একটি সোনালী অধ্যায়ের মহাকাব্যিক সমাপ্তি,গোলে গোলে বিদায় মেসি
ক্রীড়া ডেস্ক
- আপডেট সময় : ০৪:২১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ৭৮ বার পড়া হয়েছে
লিওনেল মেসি—শুধু একটি নাম নয়, বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের এক চিরউজ্জ্বল নক্ষত্র। অসংখ্য রেকর্ড, চোখ ধাঁধানো ব্যক্তিগত অর্জন আর দলীয় সাফল্যে যিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরের এক কিংবদন্তির কাতারে। আর্জেন্টিনার হয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২২ সালে সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন। সেই মহানায়ক এবার জাতীয় দলের আকাশী-সাদা জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেললেন। বিদায়ের মঞ্চেও তিনি রইলেন নিজের চেনা ছন্দে, উপহার দিলেন জাদুকরী পারফরম্যান্স। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দুর্দান্ত জয়ে নিজে এক গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করালেন আরও দুটি গোল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক এল মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ছিল আবেগঘন পরিবেশ। বিদায়ী ম্যাচের শুরুতে সতীর্থ নিকোলাস ওতামেন্দি এবং তরুণ তুর্কি নিকো পাজকে দিয়ে দুটি গোল করান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এরপর ৭১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে এটিই তার শেষ আন্তর্জাতিক গোল। ক্যারিয়ারের ২০৮তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে এসে ১ গোল ও ২ অ্যাসিস্টের এই রাজকীয় পারফরম্যান্সের পর, মেসির বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটল ১২৬টি গোল ও ৭০টি অ্যাসিস্টের মহাকাব্যিক পরিসংখ্যানে।
খেলার শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের রেফারি মেসির হাতে স্মারক হিসেবে একটি বিশেষ বক্স তুলে দেন। তবে ম্যাচ শেষ হলেও মনুমেন্টালের গ্যালারি ঠাসা হাজারো দর্শক মাঠ ছাড়েননি। তারা অপেক্ষা করছিলেন ফুটবল ঈশ্বরের বিদায়লগ্নের সেই বিশেষ মুহূর্তটির জন্য। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্টেডিয়ামের রাতের আকাশ আলো করে শুরু হয় এক চোখ ধাঁধানো ড্রোন শো। শত শত ড্রোনের আলোয় প্রথমে ফুটিয়ে তোলা হয় আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকা। এরপর আকাশে ভেসে ওঠে জাদুকরী নম্বর ‘মেসি, ১০’। পুরো স্টেডিয়াম তখন গগনবিদারি উল্লাসে ফেটে পড়ে।
ড্রোন শোর সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে যখন আকাশে ড্রোনের আলোয় ফুটে ওঠে ২০২২ বিশ্বকাপে ট্রফি হাতে মেসির সেই ঐতিহাসিক ছবি। যে ট্রফির জন্য দীর্ঘ বছর ধরে লড়াই করেছেন, বিদায়ের রাতেও সেই পরম আরাধ্য গৌরবময় স্মৃতিই ফিরে আসে মনুমেন্টালের আকাশে। এরপর একে একে ড্রোনে ভেসে ওঠে ‘গ্রাসিয়াস, লিও’ (ধন্যবাদ লিও) ও ‘গ্রাসিয়াস আর্জেন্টিনা’ বার্তা। সবশেষে ড্রোনের আলো দিয়ে তৈরি হয় মেসির অবয়ব।
আকাশের এই আলোর মেলার সমান্তরালে মাঠের দৃশ্যটি ছিল ভীষণ বেদনা বিধুর। সতীর্থদের মাঝে দাঁড়িয়ে নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি এলএমটেন। অশ্রুসিক্ত এই জীবন্ত কিংবদন্তিকে ঘিরে একে একে দাঁড়িয়ে পড়েন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা, যেন তারা আগলে রাখছিলেন তাদের প্রিয় দলনেতাকে। পুরো মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম করতালির মাধ্যমে বিদায়ী সম্মান জানায় ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই জাদুকরকে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির এই শূন্যতা হয়তো কোনোদিন পূরণ হবে না, তবে তার রেখে যাওয়া ১২৬ গোলের কীর্তি আর ফুটবল পায়ে জাদুর গল্পগুলো কোটি ভক্তের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে চিরকাল



















