২১১ সদস্যকে অর্থ দিতে ফিফার উদ্যোগ, তালিকায় বাংলাদেশও
- আপডেট সময় : ০৯:৪৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪৯ বার পড়া হয়েছে
বিশ্বকাপ থেকে ফিফার রেকর্ড পরিমাণ আয়ের একটি অংশ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মধ্যে বিতরণের প্রস্তাবে নীতিগত সমর্থন জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে কোন সদস্য অ্যাসোসিয়েশন কত অর্থ পাবে, অর্থ বণ্টনের পদ্ধতি কী হবে এবং মোট কত অর্থ বিতরণ করা হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ফিফার ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও (বাফুফে) এই অর্থ পাওয়ার আওতায় থাকবে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর ছয় কনফেডারেশনের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইনফান্তিনো অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার নীতির প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, ফিফার আর্থিক সাফল্যের সুফল ফুটবল উন্নয়নে এবং ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের কাজে ব্যবহার হওয়া উচিত। তবে আলোচনায় থাকা কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ককে এখনই অনুমোদিত প্রতিশ্রুতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
ফিফা কাউন্সিলের আগামী ১৫ অক্টোবরের বৈঠকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করার কথা রয়েছে। ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রমকে বিভিন্ন প্রস্তাব ও আর্থিক হিসাব একত্র করে একটি সমন্বিত মূল্যায়ন প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন ইনফান্তিনো। এরপর অর্থের পরিমাণ, বণ্টনের কাঠামো এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রস্তাব ১০ মিলিয়ন ডলার
অতিরিক্ত অর্থ বণ্টনের উদ্যোগটি সামনে আসে উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন ও কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তাগ্লিয়ানির যৌথ প্রস্তাবের মাধ্যমে। তাঁরা ২০২৭-৩০ চক্রে ফিফার ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যেককে অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব করেন। ২১১টি অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যেককে ১০ মিলিয়ন ডলার দিলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২.১১ বিলিয়ন ডলার। প্রস্তাবটি ফিফার নগদ মজুত থেকে অর্থ দেওয়ার কথা বলেছে।
তবে ইনফান্তিনো সরাসরি ১০ মিলিয়ন ডলারের অঙ্কে সম্মতি দেননি। তিনি বলেছেন, দায়িত্বশীলভাবে যতটা অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া সম্ভব, তিনি সেই সর্বোচ্চ মাত্রার অর্থায়নকে সমর্থন করবেন। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক সদস্য অ্যাসোসিয়েশন সমান অর্থ পাবে কি না কিংবা ১০ মিলিয়ন ডলারই চূড়ান্ত অঙ্ক হবে কি না, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
বাংলাদেশের জন্য কী
ফিফার সদস্য হিসেবে বাফুফে প্রস্তাবিত অর্থ বণ্টনের আওতায় থাকবে। তবে বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো অঙ্ক এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ফলে ১০ মিলিয়ন ডলারকে বাংলাদেশের নিশ্চিত বরাদ্দ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ১৫ অক্টোবরের ফিফা কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
এর আগে ২০২৬ বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারী ৪৮ দলের জন্য ফিফা প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়। এ অর্থের মধ্যে প্রস্তুতি বাবদ প্রতিটি দলকে ২.৫ মিলিয়ন এবং কোয়ালিফিকেশন অর্থ হিসেবে ১০ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ফিফা জানিয়েছিল, বিশ্বকাপের আয় থেকে অবশিষ্ট অর্থ ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নে পুনর্বণ্টন করা হবে।
বাংলাদেশ ২০২৬ বিশ্বকাপের ৪৮ দলের মধ্যে নেই। ফলে অংশগ্রহণকারী দলের জন্য নির্ধারিত বিশ্বকাপ প্রাইজমানি বা প্রস্তুতি অর্থ বাফুফে পাবে না। নতুন প্রস্তাবটি আলাদা—এটি ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর জন্য অতিরিক্ত অর্থায়নের উদ্যোগ।
ফিফার আর্থিক অবস্থায় বড় পরিবর্তন
ফিফার আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক সাফল্য বড় ভূমিকা রাখছে। সংস্থাটি ২০২৭-৩০ চক্রে ১৪ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রাজস্ব বাজেটের পূর্বাভাস দিয়েছে। একই সময়ে FIFA Forward কর্মসূচিতে সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর জন্য ২.৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে।
ফিফার হিসাবে ২০২৩-২৬ চক্রে প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন FIFA Forward কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ৮ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পেতে পারে। নতুন চক্রে সদস্যদের জন্য অর্থায়ন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হতে পারে বলে ইনফান্তিনো জানিয়েছেন। জুলাইয়ে তিনি বলেন, ২০২৩-২৬ চক্রে ফিফার মোট রাজস্ব ১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক সাফল্য ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্নয়নে আরও অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সব মিলিয়ে, ফিফার অতিরিক্ত অর্থ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মধ্যে বণ্টনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাফুফেও এর সুবিধাভোগী হতে পারে। তবে বাংলাদেশের সম্ভাব্য বরাদ্দের পরিমাণ, অর্থ পাওয়ার শর্ত এবং অর্থ ব্যবহারের খাত—কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত নয়। ১৫ অক্টোবরের ফিফা কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।











