ঢাকা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

সিইসিবিরোধী বিক্ষোভ ঠেকাতে উত্তপ্ত দিল্লি, মাঠে নামছে ২৩ হাজার সশস্ত্র পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:২৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠনের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর ডাকা বড় পরিসরের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ভারত সরকার।
২৩ হাজার সিএপিএফ সদস্য মোতায়েন
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে জানা গেছে, বিক্ষোভ মোকাবিলায় দিল্লিতে প্রায় ২৩ হাজার কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশকে দেওয়া নিয়মিত ফোর্স ছাড়াও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৮ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে অতিরিক্ত ২২১টি সিএপিএফ কোম্পানি মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে:
    • সিআরপিএফ: ৮৫টি কোম্পানি
    • সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি): ১০টি কোম্পানি
    • ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি): ৭টি কোম্পানি
    • র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‌্যাফ): ৭টি কোম্পানি
    • সিআইএসএফ: ১টি কোম্পানি

এছাড়া, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দিল্লির নিজস্ব পুলিশ বাহিনীর আরও ২০ হাজার সদস্য মাঠপর্যায়ে মোতায়েন থাকবে। এর আগে গত জুলাইয়ে সিজেপির বিক্ষোভের সময় ১৫০ কোম্পানি এবং কৃষক আন্দোলনের সময় ৯৩ কোম্পানি সিএপিএফ মোতায়েন করা হয়েছিল।
নিরাপত্তার চাদরে দিল্লি, জারি থাকছে ১৬৩ ধারা
বিক্ষোভ রুখতে এবার কঠোর কৌশল অবলম্বন করছে প্রশাসন। সূত্র মতে, দিল্লিতে শান্তি বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের জনসমাবেশ রুখতে বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি থাকবে। কোনো ধরনের প্রতিবাদ বা সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
প্রয়োজনে দিল্লির সবকটি মেট্রো স্টেশন এবং ব্যস্ত বাজারঘাট বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি রেলওয়ে স্টেশন এবং বাস টার্মিনালগুলোতে কড়া নজরদারি চালানো হবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সামনে বহুমাত্রিক ব্যারিকেড স্থাপনের পাশাপাশি সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা ও উন্নত ‘ফেস রিকগনিশন সিস্টেম’ (এফআরএস) ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানাসহ পার্শ্ববর্তী সব রাজ্যকেও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সহযোগিতার আশ্বাস সিজেপির
এদিকে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এক সংবাদ সম্মেলনে ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তবে তিনি জানান, প্রস্তাবিত এই কর্মসূচির বিষয়ে দিল্লি পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে। নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে তাদের সংগঠন পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
আন্দোলনের পটভূমি
সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যুতে ‘বিজেপিঘেঁষা’ হিসেবে পরিচিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তোলেন কমিশনের অপর দুই সদস্য। এই ঘটনার পর থেকেই ভারতের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক জোট ‘ইন্ডিয়া’ এবং বিভিন্ন তরুণ ও ছাত্র সংগঠন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজপথে নামে। সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং শাস্তির দাবিতে দেশজুড়ে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সিইসিবিরোধী বিক্ষোভ ঠেকাতে উত্তপ্ত দিল্লি, মাঠে নামছে ২৩ হাজার সশস্ত্র পুলিশ

আপডেট সময় : ০৭:২৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠনের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর ডাকা বড় পরিসরের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ভারত সরকার।
২৩ হাজার সিএপিএফ সদস্য মোতায়েন
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে জানা গেছে, বিক্ষোভ মোকাবিলায় দিল্লিতে প্রায় ২৩ হাজার কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশকে দেওয়া নিয়মিত ফোর্স ছাড়াও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৮ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে অতিরিক্ত ২২১টি সিএপিএফ কোম্পানি মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে:
    • সিআরপিএফ: ৮৫টি কোম্পানি
    • সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি): ১০টি কোম্পানি
    • ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি): ৭টি কোম্পানি
    • র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‌্যাফ): ৭টি কোম্পানি
    • সিআইএসএফ: ১টি কোম্পানি

এছাড়া, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দিল্লির নিজস্ব পুলিশ বাহিনীর আরও ২০ হাজার সদস্য মাঠপর্যায়ে মোতায়েন থাকবে। এর আগে গত জুলাইয়ে সিজেপির বিক্ষোভের সময় ১৫০ কোম্পানি এবং কৃষক আন্দোলনের সময় ৯৩ কোম্পানি সিএপিএফ মোতায়েন করা হয়েছিল।
নিরাপত্তার চাদরে দিল্লি, জারি থাকছে ১৬৩ ধারা
বিক্ষোভ রুখতে এবার কঠোর কৌশল অবলম্বন করছে প্রশাসন। সূত্র মতে, দিল্লিতে শান্তি বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের জনসমাবেশ রুখতে বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি থাকবে। কোনো ধরনের প্রতিবাদ বা সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
প্রয়োজনে দিল্লির সবকটি মেট্রো স্টেশন এবং ব্যস্ত বাজারঘাট বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি রেলওয়ে স্টেশন এবং বাস টার্মিনালগুলোতে কড়া নজরদারি চালানো হবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সামনে বহুমাত্রিক ব্যারিকেড স্থাপনের পাশাপাশি সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা ও উন্নত ‘ফেস রিকগনিশন সিস্টেম’ (এফআরএস) ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানাসহ পার্শ্ববর্তী সব রাজ্যকেও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সহযোগিতার আশ্বাস সিজেপির
এদিকে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এক সংবাদ সম্মেলনে ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তবে তিনি জানান, প্রস্তাবিত এই কর্মসূচির বিষয়ে দিল্লি পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে। নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে তাদের সংগঠন পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
আন্দোলনের পটভূমি
সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যুতে ‘বিজেপিঘেঁষা’ হিসেবে পরিচিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তোলেন কমিশনের অপর দুই সদস্য। এই ঘটনার পর থেকেই ভারতের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক জোট ‘ইন্ডিয়া’ এবং বিভিন্ন তরুণ ও ছাত্র সংগঠন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজপথে নামে। সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং শাস্তির দাবিতে দেশজুড়ে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তারা।