গেমস এবং বাংলাদেশ…
- আপডেট সময় : ০১:৩১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৭৭ বার পড়া হয়েছে
সেই পুরনো গল্প। বিশাল দলবল নিয়ে শূন্য হাতে ফেরা- ২০২৬ এশিয়ান গেমস বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট নতুন কিছু উপহার দিতে পারেনি। অবশ্য একজনের অনুপস্থিতি এবং আরেকজন প্রতিদ্বন্দ্বি ডিসকোয়ালিফায়েড হওয়ায় উশুতে পদক পেয়েছেন জিনাত আখতার।
মেয়েদের ক্রিকেট যাচ্ছেতাই খেলেছে। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশকে একমাত্র সোনা এনে দেওয়া ক্রিকেটের ছেলেদের দল এবার কি করে- সামান্য কৌতুহল বাকি আছে।
আর সব আগের মতই। বৈশ্বিক আসরে অংশগ্রহণই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য।
তাতে আমার আপত্তি নেই, বিশেষ করে অ্যাথলিটদের ক্ষেত্রে।
কারণ আছে। বাংলাদেশে ক্রিকেট আর ফুটবলের বাইরে শ্যুটিং, আর্চারি নিয়ে ‘মৃদুমন্দ’ আলোচনা হয়।
আর সব খেলার খবরের সিংহভাগ থাকে কর্মকর্তাদের ঘিরে। সেসব খবরের বেশিরভাগ নেতিবাচক। এই যেমন এবারের এশিয়ান গেমসের মাস দুয়েক আগে সব ফেডারেশনের অনির্বাচিত কমিটি ভেঙে এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাতে একেবারে শেষমূহূূর্তে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টে অদলবদল হয়েছে। দুটি খেলায় ফেডারেশন কর্মকর্তা জাপানে এসেছেন কোচ হিসেবে। একটি ডিসিপ্লিনে একজন প্রতিযোগির সহায়ক হিসেবে এসেছেন দুজন!
আজকাল এসব খবর বেশি রাখি না। তবে গেমস কাভার করতে আসা তরুণ সাংবাদিকদের কাছে নয়-ছয়ের এমন সব গল্প শুনেছি- যা নিয়ে বিস্তর স্যাটায়ার করা যায়।
কিন্তু ঐ যে, গেমসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আমি ভিন্ন ফিলোসোফিতে বিশ্বাস করি। এর কারণও আছে।
১। খেলাধুলায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ হয় না।
২। একমাত্র বিকেএসপি ছাড়া আর কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ার নূন্যতম কোনো সুযোগ নেই।
৩। বিকেএসপির সিংহভাগ খেলোয়াড় আবার দেশ সেরা হয়েই বর্তে যান, পরের ধাপে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। উদাহরণ হিসেবে এক ক্রিকেট বোর্ডকে বিবেচনায় নিতে পারেন। বিকেএসপি যতজন জাতীয় ক্রিকেটার উপহার দিয়েছে, তারচেয়ে সম্ভবত কোচ, কর্মকর্তা সেক্টরে বিকেএসপির ‘এক্স’দের সংখ্যা বেশি।
৪। সরকারের বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল।
৫। সংগঠকরা গদি চান, খেলা নিয়ে অত ভাবেন না।
সর্বোপরি, বিবিধ সঙ্কট থাকার পরও নেক্সট লেভেলে যাওয়ার যে একটা লড়কু তাড়না- তা সিংহভাগ খেলোয়াড় সম্ভবত অনুভব করেন না।
উদাহরণ, ভারতেও একসময় একতরফা বিনিয়োগ হতো ক্রিকেটে। এখন সব খেলোয়াড়ই সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের রাডারে জায়গা করে নিয়েছেন। এমনি এমনি নয়, সীমিত সুবিধার মধ্যেও সামর্থের সীমা অতিক্রম করে সবার নজর কেড়েছেন তাঁরা।
সেখানে বাংলাদেশ শূন্য, সব দিক থেকে। সেটা সরকারি সহায়তা, সাংগঠনিক দূর্বলতা, খেলোয়াড়দের ব্যর্থতা সর্বোপরি, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি- কোনটাতেই উপমহাদেশের বাউন্ডারি অতিক্রম করার অবস্থায় নেই বাংলাদেশ।
সাফ গেমসেও এখন পিছু হঠছে বাংলাদেশ।
আরেকটু সংযুক্তি দরকার।
এবারের এশিয়ান গেমসেই মেয়েদের ভলিবল দেখছিলাম। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যে মানের ভলিবল খেললো, বাংলাদেশ সেই মানের খেলা স্বপ্নেও দেখে কিনা জানি না।
টোকিওতে সুইমিং দেখলাম, স্রেফ অবিশ্বাস্য! চীন, কোরিয়া, জাপানের সঙ্গে টক্কর দিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াও।
অথচ মোশাররফ হোসেনের নদীমাতৃক বাংলাদেশ এখন শুধু জিওগ্রাফিতে আছে, গেমসের মানচিত্রে নেই।
আরও কৌতুককর মনে হয়েছে কাবাডিকে। নিজেদের জাতীয় খেলায় একসময় রূপা জিতত বাংলাদেশ। কালের প্রবাহে সবশেষ ব্রোঞ্জ জিতেছিল এক যুগেরও বেশি সময় আগে।
সেখানে জাপানে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে ম্যাচের পর খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের লম্ফঝম্প দেখে মনে হচ্ছিল, বুঝি পদক জিতেই গেছে!
না, জেতেনি। তবে জেতার উপক্রম হয়েছিল। এরপর অপেক্ষাকৃত দূর্বল মনে করা জাপানকে হারাতে পারলেই পদক নিশ্চিত হতো মিজানদের।
কিন্তু ওপরওয়ালা বলে একজন আছেন। সম্ভবত তাইপে ম্যাচের পর অমন ‘গরিবি’ উদযাপন হয়ত পছন্দ হয়নি তাঁর। তাই জাপানের কাছে হেরে পদকশুণ্যই থেকেছে কাবাডি।
এটা তো আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা। আসল কথা হলো, কাবাডির কর্মকর্তারা হয়ত জানেনই না যে জাপান নীরবে কতটা প্রস্তুতি নিয়েছে।
অবশ্য বাংলাদেশের হাইপ্রোফাইল সংগঠকরা অত খোঁজখবর রাখবেন কেন!
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক যদি কোচ পরিচয়ে গেমসে চলে আসার হাস্যকর কাণ্ড ঘটান, তখন ভালো কিছু আশা করাই বৃথা।
তো, এই নিয়েই বাংলাদেশ।
২৬০ জনের বেশি সদস্যের কন্টিনজেন্টে নবাগত সংগঠকে ভরপুর। শেষ মূহুর্তে নাম লেখানো আর ব্লেজার বানানোয় ব্যস্ত সময় গেছে!
যদিও তীব্র অর্থসঙ্কট দেশের ক্রীড়াঙ্গনে।
কিন্তু ইনসেন্টিভ চালু আছে। গেমস এলেই দলভারি করে হাজির হয় বাংলাদেশ।
অথচ ব্রুনাই বেশ ধনী দেশ। পদকও আছে। তবু তাদের দল ডাবল ডিজিট পার করেনি এবার।
কারণ, গেমসে অংশগ্রহণ করার নামে অপচয় করেনি ব্রুনাই।
হোক তারা ধনী!
সাঁতারে ১০০ মিটার বাটারফ্লাই জয়ী চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের তিন সাঁতারু পদক নিচ্ছিলেন।
দৃশ্যটা হৃদয় দুমড়ে মুচড়ে দিচ্ছিল- আনন্দ আর আক্ষেপে। নাহ, বাংলাদেশ পদক জেতেনি বলে মোটেও মন খারাপ হয়নি।
মন খারাপ হয়েছে এটা দেখে যে, দায়সারা গোছের অংশগ্রহণের নামে ২৬০+ জনকে জাপানে পাঠাতে হবে!



















