ইউপি ভোটে বাড়ল জামানত, প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা ইসির
- আপডেট সময় : ০৮:৫২:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪৩ বার পড়া হয়েছে
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের অর্থ পাঁচ গুণ বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০ সংশোধন করে বুধবার এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি। নতুন বিধিমালায় প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা, জামানত বাজেয়াপ্তের শর্ত, হলফনামায় তথ্য দেওয়াসহ ভোটে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ না পেলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। আগে এই সীমা ছিল এক-অষ্টমাংশ ভোট।
প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের সীমাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। প্রায় দেড় দশক পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামানত ও ব্যয়সীমায় এ পরিবর্তন আনা হলো।
নতুন বিধিমালায় নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ইসির ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। বিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও বিধিমালায় যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনী আচরণবিধি বা সংশ্লিষ্ট বিধান লঙ্ঘনের ঘটনায় কমিশন আগের তুলনায় আরও সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারবে।
এ ছাড়া চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ১২ ডিজিটের টিআইএন সনদ ও আয়কর রিটার্নের কপি দেওয়ার বিধান করা হয়েছে। প্রার্থীর পাশাপাশি তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের দেশে ও বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করতে হবে। সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রার্থীদের হলফনামার তথ্য আরও স্পষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এবারের ইউপি নির্বাচন হবে নির্দলীয় প্রতীকে। চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদের জন্য নির্দিষ্ট প্রতীক সংরক্ষণ করেছে ইসি। চেয়ারম্যান পদে ২০টি, সাধারণ সদস্য পদে ১২টি এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০টি প্রতীক রাখা হয়েছে।
ইসি এর আগে জানিয়েছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ব্যালট ছাপানো, ভোট গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে জামানত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জামানত বাড়ানোর মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় বা কম ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকা প্রার্থীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হবে।
নতুন বিধিমালার মাধ্যমে একদিকে প্রার্থীদের আর্থিক দায় বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসির হস্তক্ষেপের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। ফলে আগামী ইউপি নির্বাচনে প্রার্থিতা, নির্বাচনী ব্যয় ও আচরণবিধি—তিন ক্ষেত্রেই আগের তুলনায় কঠোর কাঠামোর মধ্যে থাকতে হবে প্রার্থীদের।






















