ঢাকা ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মেয়াদ পূরনের আগেই ৩০টি লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) মধ্যে ১৮টিই অচল

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১০:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
দক্ষিণ কোরিয়ার খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান হুন্দাই রোটেম থেকে ৯৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা ৩০টি লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) মধ্যে ১৮টিই মাত্র চার বছরের মাথায় অচল হয়ে পড়েছে। ২০ বছর আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা এই ইঞ্জিনগুলো মেয়াদ ফুরানোর আগেই রেলের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সংকট মোকাবিলায় এবং আরও ৪০টি ইঞ্জিন সচল রাখতে বাংলাদেশ রেলওয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিন বছর মেয়াদি প্রায় ৬৮০ কোটি টাকার একটি রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ চুক্তি করার উদ্যোগ নিয়েছে। সংকটের নেপথ্যে: ৪ বছরেই ভাঙাচোরা বহর
২০২০ সালে কেনা ক্লাস ৩০০০-এর ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১৩টি সচল রয়েছে। বাকি ১৭টি ইঞ্জিন (ইঞ্জিন নম্বর: ৩০০২ থেকে ৩০০৫, ৩০০৮ থেকে ৩০১০, ৩০১২, ৩০১৩, ৩০১৫, ৩০১৭, ৩০১৮, ৩০২৪, ৩০২৬ থেকে ৩০২৮ এবং ৩০৩০) তীব্র যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ সংকটে পড়ে বসা অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে পূর্বাঞ্চল রেলে তীব্র ইঞ্জিন সংকট দেখা দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিয়মিত ট্রেন চলাচলের শিডিউলে।
৬৮০ কোটির নতুন প্রস্তাব
বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (স্টোর) মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, অচল ইঞ্জিনগুলো সচল করাসহ নিয়মিত কারিগরি সহযোগিতা ও যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে একটি বড় রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি চূড়ান্ত করা হচ্ছেচুক্তির অংশীদার: যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্রোগ্রেস রেল (Progress Rail) তাদের বাংলাদেশি এজেন্ট ‘দেশ ইন্টারন্যাশনাল’-এর মাধ্যমে এই সেবা দেবে। হুন্দাই রোটেমের ইঞ্জিনে ব্যবহৃত মূল কিছু যন্ত্রাংশের প্যাটেন্ট বা স্বত্ব এই মার্কিন কোম্পানির কাছে রয়েছে।
আওতাধীন লোকোমোটিভ: চুক্তির আওতায় মোট ৭০টি লোকোমোটিভ আসবে। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ব্যবহৃত দক্ষিণ কোরিয়ার ৩০টি এবং পশ্চিমাঞ্চলে চলমান আরও ৪০টি ইঞ্জিন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ব্যয়ের খাত: প্রস্তাবিত ৬৮০ কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকাই ব্যয় হবে বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যের খুচরা যন্ত্রাংশ (Spare parts) আমদানিতে। বাকি ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হবে দেশি-বিদেশি পরামর্শক, জনবল ও প্রশাসনিক খাতে।
চুক্তির বর্তমান অবস্থা ও লক্ষ্য
রেলওয়ের কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, এই চুক্তিটি কার্যকর হলে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা ও প্রাপ্যতা ৯৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। রেল মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে অর্থ বিভাগ এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার কিছু পর্যবেক্ষণ আসায় সেগুলো বর্তমানে সংশোধন করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এটি দ্রুতই পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চমূল্যে কেনা নতুন ইঞ্জিনগুলোর এত দ্রুত অচল হওয়া এবং তা মেরামতে পুনরায় বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচের এই পরিকল্পনা রেলের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও ক্রয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মেয়াদ পূরনের আগেই ৩০টি লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) মধ্যে ১৮টিই অচল

আপডেট সময় : ০৪:১০:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
দক্ষিণ কোরিয়ার খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান হুন্দাই রোটেম থেকে ৯৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা ৩০টি লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) মধ্যে ১৮টিই মাত্র চার বছরের মাথায় অচল হয়ে পড়েছে। ২০ বছর আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা এই ইঞ্জিনগুলো মেয়াদ ফুরানোর আগেই রেলের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সংকট মোকাবিলায় এবং আরও ৪০টি ইঞ্জিন সচল রাখতে বাংলাদেশ রেলওয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিন বছর মেয়াদি প্রায় ৬৮০ কোটি টাকার একটি রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ চুক্তি করার উদ্যোগ নিয়েছে। সংকটের নেপথ্যে: ৪ বছরেই ভাঙাচোরা বহর
২০২০ সালে কেনা ক্লাস ৩০০০-এর ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১৩টি সচল রয়েছে। বাকি ১৭টি ইঞ্জিন (ইঞ্জিন নম্বর: ৩০০২ থেকে ৩০০৫, ৩০০৮ থেকে ৩০১০, ৩০১২, ৩০১৩, ৩০১৫, ৩০১৭, ৩০১৮, ৩০২৪, ৩০২৬ থেকে ৩০২৮ এবং ৩০৩০) তীব্র যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ সংকটে পড়ে বসা অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে পূর্বাঞ্চল রেলে তীব্র ইঞ্জিন সংকট দেখা দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিয়মিত ট্রেন চলাচলের শিডিউলে।
৬৮০ কোটির নতুন প্রস্তাব
বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (স্টোর) মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, অচল ইঞ্জিনগুলো সচল করাসহ নিয়মিত কারিগরি সহযোগিতা ও যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে একটি বড় রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি চূড়ান্ত করা হচ্ছেচুক্তির অংশীদার: যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্রোগ্রেস রেল (Progress Rail) তাদের বাংলাদেশি এজেন্ট ‘দেশ ইন্টারন্যাশনাল’-এর মাধ্যমে এই সেবা দেবে। হুন্দাই রোটেমের ইঞ্জিনে ব্যবহৃত মূল কিছু যন্ত্রাংশের প্যাটেন্ট বা স্বত্ব এই মার্কিন কোম্পানির কাছে রয়েছে।
আওতাধীন লোকোমোটিভ: চুক্তির আওতায় মোট ৭০টি লোকোমোটিভ আসবে। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ব্যবহৃত দক্ষিণ কোরিয়ার ৩০টি এবং পশ্চিমাঞ্চলে চলমান আরও ৪০টি ইঞ্জিন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ব্যয়ের খাত: প্রস্তাবিত ৬৮০ কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকাই ব্যয় হবে বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যের খুচরা যন্ত্রাংশ (Spare parts) আমদানিতে। বাকি ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হবে দেশি-বিদেশি পরামর্শক, জনবল ও প্রশাসনিক খাতে।
চুক্তির বর্তমান অবস্থা ও লক্ষ্য
রেলওয়ের কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, এই চুক্তিটি কার্যকর হলে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা ও প্রাপ্যতা ৯৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। রেল মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে অর্থ বিভাগ এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার কিছু পর্যবেক্ষণ আসায় সেগুলো বর্তমানে সংশোধন করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এটি দ্রুতই পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চমূল্যে কেনা নতুন ইঞ্জিনগুলোর এত দ্রুত অচল হওয়া এবং তা মেরামতে পুনরায় বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচের এই পরিকল্পনা রেলের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও ক্রয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।