আর্কটিককে ঘিরে বদলে যাচ্ছে ভূরাজনৈতিক সমীকরণ
- আপডেট সময় : ০৮:৩৭:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪৫ বার পড়া হয়েছে
কানাডার উত্তরাঞ্চল বা আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য হুমকির ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ। তাঁর মতে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসনের পর ইউরোপের পাশাপাশি আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিবেশও বদলে গেছে।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে অনিতা আনন্দ বলেন, কানাডাকে শুধু ইউরোপের পূর্বাঞ্চলীয় ন্যাটো মিত্রদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করলেই হবে না; উত্তর ও আর্কটিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ন্যাটোরও একটি কৌশলগত মূল্যায়ন থাকা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আর্কটিককে কানাডার জাতীয় ও উত্তর আমেরিকার সামগ্রিক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখার বিষয়টি উঠে এসেছে।
কানাডার ২০২৪ সালের আর্কটিক পররাষ্ট্রনীতিতেও বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ আর্কটিক অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। দেশটির সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, আর্কটিকে সামরিক হামলার ঝুঁকি এখনো কম; তবে অঞ্চলটি উত্তর আমেরিকা ও উত্তর আটলান্টিকের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রচলিত ও নতুন ধরনের অস্ত্রব্যবস্থার সম্ভাব্য প্রবেশপথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সে আলোকে কানাডার সার্বভৌমত্ব ও আর্ক্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা বজায় রাখতে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে তাদের প্রতিরক্ষা তৎপরতা জোরদার করছে। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার আকাশসীমা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং ন্যাটোর নতুন কৌশলগত প্রতিরক্ষানীতির ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কানাডা সরকার সাবমেরিন ক্রয়সহ সামরিক ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে।
তবে এই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মধ্যেই একটি ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে। উত্তর কানাডার (নুনাভুত ও নর্থওয়েস্ট টেরিটরিজ) বাসিন্দাদের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে দেখা গেছে, স্থানীয়দের একটি বড় অংশ রাশিয়ার চেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই তাদের অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য অন্যতম প্রধান হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসনের আগ্রাসী নীতি এবং আর্ক্টিক অঞ্চলের সীমান্ত ও খনিজ সম্পদের মালিকানা নিয়ে সম্ভাব্য বিরোধের আশঙ্কাই স্থানীয়দের এই উদ্বেগের মূল কারণ। জরিপে অংশ নেয়া অধিকাংশ বাসিন্দা মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পদ বা সীমান্ত নিয়ে যেকোনো বিতর্কে কানাডা সরকারের আরও কঠোর অবস্থান নেয়া উচিত।
রাশিয়া-চীনের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ
কানাডার সরকারি নীতিপত্রে আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার বিমান তৎপরতা বৃদ্ধি, চীনের দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য গবেষণা জাহাজ ও নজরদারি প্ল্যাটফর্মের নিয়মিত উপস্থিতি এবং সামগ্রিক সামুদ্রিক তৎপরতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ন্যাটোও এর আগে জানিয়েছিল, আর্কটিক অঞ্চল ইউরো-আটলান্টিক নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর মেরু দিয়ে উত্তর আমেরিকার দিকে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমান চলাচলের সম্ভাব্য পথ থাকায় উত্তর আমেরিকার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আর্কটিকের গুরুত্ব রয়েছে।
রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযান শুরু হওয়ার পর কানাডা আর্কটিক অঞ্চলে নজরদারি, প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ও মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে। দেশটির সরকারের ২০২২ সালের বক্তব্যে নতুন আর্কটিক ও অফশোর পেট্রল জাহাজ, উন্নত নজরদারি ও গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং সামরিক অবকাঠামো শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল।
এদিকে সেপ্টেম্বরের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও অনিতা আনন্দ আর্কটিক নিরাপত্তা নিয়ে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবারের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে আর্কটিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা আলোচনাও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কর্মসূচির অংশ ছিল।

























