেন্ট। সাফ নিয়ে বেশ আশাবাদী হামজা বলেন, “নভেম্বরে আমাদের ঘরের মাঠে একটি বড় টুর্নামেন্ট রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা সেই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখেই নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং আশা করি সেখানে আমরা দেশের মানুষের জন্য ভালো কিছু অর্জন করতে পারব।
প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ নিয়ে ভাবনা :
 আগামী বৃহস্পতিবার আসিয়ান কাপের পরবর্তী ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বিশাল দর্শকপূর্ণ গ্যালারি এবং প্রতিপক্ষের হোম কন্ডিশন—সব মিলিয়ে ম্যাচটি যে বেশ উত্তেজনাকর হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আসন্ন এই কঠিন ম্যাচটি নিয়ে মুখিয়ে থাকা হামজা বলেন, “আমি এই ম্যাচটার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আমি খুব ভালো করেই জানি যে গ্যালারিতে প্রচুর স্বাগতিক সমর্থক থাকবে, যা পুরো স্টেডিয়ামে এক ভিন্ন ধরনের আবহ তৈরি করবে। দল হিসেবে আমাদের জন্য এটি হবে আরও একটি অত্যন্ত মূল্যবান অভিজ্ঞতা।”

নিজেদের কঠিন পরীক্ষার কথা জানিয়ে হামজা পরিশেষে বলেন, “ইন্দোনেশিয়া খুবই শক্তিশালী দল, ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় লিগগুলোতে তাদের অনেক ভালো মানের খেলোয়াড় খেলছে। তাই আমাদের জন্য এটি আরেকটি কঠিন পরীক্ষা হতে চলেছে। তবে আমরা তো মূলত এই কারণেই এখানে এসেছি—নিজেদের চেয়ে শক্তিশালী ও এগিয়ে থাকা দলগুলোর সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের আরও পরিণত করতে৷”

একটু গরম হলেও ইন্দোনেশিয়ায় মুগ্ধ:

মাঠের তীব্র লড়াইয়ের বাইরে বাংলাদেশ দলের হয়ে এই ফুটবলীয় যাত্রা হামজার জন্য নতুন ও সুন্দর কিছু স্মৃতির দুয়ারও খুলে দিয়েছে। যেমন এই প্রথমবার ইন্দোনেশিয়ায় আসা। এর আগে বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছে ইন্দোনেশিয়ার সৌন্দর্যের কথা অনেক শুনেছেন, আর এবার নিজের চোখেই তা দেখার সুযোগ মিলল।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে হামজা বলেন, “ইন্দোনেশিয়া আমার সত্যিই খুব ভালো লেগেছে! এই প্রথমবার এখানে আসা হলো। আমার বহু বন্ধু ও পরিবারের লোকজন আগে এখানে এসে এখানকার দারুণ প্রশংসা করেছিল। তাই নিজে এসে সেটি চাক্ষুষ করতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে। এখানকার মানুষগুলো অত্যন্ত মিশুক ও বন্ধুত্বপূর্ণ। আবহাওয়াটা আমার জন্য একটু গরম মনে হলেও সব Allie মিলিয়ে আমি পুরো বিষয়টি দারুণ উপভোগ করছি। আশা করি ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আবার এসে ইন্দোনেশিয়ার বাকি সুন্দর জায়গাগুলো ঘুরে দেখব।”

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

র‍্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান ঘুচিয়ে সঠিক পথেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ: হামজা চৌধুরী

আপডেট সময় : ০৭:৪৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশ খেলছে ফিফা আশিয়ান কাপ ২০২৬ টুর্নামেন্টে৷ দলের মধ্যমনি মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী (Sheffield United-এর ফুটবলার) সম্প্রতি ফিফাকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছন৷   ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে  সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের পর ফিফার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে তার একটি ইন্টারভিউটি প্রকাশিত হয়েছে। সাক্ষাৎকারে হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের ফুটবল ও তাদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন, যা অনলাইন পোট্রাল ডেইলি ঢাকা মেট্রোডট কমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো…
দলের উন্নতি ইতিবাচক :

সময়ের চেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোর মুখোমুখিই আমাদের বেশি পড়তে হয়েছে। তবে আমরা হাল ছাড়িনি, সবাই মিলে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার শক্ত একটা ভিত্তি তৈরি করছি।”

হামজা স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের উন্নতি কেবল জয়-পরাজয়ের হিসেবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে মাঠে সমান তালে লড়াই করার ক্ষমতার মাঝেই লুকিয়ে আছে আসল অগ্রগতি।

সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হারলেও দলের উন্নতি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন হামজা। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় আমরা এখন ধাঁধার (পাজল) শেষ দুই বা তিনটি টুকরো খুঁজছি। আশা করি আমরা সেগুলো দ্রুত মিলিয়ে নিতে পারব।”
অভিজ্ঞতার অভাব ও চাপ:
বর্তমানে বাংলাদেশ দল একটি রূপান্তর ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। হামজার বিশ্বাস, আসিয়ান কাপের মতো বড় মঞ্চে বাংলাদেশ এখনো তুলনামূলক অনভিজ্ঞ একটি দল। এই বিষয়টি কিছুটা মানসিক চাপ তৈরি করলেও, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার মতো এশিয়ার শক্তিধর ও অভিজ্ঞ দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য ঝালাই করে নেওয়ার এবং দারুণ সব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে।
দলের ভবিষ্যৎ গঠন:

অবশ্য এখনই বাংলাদেশ দল চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছে গেছে বলে মনে করেন না হামজা। তার বিশ্বাস, কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় পৌঁছাতে হলে বাংলাদেশের কয়েকটি জায়গায় আরও একটু উন্নতি ও গুছিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমার কাছে মনে হয়, আমাদের পুরো খেলার ধাঁধার শেষ দুই বা তিনটি পাজল মেলানোই এখন বাকি আছে। আশা করছি, আমরা খুব দ্রুতই সেই ছোট খাটো ঘাটতিগুলোও কাটিয়ে উঠতে পারব।”

বাংলাদেশ দলের সাথে তার দেড় বছরের যাত্রা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, এই পথচলায় উত্থান-পতন ছিল এবং সফলতার চেয়ে কঠিন মুহূর্তই বেশি এসেছে। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে দলটি এখন একটি ভালো কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
র‌্যাংকিংয়ের ব্যবধান :
মালয়েশিয়া ম্যাচের স্মৃতি রোমন্থন করে হামজা আরো বলেন, “আমার মনে হয়, আগের ম্যাচের চেয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আমরা আরও গোছানো ও ভালো ফুটবল খেলেছি। তারা তো অত্যন্ত শক্তিশালী একটি দল। তাদের বিপক্ষে ম্যাচে আমাদের শুরুটা একটু মন্থর ছিল, যা পরবর্তীতে কামব্যাক করাটা বেশ কঠিন করে তুলছিল।”

 ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে অন্তত ৪৫ ধাপ এগিয়ে রয়েছে মালয়েশিয়া। কিন্তু মাঠে নামার পর সেই র‍্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান খুব একটা টের পাওয়া যায় না বলেই মনে করেন এই ইংলিশ ফুটবলার। তিনি যোগ করেন, “এই লেভেলে এসে লড়াই করতে পারাটাই আমাদের জন্য বড় একটা প্রাপ্তি। ওরা র‍্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু ম্যাচের কিছু নির্দিষ্ট মুহূর্তের দিকে তাকালে মাঠে সেই পার্থক্যের ছিটেফোঁটাও বোঝা যায় না। এর মানে পরিষ্কার, আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি।”

বাংলাদেশের পরবর্তী লক্ষ্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
সামনে আরও বড় লক্ষ্য এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের জন্য। বিশেষ করে আগামী নভেম্বর মাসে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মর্যাদাপূর্ণ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। হামজা ও পুরো দলের জন্য নিজেদের সামর্থ্য ও ভিত্তিটাকে আরও পোক্ত করার দারুণ একটি সুযোগ এই টুর্নামেন্ট। সাফ নিয়ে বেশ আশাবাদী হামজা বলেন, “নভেম্বরে আমাদের ঘরের মাঠে একটি বড় টুর্নামেন্ট রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা সেই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখেই নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং আশা করি সেখানে আমরা দেশের মানুষের জন্য ভালো কিছু অর্জন করতে পারব।
প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ নিয়ে ভাবনা :
 আগামী বৃহস্পতিবার আসিয়ান কাপের পরবর্তী ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বিশাল দর্শকপূর্ণ গ্যালারি এবং প্রতিপক্ষের হোম কন্ডিশন—সব মিলিয়ে ম্যাচটি যে বেশ উত্তেজনাকর হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আসন্ন এই কঠিন ম্যাচটি নিয়ে মুখিয়ে থাকা হামজা বলেন, “আমি এই ম্যাচটার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আমি খুব ভালো করেই জানি যে গ্যালারিতে প্রচুর স্বাগতিক সমর্থক থাকবে, যা পুরো স্টেডিয়ামে এক ভিন্ন ধরনের আবহ তৈরি করবে। দল হিসেবে আমাদের জন্য এটি হবে আরও একটি অত্যন্ত মূল্যবান অভিজ্ঞতা।”

নিজেদের কঠিন পরীক্ষার কথা জানিয়ে হামজা পরিশেষে বলেন, “ইন্দোনেশিয়া খুবই শক্তিশালী দল, ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় লিগগুলোতে তাদের অনেক ভালো মানের খেলোয়াড় খেলছে। তাই আমাদের জন্য এটি আরেকটি কঠিন পরীক্ষা হতে চলেছে। তবে আমরা তো মূলত এই কারণেই এখানে এসেছি—নিজেদের চেয়ে শক্তিশালী ও এগিয়ে থাকা দলগুলোর সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের আরও পরিণত করতে৷”

একটু গরম হলেও ইন্দোনেশিয়ায় মুগ্ধ:

মাঠের তীব্র লড়াইয়ের বাইরে বাংলাদেশ দলের হয়ে এই ফুটবলীয় যাত্রা হামজার জন্য নতুন ও সুন্দর কিছু স্মৃতির দুয়ারও খুলে দিয়েছে। যেমন এই প্রথমবার ইন্দোনেশিয়ায় আসা। এর আগে বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছে ইন্দোনেশিয়ার সৌন্দর্যের কথা অনেক শুনেছেন, আর এবার নিজের চোখেই তা দেখার সুযোগ মিলল।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে হামজা বলেন, “ইন্দোনেশিয়া আমার সত্যিই খুব ভালো লেগেছে! এই প্রথমবার এখানে আসা হলো। আমার বহু বন্ধু ও পরিবারের লোকজন আগে এখানে এসে এখানকার দারুণ প্রশংসা করেছিল। তাই নিজে এসে সেটি চাক্ষুষ করতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে। এখানকার মানুষগুলো অত্যন্ত মিশুক ও বন্ধুত্বপূর্ণ। আবহাওয়াটা আমার জন্য একটু গরম মনে হলেও সব Allie মিলিয়ে আমি পুরো বিষয়টি দারুণ উপভোগ করছি। আশা করি ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আবার এসে ইন্দোনেশিয়ার বাকি সুন্দর জায়গাগুলো ঘুরে দেখব।”