ড্রাফটের মাধ্যমে কোচ নির্ধারণ, ঘরোয়া ক্রিকেটে যুক্ত হল নতুন ইতিহাস
- আপডেট সময় : ০৭:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৫২ বার পড়া হয়েছে
দেশের শাসন ক্ষমতা বদলেছে, বদলেছে ক্রীড়াঙ্গনেও। পুরাতন সেট বাদ পড়ে ঘটেছে নতুনদের আগমন। বদলেছে ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা বিভাগও। তরুন বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল। এখনো গায়ে থেকে যায়নি ক্রিকেটের গন্ধ। সঙ্গে একঝাক তরুণ বোর্ড পরিচালকের সংযুক্তি। পাপন যুগের পর ফারুক অতপর বুলবুল যুগের পদচারণা দেখা গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে। ক্রিকেটে চলছে এখন তামিম যুগ।
নতুন বোর্ড প্রেসিডেন্ট, নতুন নুতন ভাবনা যোগ হচ্ছে ক্রিকেটে। ক্রিকেটারদের বেতন বৃদ্ধি থেকে শুরু করে, মাঠের লড়াইয়েও নতুনত্ব আনার প্রবল প্রচেষ্টা চলছে। বিপিএলের পরিবর্তে চলতি বছর ভিন্ন আঙ্গিকে সাজানো হচ্ছে ক্রিকেটকে। তিন সংস্করণের ক্রিকেট নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে ভিন্ন আঙ্গিকের ফ্রেঞ্চাইজি ক্রিকেট। নামকরণ হচ্ছে ‘ডি-থ্রি টুর্নামেন্ট’। এখানে খেলবে ছয়টি ফ্রেঞ্চাইজি দল। যেখানে খেলোয়াড় থেকে শুরু করে কোচ এবং কোচিং স্টাফ সবই নির্ধারণ হয় ড্রাফেটের মাধ্যমে।
নতুন বোর্ড প্রেসিডেন্টের এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টে আনা হলো নতুনত্ব। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ম্যানেজমেন্ট ড্রাফটে ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজেদের কোচিং ও সাপোর্ট স্টাফ বেছে নেয়। প্রতিটি দল ড্রাফট থেকে একজন প্রধান কোচ, দুজন সহকারী কোচ, একজন ফিজিওথেরাপিস্ট, একজন স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ এবং একজন পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। যা কিনা বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়েছে। ছয়টি দল হচ্ছে যথাক্রমে-
এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের অংশ। এর আগে দেশের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় দলগুলোর কোচ ও সাপোর্ট স্টাফ সাধারণত নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিয়োগ করা হতো। ডি-থ্রি-তে প্রথমবার সেই নিয়োগপ্রক্রিয়াকেও ড্রাফটের আওতায় আনা হয়েছে।
বিসিবির নতুন পরিকল্পনায় ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চার দিনের ও ওয়ানডে প্রতিযোগিতাকে এক ছাতার নিচে এনে ডি-থ্রি আয়োজন করা হচ্ছে। একই ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি তিন সংস্করণেই খেলবে।
ইতোমধ্যে ছয় দলের আইকন ক্রিকেটারও চূড়ান্ত হয়েছে। ওয়ালটনের আইকন মেহেদী হাসান মিরাজ, ফরচুনের তাওহিদ হৃদয়, এসিএমইর মোসাদ্দেক হোসেন, সেভেন রিংসের মুশফিকুর রহিম, এসি ব্লুস্টারের নুরুল হাসান সোহান এবং সিটিজেনস ব্যাংকের মোহাম্মদ নাঈম শেখ।
তিন সংস্করণে অনুষ্ঠিত হবে ৪২ ম্যাচ
ডি-থ্রি প্রতিযোগিতায় মোট ৪২টি ম্যাচ হবে। এর মধ্যে সাতটি চার দিনের, ১৬টি ওয়ানডে এবং ১৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। টি-টোয়েন্টি দিয়ে আগামী ১৫ ডিসেম্বর প্রতিযোগিতার যাত্রা শুরু হওয়ার কথা। চার দিনের পর্ব হবে জানুয়ারিতে এবং ওয়ানডে পর্ব মে মাসে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
টি-টোয়েন্টি পর্বের মূল ভেন্যু হিসেবে বরিশালের জীবনানন্দ দাশ ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকাতেও ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে। বিসিবির পরিকল্পনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘরোয়া ক্রিকেটের দর্শক ও আগ্রহ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর দলগুলো নিজেদের আইকন ক্রিকেটার বেছে নেন। ওয়ালটন গ্রুপ নেয় মেহেদী হাসান মিরাজকে। ফরচুন দলে নেয় তাওহীদ হৃদয়কে। একমি বেছে নেয় মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। এরপর সেভেন রিংস সিমেন্ট মুশফিকুর রহিমকে, এইস ব্লু স্টার নুরুল হাসান সোহানকে এবং সিটিজেন্স ব্যাংক নাঈম শেখকে দলে নেয়। আজকের টিম ম্যানেজমেন্ট ড্রাফটে দলের টেবিলে দেখা যায় মিরাজ, মুশফিকুর, সোহান ও নাঈম শেখকে।
প্লেয়ার্স ড্রাফটের মাধ্যমে দলগুলো বাকি ক্রিকেটারদের দলে নেবে। সব মিলিয়ে ২৩ ক্রিকেটার দলে নেওয়া যাবে। ২৬ অক্টোবর হবে প্লেয়ার্স ড্রাফট। টুর্নামেন্টের জন্য ক্রিকেটাররা সবাই পাবেন সমান পারিশ্রমিক। কিছুদিন আগে যে আর্থিক কাঠামো ঘোষণা করেছে বিসিবি, সেই অনুযায়ীই ম্যাচ ফি পাবেন ক্রিকেটাররা- প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেড় লাখ টাকা, একদিনের ম্যাচে এক লাখ ও টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা।
ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি হলো –
ব্লু-স্টার (ACE Blue Star), একমি গ্রুপ (Acme), সিটিজেন গ্রুপ/ব্যাংক (Citizens Bank), ফরচুন গ্রুপ (Fortune), সেভেন রিংস সিমেন্ট (Seven Rings Cement) এবং ওয়ালটন গ্রুপ (Walton)।
ড্রাফটে কোন দলে কোন কোচ
এইসি ব্লুস্টার : প্রধান কোচ- সোহেল ইসলাম, সহকারী কোচ- সালাহউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল ও আশিকুর রহমান মজুমদার। ফিজিও- জয় বিশ্বাস।
একমি গ্রুপ : প্রধান কোচ – রাজিন সালেহ, সহকারী কোচ- তারেক আজিজ খান ও ফয়সাল হোসেন, ফিজিও – আবু রেজা মো. শরীফুল হাসান।
সিটিজেনস ব্যাংক : প্রধান কোচ – মিজানুর রহমান বাবুল, সহকারী কোচ-নাজমুল হোসেন ও মোহাম্মদ সেলিম, ফিজিও – খায়রুল ইসলাম।
ফরচুন : প্রধান কোচ- মোহাম্মদ সালাহ উদ্দি, সহকারি কোচ- মোহাম্মদ আশরাফুল ও আব্দুল করিম জুয়েল, ফিজিও – বায়েজিদুল ইসলাম খান।
সেভেন রিংস সিমেন্ট : প্রধান কোচ- তালহা জুবায়ের, সহকারী কোচ- হান্নান সরকার ও হুমায়ুন কবির শাহিন, ফিজিও – দেলোয়ার হোসেন।
ওয়ালটন গ্রুপ : প্রধান কোচ- স্পিনার আবদুর রাজ্জাককে, সহকারী কোচ – তুষার ইমরান ও ডলার মাহমুদ, ফিজিও – এনামুল হক।





















