গাজায় ক্ষোভ ঝরলো জাতিসংঘে, নেতানিয়াহুকে বিশ্বনেতাদের বয়কট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
- আপডেট সময় : ০২:৩৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪২ বার পড়া হয়েছে
গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক আগ্রাসন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্বনেতাদের চরম ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটল খোদ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে। স্থানীয় সময় ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বক্তব্য দিতে পোডিয়ামে দাঁড়ালে এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিশ্বনেতা ও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের একটি বিশাল অংশ একযোগে সাধারণ পরিষদের হলরুম ত্যাগ করে তাঁর ভাষণ বয়কট করেন।
হলজুড়ে হট্টগোল ও ভুয়ো ধ্বনি
প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি দলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নেতানিয়াহু পোডিয়ামের দিকে এগিয়ে আসার সাথে সাথেই হলরুমে তীব্র হট্টগোল শুরু হয়। বহু দেশের প্রতিনিধি উচ্চকণ্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ ও ভুয়ো (Booing) ধ্বনি দিতে দিতে আসন ছেড়ে বেরিয়ে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অধিবেশনের সভাপতিকে বারবার হ্যামার পিটিয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানাতে হয়। একপর্যায়ে হলরুমের অধিকাংশ আসনই ফাঁকা হয়ে পড়ে, যেখানে কেবল ইসরায়েলি প্রতিনিধি দল এবং তাদের গুটিকয়েক সমর্থককে হাততালি দিতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি দলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নেতানিয়াহু পোডিয়ামের দিকে এগিয়ে আসার সাথে সাথেই হলরুমে তীব্র হট্টগোল শুরু হয়। বহু দেশের প্রতিনিধি উচ্চকণ্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ ও ভুয়ো (Booing) ধ্বনি দিতে দিতে আসন ছেড়ে বেরিয়ে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অধিবেশনের সভাপতিকে বারবার হ্যামার পিটিয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানাতে হয়। একপর্যায়ে হলরুমের অধিকাংশ আসনই ফাঁকা হয়ে পড়ে, যেখানে কেবল ইসরায়েলি প্রতিনিধি দল এবং তাদের গুটিকয়েক সমর্থককে হাততালি দিতে দেখা যায়।
বিক্ষুব্ধ নেতানিয়াহুর হুঙ্কার
বিশ্বনেতাদের এমন নজিরবিহীন বয়কটে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। হলরুমে উপস্থিত অবশিষ্ট প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “এই হলে আর কোনো নৈতিক কাপুরুষ বাকি থাকলে, আপনারাও এখন চলে যেতে পারেন।”
বিশ্বনেতাদের এমন নজিরবিহীন বয়কটে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। হলরুমে উপস্থিত অবশিষ্ট প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “এই হলে আর কোনো নৈতিক কাপুরুষ বাকি থাকলে, আপনারাও এখন চলে যেতে পারেন।”
আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র চাপ ও যুদ্ধাপরাধের সমালোচনা সত্ত্বেও নেতানিয়াহু তাঁর আগ্রাসী মনোভাব বজায় রাখেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েলকে গাজায় ‘কাজ শেষ করতেই হবে’। পশ্চিমাদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “পশ্চিমা নেতারা চাপের মুখে নতিস্বীকার করে থাকতে পারেন। তবে আমি আপনাদের একটি বিষয়ে নিশ্চয়তা দিচ্ছি—ইসরায়েল তা করবে না।” একই সাথে তিনি গাজায় গণহত্যার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
জাতিসংঘের বাইরেও তীব্র বিক্ষোভ
নেতানিয়াহুর এই সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের জাতিসংঘের সদর দফতরের বাইরেও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ব্যানার-প্লেকার্ড হাতে নিয়ে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে স্লোগান দেন। বিক্ষোভ থেকে হলিউড তারকা সুসান সারান্ডনসহ বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে নিউইয়র্ক পুলিশ।
নেতানিয়াহুর এই সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের জাতিসংঘের সদর দফতরের বাইরেও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ব্যানার-প্লেকার্ড হাতে নিয়ে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে স্লোগান দেন। বিক্ষোভ থেকে হলিউড তারকা সুসান সারান্ডনসহ বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে নিউইয়র্ক পুলিশ।
ফিলিস্তিনের তীব্র প্রতিক্রিয়া
এর আগে এক ভিডিও বার্তায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “বিশ্ব গাজা এবং পশ্চিম তীরে যে বিশাল মানবিক ক্ষয়ক্ষতি দেখল, তারপরেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ফিলিস্তিনি জনগণকে রক্ষা করার জন্য আর কিসের অপেক্ষা করছে?” [
এর আগে এক ভিডিও বার্তায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “বিশ্ব গাজা এবং পশ্চিম তীরে যে বিশাল মানবিক ক্ষয়ক্ষতি দেখল, তারপরেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ফিলিস্তিনি জনগণকে রক্ষা করার জন্য আর কিসের অপেক্ষা করছে?” [
জাতিসংঘের এই অধিবেশনটি গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতির গভীর বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। একদিকে নেতানিয়াহু তাঁর আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, অন্যদিকে বিশ্বনেতারা একযোগে হলরুম বর্জন করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের স্পষ্ট অবস্থান ও চরম ক্ষোভের বার্তা দিয়েছেন।




















