ঢাকা ০৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ওয়াকিমুলের স্মার্ট কারে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:০৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • / ৪৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শারিরীক প্রতিবন্ধী। ছোট-খাটো দেহ। তাও আবার কুজো। সব মিলে ওয়াকিমুল ইসলামের উচ্ছতা দুই থেকে তিন ফুট। কিন্তু মনের জোর থাকে যদি প্রবল,স্বপ্ন থাকে আকাশ ছোঁয়ার, তাহলে বাস্তবতা কিছু না কিছু হলেও ঘটে। পৃথিবীতে প্রতিটি আবিষ্কারই হয়েছে চিন্তা শক্তি আর স্বপ্ন থেকে। আজ মানুষ হাজারো মাইলের দূরত্বটাকে কাছে নিয়ে আনতে পেরেছে মূলত গতিশীল চিন্তা-ভাবনা আর স্বপ্ন থেকেই।

বাংলাদেশেও এমনি ভাবনা জেগে ওঠেছে তরুণ সমাজে। সোস্যাল মিডিয়ায় বিচরণ করলে দেখা যায় বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদীয়মান তরুণদের প্রতিভা। কেউ হিলকপটার বানিয়ে আকাশে উড়ছেন,কেউ পানি থেকে আবার আকাশে উড়াচ্ছেন। আবার দেখা যায় নিজস্ব উদ্যোগে ড্রোন বানিয়ে আকাশে উড়াতে। আবার দেখা যায় নিজের বানানো রেসিং কার চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসতে। এরা প্রায় সবাই কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী।

আজ শনিবার ৫ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যে দৃশ্যটি পুরো সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে তা হচ্ছে একজন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর বানানো স্মাট কারে চড়ে আছেন প্রধানমন্ত্রী। শারিরীক প্রতিবন্ধী হয়েও ওয়াকিুলের স্বপ্ন ছোঁয়া দেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিস্মিত। মুগ্ধ হয়ে দেখেছেন স্মার্ট কারটি। শুধু তাই নয়, ওয়াকিমুলের বানানো খোলা কারে বসে তার কাছ থেকে জানলেন নানা তথ্য।

শনিবার (৯ মে) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওয়াকিমুলকে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে তার তৈরি গাড়িতে বসে ওয়াকিমুলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ছোট্ট গাড়িটি চালাচ্ছেন ওয়াকিমুল, আর পাশে বসে আছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী গাড়িটির নির্মাণ প্রক্রিয়া, আরও উন্নত করার সম্ভাবনা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত জানতে চান তার কাছে। জবাবে ওয়াকিমুল জানান, গাড়িটির কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি, মাত্র ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এ সময় ওয়াকিমুলের বাবাও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন।

ওয়াকিমুল ইসলাম যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ছেন। বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থীর বাবা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
ওয়াকিমুল ইসলাম জানান, সহযোগিতা পেলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও উন্নতমানের স্মার্ট কার বানানো সম্ভব। এটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিরাও ব্যবহার করতে পারবেন।

ওয়াকিমুল ইসলামের সঙ্গে এসেছিলেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল। তিনি জানান, গাড়িটি বৈদ্যুতিক চার্জে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতি ৪৫ কিলোমিটার।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ওয়াকিমুলের স্মার্ট কারে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:০৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

শারিরীক প্রতিবন্ধী। ছোট-খাটো দেহ। তাও আবার কুজো। সব মিলে ওয়াকিমুল ইসলামের উচ্ছতা দুই থেকে তিন ফুট। কিন্তু মনের জোর থাকে যদি প্রবল,স্বপ্ন থাকে আকাশ ছোঁয়ার, তাহলে বাস্তবতা কিছু না কিছু হলেও ঘটে। পৃথিবীতে প্রতিটি আবিষ্কারই হয়েছে চিন্তা শক্তি আর স্বপ্ন থেকে। আজ মানুষ হাজারো মাইলের দূরত্বটাকে কাছে নিয়ে আনতে পেরেছে মূলত গতিশীল চিন্তা-ভাবনা আর স্বপ্ন থেকেই।

বাংলাদেশেও এমনি ভাবনা জেগে ওঠেছে তরুণ সমাজে। সোস্যাল মিডিয়ায় বিচরণ করলে দেখা যায় বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদীয়মান তরুণদের প্রতিভা। কেউ হিলকপটার বানিয়ে আকাশে উড়ছেন,কেউ পানি থেকে আবার আকাশে উড়াচ্ছেন। আবার দেখা যায় নিজস্ব উদ্যোগে ড্রোন বানিয়ে আকাশে উড়াতে। আবার দেখা যায় নিজের বানানো রেসিং কার চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসতে। এরা প্রায় সবাই কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী।

আজ শনিবার ৫ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যে দৃশ্যটি পুরো সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে তা হচ্ছে একজন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর বানানো স্মাট কারে চড়ে আছেন প্রধানমন্ত্রী। শারিরীক প্রতিবন্ধী হয়েও ওয়াকিুলের স্বপ্ন ছোঁয়া দেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিস্মিত। মুগ্ধ হয়ে দেখেছেন স্মার্ট কারটি। শুধু তাই নয়, ওয়াকিমুলের বানানো খোলা কারে বসে তার কাছ থেকে জানলেন নানা তথ্য।

শনিবার (৯ মে) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওয়াকিমুলকে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে তার তৈরি গাড়িতে বসে ওয়াকিমুলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ছোট্ট গাড়িটি চালাচ্ছেন ওয়াকিমুল, আর পাশে বসে আছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী গাড়িটির নির্মাণ প্রক্রিয়া, আরও উন্নত করার সম্ভাবনা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত জানতে চান তার কাছে। জবাবে ওয়াকিমুল জানান, গাড়িটির কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি, মাত্র ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এ সময় ওয়াকিমুলের বাবাও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন।

ওয়াকিমুল ইসলাম যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ছেন। বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থীর বাবা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
ওয়াকিমুল ইসলাম জানান, সহযোগিতা পেলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও উন্নতমানের স্মার্ট কার বানানো সম্ভব। এটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিরাও ব্যবহার করতে পারবেন।

ওয়াকিমুল ইসলামের সঙ্গে এসেছিলেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল। তিনি জানান, গাড়িটি বৈদ্যুতিক চার্জে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতি ৪৫ কিলোমিটার।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।