ঢাকা ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ভাঙাড়ি হিসেবে কেজির দরে বিক্রি হচ্ছে ১২ উড়োজাহাজ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:১৯:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের অ্যাপ্রোনে দীর্ঘ এক যুগ ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বেসরকারী চার বিমান সংস্থার ১২টি অচল উড়োজাহাজ উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক নিলামের মাধ্যমে বিক্রির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে এসব উড়োজাহাজ বাজেয়াপ্ত করার পর এখন কার্যত এগুলোকে স্ক্র্যাপ বা ভাঙাড়ি হিসেবে কেজি দরে বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। 
দীর্ঘদিন ধরে কার্গো হ্যান্ডলিং ও উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের মূল্যবান জায়গা দখল করে থাকা এই বিমানগুলোর কারণে বেবিচকের পার্কিং চার্জ ও সারচার্জ বাবদ মোট বকেয়া পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা। মালিকপক্ষ বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এবং উড়োজাহাজগুলোর উড্ডয়ন যোগ্যতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিমান সংস্থাভিত্তিক উড়োজাহাজের সংখ্যা ও বকেয়া পাওনা
নিচে পার্কিংয়ে পড়ে থাকা অচল উড়োজাহাজগুলোর মালিকানা এবং বেবিচকের পাওনার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:

বিমান সংস্থার নাম অচল উড়োজাহাজের সংখ্যা বকেয়া পাওনার পরিমাণ (আনুমানিক) বন্ধ হওয়ার সময়কাল
জিএমজি এয়ারলাইন্স ১টি ৩৬০ কোটি টাকা (সর্বোচ্চ) ২০১২ সাল
ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ৮টি ৩৫৫ কোটি টাকা ২০১৬ সাল
রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ২টি ২০০ কোটি টাকা ২০২০ সাল
এভিয়েনা/অ্যাঞ্জেল এয়ারওয়েজ ১টি হিসাব প্রক্রিয়াধীন –
সর্বমোট ১২টি প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা

উৎস: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) 

কেজি দরে বিক্রির কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, এই উড়োজাহাজগুলো দীর্ঘদিন ধরে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে ভেতরের মূল্যবান যন্ত্রাংশসহ পুরো বডি নষ্ট হয়ে গেছে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের কোনো উড়োজাহাজ মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান (Valuation Firm) না থাকায় এবং বিদেশী বিশেষজ্ঞ এনে এগুলোর ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা অতিরিক্ত ব্যয়বহুল হওয়ায়, কোনো রিজার্ভ প্রাইস বা ভিত্তিমূল্য ছাড়াই এগুলো আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্ক্র্যাপের নিয়ম অনুযায়ী এগুলোকে ওজন মেপে কেজি দরে ভাঙাড়ি হিসেবে 
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, এই ১২টি উড্ডয়ন অযোগ্য বিমান রফতানি কার্গো কমপ্লেক্সের সামনের অ্যাপ্রোনে পড়ে থাকায় নিয়মিত ও অনিয়মিত পণ্যবাহী ফ্লাইটের লোডিং-আনলোডিং মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পার্কিং সংকটের কারণে নতুন কোনো কার্গো ফ্রেইটারকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না, যা দেশের সামগ্রিক আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বেবিচকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমস্ত আইনি জটিলতা নিরসন করে বিমানগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অতি দ্রুত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে এগুলোকে বিমানবন্দর এলাকা থেকে সরিয়ে জায়গাটি খালি করা হবে, যা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালন সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভাঙাড়ি হিসেবে কেজির দরে বিক্রি হচ্ছে ১২ উড়োজাহাজ

আপডেট সময় : ০৯:১৯:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের অ্যাপ্রোনে দীর্ঘ এক যুগ ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বেসরকারী চার বিমান সংস্থার ১২টি অচল উড়োজাহাজ উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক নিলামের মাধ্যমে বিক্রির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে এসব উড়োজাহাজ বাজেয়াপ্ত করার পর এখন কার্যত এগুলোকে স্ক্র্যাপ বা ভাঙাড়ি হিসেবে কেজি দরে বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। 
দীর্ঘদিন ধরে কার্গো হ্যান্ডলিং ও উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের মূল্যবান জায়গা দখল করে থাকা এই বিমানগুলোর কারণে বেবিচকের পার্কিং চার্জ ও সারচার্জ বাবদ মোট বকেয়া পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা। মালিকপক্ষ বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এবং উড়োজাহাজগুলোর উড্ডয়ন যোগ্যতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিমান সংস্থাভিত্তিক উড়োজাহাজের সংখ্যা ও বকেয়া পাওনা
নিচে পার্কিংয়ে পড়ে থাকা অচল উড়োজাহাজগুলোর মালিকানা এবং বেবিচকের পাওনার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:

বিমান সংস্থার নাম অচল উড়োজাহাজের সংখ্যা বকেয়া পাওনার পরিমাণ (আনুমানিক) বন্ধ হওয়ার সময়কাল
জিএমজি এয়ারলাইন্স ১টি ৩৬০ কোটি টাকা (সর্বোচ্চ) ২০১২ সাল
ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ৮টি ৩৫৫ কোটি টাকা ২০১৬ সাল
রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ২টি ২০০ কোটি টাকা ২০২০ সাল
এভিয়েনা/অ্যাঞ্জেল এয়ারওয়েজ ১টি হিসাব প্রক্রিয়াধীন –
সর্বমোট ১২টি প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা

উৎস: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) 

কেজি দরে বিক্রির কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, এই উড়োজাহাজগুলো দীর্ঘদিন ধরে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে ভেতরের মূল্যবান যন্ত্রাংশসহ পুরো বডি নষ্ট হয়ে গেছে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের কোনো উড়োজাহাজ মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান (Valuation Firm) না থাকায় এবং বিদেশী বিশেষজ্ঞ এনে এগুলোর ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা অতিরিক্ত ব্যয়বহুল হওয়ায়, কোনো রিজার্ভ প্রাইস বা ভিত্তিমূল্য ছাড়াই এগুলো আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্ক্র্যাপের নিয়ম অনুযায়ী এগুলোকে ওজন মেপে কেজি দরে ভাঙাড়ি হিসেবে 
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, এই ১২টি উড্ডয়ন অযোগ্য বিমান রফতানি কার্গো কমপ্লেক্সের সামনের অ্যাপ্রোনে পড়ে থাকায় নিয়মিত ও অনিয়মিত পণ্যবাহী ফ্লাইটের লোডিং-আনলোডিং মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পার্কিং সংকটের কারণে নতুন কোনো কার্গো ফ্রেইটারকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না, যা দেশের সামগ্রিক আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বেবিচকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমস্ত আইনি জটিলতা নিরসন করে বিমানগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অতি দ্রুত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে এগুলোকে বিমানবন্দর এলাকা থেকে সরিয়ে জায়গাটি খালি করা হবে, যা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালন সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করবে।