ঢাকা ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

আমিরাতের রাজপরিবারের সদস্য সেজে ২৩০ কোটি টাকার জালিয়াতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:০৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • / ৪৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমিরাতের রাজপরিবারের সদস্য সেজে ২৩০ কোটি টাকার জালিয়াতি ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দু’জনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।জালিয়াতির অভিযোগে মার্কিন এই দুই নাগরিককে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার দেশটির ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত দুই সহোদর ৪২ বছর বয়সী জুবায়ের আল জুবায়েরকে ২৪ বছর এবং ৩১ বছরের মুজাম্মিল আল জুবায়েরকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুই ভাই ঘুষ প্রদান, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের মতো অপরাধে জড়িত ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় বিচারক ডোনাল্ড নুজেন্ট ওই দুই ভাইয়ের উদ্দেশে বলেন, ‌‌‘‘আপনারা বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরি, মানুষের সঙ্গে প্রতারণা এবং ইস্ট ক্লিভল্যান্ড শহরকে অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছেন। রোলস-রয়েস চালিয়ে এবং ব্যক্তিগত বিমানে ঘুরে আপনারা মূলত নিজেদের অপরাধকে জাহির করেছেন।’’

আদালত বলেছেন, ওই দুই ভাই নিজেদের এমনভাবে তুলে ধরতেন যেন তারা অত্যন্ত সম্পদশালী এবং অভিজাত মহলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রয়েছে। জুবায়ের মিথ্যা দাবি করেছিলেন, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক রাজকুমারীকে বিয়ে করেছেন। অন্যদিকে মুজাম্মিল কেবল ইউটিউব ভিডিও দেখে নিজেকে একটি হেজ ফান্ড প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক হিসেবে পরিচয় দিতেন।

আদালতের প্রসিকিউটররা বলেন, ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি, করোনা মহামারির ত্রাণ তহবিল এবং ভুয়া বিনিয়োগের নামে অন্তত ২ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন জুবায়ের আল জুবায়ের ও মুজাম্মিল আল জুবায়ের।

তদন্তে দেখা যায়, তারা এক চীনা বিনিয়োগকারীকে একটি শিল্প কমপ্লেক্সের মালিকানা এবং সেখানে ক্রিপ্টো ব্যবসা শুরুর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার আত্মসাৎ করেন। এছাড়া জুবায়েরের সাবেক আমিরাতি প্রেমিকাও এই চক্রের হাতে ৭ লাখ ৩৭ হাজার ডলার হারিয়েছেন।

হাতিয়ে নেওয়া এই অর্থ দিয়ে ব্যক্তিগত বিমানে করে অ্যাসপেন, মিয়ামি, লন্ডন এবং মাদ্রিদের মতো শহরে ভ্রমণ করতেন ওই দুই ভাই। এছাড়া তাদের সংগ্রহে ছিল নামী ব্র্যান্ডের গাড়ি, দামি ঘড়ি এবং সোনায় মোড়ানো একে-৪৭ সদৃশ রাইফেল।

নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার জন্য ইস্ট ক্লিভল্যান্ডের মেয়রের চিফ অব স্টাফ ৫৬ বছর বয়সী মাইকেল স্মেডলিকে ঘুষও দিয়েছিলেন তারা। স্মেডলিকে নগদ অর্থ ছাড়াও জাপানি ওয়াগিউ বিফ, ক্লিভল্যান্ড ব্রাউনস দলের খেলার টিকিট, দামি সিগারেট এবং ভবিষ্যৎ চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

বিনিময়ে স্মেডলি তার পদের অপব্যবহার করে জুবায়ের ও মুজাম্মিলকে ব্যবসায়িক কাজে সরকারি প্যাড ব্যবহার করতে দেন এবং জুবায়েরকে শহরের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন।

দুই সপ্তাহের বিচার প্রক্রিয়া শেষে ফেডারেল জুরি বোর্ড এই তিনজনকে ঘুষের ষড়যন্ত্র, জালিয়াতি এবং অর্থপাচারসহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে। ওই দুই সহোদরের পাশাপাশি মেয়রের সাবেক সহকারী মাইকেল স্মেডলিকেও আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আদালত তাদেরকে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আমিরাতের রাজপরিবারের সদস্য সেজে ২৩০ কোটি টাকার জালিয়াতি

আপডেট সময় : ০৮:০৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

আমিরাতের রাজপরিবারের সদস্য সেজে ২৩০ কোটি টাকার জালিয়াতি ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দু’জনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।জালিয়াতির অভিযোগে মার্কিন এই দুই নাগরিককে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার দেশটির ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত দুই সহোদর ৪২ বছর বয়সী জুবায়ের আল জুবায়েরকে ২৪ বছর এবং ৩১ বছরের মুজাম্মিল আল জুবায়েরকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুই ভাই ঘুষ প্রদান, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের মতো অপরাধে জড়িত ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় বিচারক ডোনাল্ড নুজেন্ট ওই দুই ভাইয়ের উদ্দেশে বলেন, ‌‌‘‘আপনারা বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরি, মানুষের সঙ্গে প্রতারণা এবং ইস্ট ক্লিভল্যান্ড শহরকে অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছেন। রোলস-রয়েস চালিয়ে এবং ব্যক্তিগত বিমানে ঘুরে আপনারা মূলত নিজেদের অপরাধকে জাহির করেছেন।’’

আদালত বলেছেন, ওই দুই ভাই নিজেদের এমনভাবে তুলে ধরতেন যেন তারা অত্যন্ত সম্পদশালী এবং অভিজাত মহলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রয়েছে। জুবায়ের মিথ্যা দাবি করেছিলেন, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক রাজকুমারীকে বিয়ে করেছেন। অন্যদিকে মুজাম্মিল কেবল ইউটিউব ভিডিও দেখে নিজেকে একটি হেজ ফান্ড প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক হিসেবে পরিচয় দিতেন।

আদালতের প্রসিকিউটররা বলেন, ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি, করোনা মহামারির ত্রাণ তহবিল এবং ভুয়া বিনিয়োগের নামে অন্তত ২ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন জুবায়ের আল জুবায়ের ও মুজাম্মিল আল জুবায়ের।

তদন্তে দেখা যায়, তারা এক চীনা বিনিয়োগকারীকে একটি শিল্প কমপ্লেক্সের মালিকানা এবং সেখানে ক্রিপ্টো ব্যবসা শুরুর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার আত্মসাৎ করেন। এছাড়া জুবায়েরের সাবেক আমিরাতি প্রেমিকাও এই চক্রের হাতে ৭ লাখ ৩৭ হাজার ডলার হারিয়েছেন।

হাতিয়ে নেওয়া এই অর্থ দিয়ে ব্যক্তিগত বিমানে করে অ্যাসপেন, মিয়ামি, লন্ডন এবং মাদ্রিদের মতো শহরে ভ্রমণ করতেন ওই দুই ভাই। এছাড়া তাদের সংগ্রহে ছিল নামী ব্র্যান্ডের গাড়ি, দামি ঘড়ি এবং সোনায় মোড়ানো একে-৪৭ সদৃশ রাইফেল।

নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার জন্য ইস্ট ক্লিভল্যান্ডের মেয়রের চিফ অব স্টাফ ৫৬ বছর বয়সী মাইকেল স্মেডলিকে ঘুষও দিয়েছিলেন তারা। স্মেডলিকে নগদ অর্থ ছাড়াও জাপানি ওয়াগিউ বিফ, ক্লিভল্যান্ড ব্রাউনস দলের খেলার টিকিট, দামি সিগারেট এবং ভবিষ্যৎ চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

বিনিময়ে স্মেডলি তার পদের অপব্যবহার করে জুবায়ের ও মুজাম্মিলকে ব্যবসায়িক কাজে সরকারি প্যাড ব্যবহার করতে দেন এবং জুবায়েরকে শহরের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন।

দুই সপ্তাহের বিচার প্রক্রিয়া শেষে ফেডারেল জুরি বোর্ড এই তিনজনকে ঘুষের ষড়যন্ত্র, জালিয়াতি এবং অর্থপাচারসহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে। ওই দুই সহোদরের পাশাপাশি মেয়রের সাবেক সহকারী মাইকেল স্মেডলিকেও আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আদালত তাদেরকে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট।