ঢাকা ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কারে ভয়াবহ আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ ও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহনের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে ২০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি একটি তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে পেতে রাখা একটি শক্তিশালী সামুদ্রিক মাইনের (Marine Mine) আঘাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে৷ 
বিস্ফোরণের পর ট্যাঙ্কারটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে এবং আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সির’ বরাতে আলজাজিরা এ খবর জানায়। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌশাখা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইআরজিসির প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, অনুমোদনহীন একটি বিকল্প পথ ব্যবহার করে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করার সময় এই দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয় ট্যাঙ্কারটি। আইআরজিসির দাবি, মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহায়তায় ও রাডার ট্র্যাকিং সিস্টেম সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে কৌশলে জলযানটি প্রণালিটি অতিক্রম করতে চেয়েছিল৷

ঘটনার পর আইআরজিসির নৌবাহিনী এক কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ইরানের সামুদ্রিক নিরাপত্তা আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে মার্কিন শক্তির ওপর ভরসা রেখে চলাচলকারী যেকোনো দেশি-বিদেশি জাহাজের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়

ঘটনার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
উপকূলীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও আন্তর্জাতিক নৌ পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, সুপারট্যাঙ্কারটি বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল নিয়ে ওমান উপসাগরের দিকে যাচ্ছিল। হরমুজ প্রণালির সংকীর্ণ অংশ অতিক্রম করার সময় হঠাৎ একটি বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মাইনের আঘাতটি ট্যাঙ্কারের ইঞ্জিন রুম ও তেলের ট্যাংকের মাঝামাঝি অংশে লাগে, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায়।
ক্রু ও নাবিকদের অবস্থা: ট্যাঙ্কারে থাকা নাবিকদের উদ্ধারে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশের কোস্টগার্ড ও আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর জাহাজ উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা যায়নি।
পরিবেশ বিপর্যয়: বিস্ফোরণের ফলে ট্যাঙ্কার থেকে সাগরে প্রচুর পরিমাণে তেল ছড়িয়ে পড়ার (Oil Spill) আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও তেলের বাজারে প্রভাব
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০%) পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে যেকোনো ধরনের হামলা বা দুর্ঘটনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেয়।
১. জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা: ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই (WTI) উভয় ধরনের তেলের দাম ব্যারেল প্রতি কয়েক ডলার বেড়ে গেছে।

২. নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা: এই হামলার পেছনে কার হাত রয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক পরাশক্তি ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে দোষারোপের রাজনীতি শুরু হয়েছে। এই রুটে চলাচলকারী অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বিস্ফোরণকবলিত জাহাজটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার এবং আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার পর হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়েছে, যার প্রভাব বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কারে ভয়াবহ আগুন

আপডেট সময় : ০৯:৫২:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ ও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহনের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে ২০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি একটি তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে পেতে রাখা একটি শক্তিশালী সামুদ্রিক মাইনের (Marine Mine) আঘাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে৷ 
বিস্ফোরণের পর ট্যাঙ্কারটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে এবং আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সির’ বরাতে আলজাজিরা এ খবর জানায়। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌশাখা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইআরজিসির প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, অনুমোদনহীন একটি বিকল্প পথ ব্যবহার করে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করার সময় এই দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয় ট্যাঙ্কারটি। আইআরজিসির দাবি, মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহায়তায় ও রাডার ট্র্যাকিং সিস্টেম সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে কৌশলে জলযানটি প্রণালিটি অতিক্রম করতে চেয়েছিল৷

ঘটনার পর আইআরজিসির নৌবাহিনী এক কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ইরানের সামুদ্রিক নিরাপত্তা আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে মার্কিন শক্তির ওপর ভরসা রেখে চলাচলকারী যেকোনো দেশি-বিদেশি জাহাজের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়

ঘটনার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
উপকূলীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও আন্তর্জাতিক নৌ পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, সুপারট্যাঙ্কারটি বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল নিয়ে ওমান উপসাগরের দিকে যাচ্ছিল। হরমুজ প্রণালির সংকীর্ণ অংশ অতিক্রম করার সময় হঠাৎ একটি বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মাইনের আঘাতটি ট্যাঙ্কারের ইঞ্জিন রুম ও তেলের ট্যাংকের মাঝামাঝি অংশে লাগে, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায়।
ক্রু ও নাবিকদের অবস্থা: ট্যাঙ্কারে থাকা নাবিকদের উদ্ধারে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশের কোস্টগার্ড ও আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর জাহাজ উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা যায়নি।
পরিবেশ বিপর্যয়: বিস্ফোরণের ফলে ট্যাঙ্কার থেকে সাগরে প্রচুর পরিমাণে তেল ছড়িয়ে পড়ার (Oil Spill) আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও তেলের বাজারে প্রভাব
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০%) পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে যেকোনো ধরনের হামলা বা দুর্ঘটনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেয়।
১. জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা: ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই (WTI) উভয় ধরনের তেলের দাম ব্যারেল প্রতি কয়েক ডলার বেড়ে গেছে।

২. নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা: এই হামলার পেছনে কার হাত রয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক পরাশক্তি ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে দোষারোপের রাজনীতি শুরু হয়েছে। এই রুটে চলাচলকারী অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বিস্ফোরণকবলিত জাহাজটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার এবং আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার পর হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়েছে, যার প্রভাব বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।