রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা
- আপডেট সময় : ১২:৩৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / ৬১ বার পড়া হয়েছে
২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন৷ কে হবেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি? এ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা৷ ইতো মধ্যে সরকারি দল বিএনপি থেকে দুটি নাম জোরালোভাবে ভেসে আসছে৷ একজন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অন্যজন ড. মঈন খান৷
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও গ্রহণযোগ্য অভিবাবক। বারবার নির্বাচিত সাংসদ ও একাধিকবারের অভিজ্ঞ মন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়ন সমন্বয় ও মন্ত্রিসভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাশে একজন দক্ষ অভিবাবকত্বের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলামের বিকল্প নেই। দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম ও মহাসচিব হিসেবে দায়ীত্ব পালনের ফলে তৃনমুলের নেতাকর্মীদের মনোভাব অনুধাবন করা উনার পক্ষেই সম্ভব। সরকারের বাইরে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল ও শক্তিশালী রাখতে হলে পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্বপদে রাখা অনিবার্য এবং সরকারের পূর্ণ মেয়াদে মন্ত্রীসভায় থাকলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত শক্তিশালী হবে। ফলে দল ও দেশ উপকৃত হবে।
পরবর্তি রাষ্ট্রপতির আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন স্যার নি:সন্দেহে শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ নেতা। তবে বয়সের ভারে কাবু। অসুস্থতাজনিত: কারণে বিগত ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম ও দলের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে কম দেখা গেছে। বিশেষকরে ২০১৮ নির্বাচনের পরে ফ্যাসিষ্ট হাসিনার পলায়ন পর্যন্ত বেশিরভাগ সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং সক্রিয় রাজনীতিতে উপস্থিতি কম ছিলো।
অপরদিকে রাষ্ট্রপতির আলোচনায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী বলে মনেহয়। তিনি উচ্চশিক্ষিত, মেধাবী, বিনয়ী, সাবেক সৎ ও সফল মন্ত্রী হিসেবে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য। তাঁর বাবা সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মোমিন খান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন এবং বিএনপির প্রথম কমিটির সপ্তম সদস্য। যে কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ড. মঈন খান ও তার বাবা বিগত ৫০ বছর যাবত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদ জিয়া এবং জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল ও বিশ্বস্ত রয়েছেন।
জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা ও কূটনীতিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক, সততা, অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সুদৃঢ় সুনামের কারণে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নেয়ার জন্য অত্যন্ত যোগ্য ব্যক্তি ড. মঈন খান। এছাড়াও তিনি ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সকল কর্মসূচিতে সম্মুখ সারিতে ছিলেন। ফ্যাসিষ্ট সরকার ২৮ অক্টোবর ২০২৩ বিএনপির মহাসমাবেশ পন্ড করে মহাসচিবসহ অনেক নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে দলকে নেতৃত্ব শূন্য করতে চেয়েছিলো। তারপর দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় সাহসিকতার সঙ্গে মাঠে থেকে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন ড. মঈন খান। দলের সকল সভা-সমাবেশ, সেমিনার, মিছিল এবং তৎকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের মিটিং গুলোতে নিয়মিত প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
আশাকরি রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের জন্য একক ক্ষমতাপ্রাপ্ত দলের চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্যাগ ও বিশ্বস্ততার মূল্যায়ন এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ড. মঈন খানের মত যোগ্য ও নিবেদিত প্রাণ নেতাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করবেন।
লেখক:
এস এম হুমায়ুন পাটওয়ারী
মানবাধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

























