র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান ঘুচিয়ে সঠিক পথেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ: হামজা চৌধুরী
- আপডেট সময় : ০৭:৪৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৭৮ বার পড়া হয়েছে
সময়ের চেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোর মুখোমুখিই আমাদের বেশি পড়তে হয়েছে। তবে আমরা হাল ছাড়িনি, সবাই মিলে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার শক্ত একটা ভিত্তি তৈরি করছি।”
হামজা স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের উন্নতি কেবল জয়-পরাজয়ের হিসেবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে মাঠে সমান তালে লড়াই করার ক্ষমতার মাঝেই লুকিয়ে আছে আসল অগ্রগতি।
অবশ্য এখনই বাংলাদেশ দল চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছে গেছে বলে মনে করেন না হামজা। তার বিশ্বাস, কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় পৌঁছাতে হলে বাংলাদেশের কয়েকটি জায়গায় আরও একটু উন্নতি ও গুছিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমার কাছে মনে হয়, আমাদের পুরো খেলার ধাঁধার শেষ দুই বা তিনটি পাজল মেলানোই এখন বাকি আছে। আশা করছি, আমরা খুব দ্রুতই সেই ছোট খাটো ঘাটতিগুলোও কাটিয়ে উঠতে পারব।”
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে অন্তত ৪৫ ধাপ এগিয়ে রয়েছে মালয়েশিয়া। কিন্তু মাঠে নামার পর সেই র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান খুব একটা টের পাওয়া যায় না বলেই মনে করেন এই ইংলিশ ফুটবলার। তিনি যোগ করেন, “এই লেভেলে এসে লড়াই করতে পারাটাই আমাদের জন্য বড় একটা প্রাপ্তি। ওরা র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু ম্যাচের কিছু নির্দিষ্ট মুহূর্তের দিকে তাকালে মাঠে সেই পার্থক্যের ছিটেফোঁটাও বোঝা যায় না। এর মানে পরিষ্কার, আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি।”
আসন্ন এই কঠিন ম্যাচটি নিয়ে মুখিয়ে থাকা হামজা বলেন, “আমি এই ম্যাচটার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আমি খুব ভালো করেই জানি যে গ্যালারিতে প্রচুর স্বাগতিক সমর্থক থাকবে, যা পুরো স্টেডিয়ামে এক ভিন্ন ধরনের আবহ তৈরি করবে। দল হিসেবে আমাদের জন্য এটি হবে আরও একটি অত্যন্ত মূল্যবান অভিজ্ঞতা।”
নিজেদের কঠিন পরীক্ষার কথা জানিয়ে হামজা পরিশেষে বলেন, “ইন্দোনেশিয়া খুবই শক্তিশালী দল, ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় লিগগুলোতে তাদের অনেক ভালো মানের খেলোয়াড় খেলছে। তাই আমাদের জন্য এটি আরেকটি কঠিন পরীক্ষা হতে চলেছে। তবে আমরা তো মূলত এই কারণেই এখানে এসেছি—নিজেদের চেয়ে শক্তিশালী ও এগিয়ে থাকা দলগুলোর সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের আরও পরিণত করতে৷”
একটু গরম হলেও ইন্দোনেশিয়ায় মুগ্ধ:
মাঠের তীব্র লড়াইয়ের বাইরে বাংলাদেশ দলের হয়ে এই ফুটবলীয় যাত্রা হামজার জন্য নতুন ও সুন্দর কিছু স্মৃতির দুয়ারও খুলে দিয়েছে। যেমন এই প্রথমবার ইন্দোনেশিয়ায় আসা। এর আগে বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছে ইন্দোনেশিয়ার সৌন্দর্যের কথা অনেক শুনেছেন, আর এবার নিজের চোখেই তা দেখার সুযোগ মিলল।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে হামজা বলেন, “ইন্দোনেশিয়া আমার সত্যিই খুব ভালো লেগেছে! এই প্রথমবার এখানে আসা হলো। আমার বহু বন্ধু ও পরিবারের লোকজন আগে এখানে এসে এখানকার দারুণ প্রশংসা করেছিল। তাই নিজে এসে সেটি চাক্ষুষ করতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে। এখানকার মানুষগুলো অত্যন্ত মিশুক ও বন্ধুত্বপূর্ণ। আবহাওয়াটা আমার জন্য একটু গরম মনে হলেও সব Allie মিলিয়ে আমি পুরো বিষয়টি দারুণ উপভোগ করছি। আশা করি ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আবার এসে ইন্দোনেশিয়ার বাকি সুন্দর জায়গাগুলো ঘুরে দেখব।”











