ঢাকা ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বিপিএল দূর্নীতি: ৯০০ পৃষ্ঠার তদন্ত রিপোর্ট, ফ্যাঞ্চাইজিসহ ৫ কর্মকর্তা নিষিদ্ধ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / ৫৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিপিএল ফিক্সিং নিয়ে ফের উত্তাল বাংলাদেশের ক্রিকেট। বাংলাাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আহবায়ক কমিটি যখন আরেকটি বিপিএল আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ঠিক তখনি আলোচনার ঝড় বইছে ২০২৫ সালের ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে। মাত্র চার মাস আগে সম্পন্ন হওয়া বিপিএল নিয়ে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ক্রিকেটারসহ অন্তত ৪ জনের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমানও পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ ছাড়া অন্য আসরে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও একজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিসিবি জানিয়েছে, বিপিএল ২০২৫ ফিক্সিং কাণ্ডে তদন্ত শেষে শাস্তি পাচ্ছেন ক্রিকেটারসহ ৪ জন। এর মধ্যে ক্রিকেটার হিসেবে শাস্তি পেয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার। এ ছাড়া টিম ম্যানেজার লাবলুর রহমান, ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ।

সর্বশেষ বিপিএল নিয়ে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করার পর বিসিবি অন্তত পাঁচজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পাঁচজনের বিপক্ষে নিষেধাজ্ঞা জারির কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটি। এই পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন অমিত মজুমদার নামে চট্টগ্রাম রয়্যালসের এক ক্রিকেটার। এছাড়া রয়েছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও কর্মকর্তার নাম।

বিসিবি থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ঘিরে আবারও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের তদন্তে জুয়া, দুর্নীতির প্রস্তাব, তদন্তে অসহযোগিতা এবং তথ্য গোপনের মতো গুরুতর অভিযোগে কয়েকজন ক্রিকেটার, টিম কর্মকর্তা ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য নোটিশ পাওয়ার পর থেকে ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এই পর্যায়ে বিসিবি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করবে না বলেও জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া বিপিএলের ৯ম, ১০ম এবং ১১তম আসরে দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘বিসিবি এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’ (বহিষ্কৃত ব্যক্তি নীতিমালা) এর অধীনে একটি ‘এক্সক্লুশন অর্ডার’ বা বহিষ্কারাদেশ জারি করেছে বিসিবি। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম, খেলোয়াড় ও এজেন্টদের দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া এবং দেশি-বিদেশি বেটিং সিন্ডিকেটের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে ম্যাচ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিতে ভূমিকা রেখেছেন। নোটিশ পাওয়ার পর জনাব রহমান তার আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ত্যাগ করে এই বহিষ্কারাদেশ মেনে নিয়েছেন।

বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসি দুর্নীতি বিরোধী কোড বা বিধিমালার (দ্য ‘কোড’) বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের দায়ে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়, দলের কর্মকর্তা, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক এবং অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টি (বিপিএল টি-টোয়েন্টি) এর ১২তম আসরকে কেন্দ্র করে বিসিবি ইনটেগ্রিটি ইউনিটের (বিসিবিআইইউ) তদন্তের প্রেক্ষিতে এই অভিযোগগুলো আনা হয়েছে। তদন্তে দুর্নীতির চেষ্টা, বেটিং বা জুয়ায় সম্পৃক্ততা, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্ত কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগগুলো মূলত জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম, দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া, বিধিমালার অনুচ্ছেদ ৪.৩ এর অধীনে জারি করা নোটিশ পালনে ব্যর্থতা, তথ্য আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ গোপন বা মুছে ফেলা এবং নির্ধারিত দুর্নীতি বিরোধী কর্মকর্তার (ড্যাকো) সাথে সহযোগিতা না করার সাথে সম্পর্কিত।

অভিযুক্তদের মধ্যে টিম ম্যানেজার মো. লাবলুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সহযোগিতা না করা এবং আইসিসির দুর্নীতি দমন বিধির ৪.৩ আর্টিকেল অনুযায়ী পাঠানো ‘ডিমান্ড নোটিশ’র জবাব না দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তদন্ত কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি, তথ্য গোপন ও যোগাযোগের তথ্য ডিলিট করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজির সহ-মালিক মো. তৌহিদুল হক তৌহিদের বিরুদ্ধেও। বিসিবির দাবি, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্ত বিলম্বিত করতে তথ্য গোপন বা ধ্বংস করার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।

অন্যদিকে ক্রিকেটার অমিত মজুমদারের (চট্টগ্রাম রয়্যালস) বিরুদ্ধে সরাসরি ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে বাজি ধরার অভিযোগ আনা হয়েছে। আইসিসির দুর্নীতি দমন বিধির ২.২.১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি বা অন্য যে কোনো বিষয়ে বাজি ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকীও।

বিসিবি জানিয়েছে, অভিযুক্ত সবাইকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে আপিলের সুযোগ পাচ্ছেন না। অভিযোগপত্র পাওয়ার পর তাদের হাতে ১৪ দিন সময় থাকবে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য। এ বিষয়ে আপাতত আর কোনো মন্তব্য করবে না বলেও জানিয়েছে বিসিবি। এদিকে পৃথক আরেক তদন্তে সামিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিসিবির ‘এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের বিপিএল চলাকালেই ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিসিবির তৎকালীন সভাপতি ফারুক আহমেদ একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পর কমিটি বিসিবির কাছে প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার একটি বিশাল তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্ট এরপর তুলে দেওয়া হয় বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালকে। এরপর যাচাই বাছাই করে ক্রিকেটার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার প্রমাণ পান।

সবশেষ বিপিএলের নিলামে ছিলেন না এনামুল হক বিজয়-মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতসহ আরো বেশ কিছু ক্রিকেটার। মূলত বিপিএলের ২০২৫ মৌসুম আসরে ফিক্সিং সন্দেহের কারণে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে খেলতে দেয়া হয়নি এবারের বিপিএলে। যদিও বিসিবির চূড়ান্ত রিপোর্টে তাদের নাম নেই।

অভিযুক্তরা হচ্ছেন 

মো. লাবলুর রহমান (টিম ম্যানেজার)
মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ (ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক)
অমিত মজুমদার (ঘরোয়া ক্রিকেটার)
রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী (টিম ম্যানেজার)

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিপিএল দূর্নীতি: ৯০০ পৃষ্ঠার তদন্ত রিপোর্ট, ফ্যাঞ্চাইজিসহ ৫ কর্মকর্তা নিষিদ্ধ

আপডেট সময় : ০৯:১৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

বিপিএল ফিক্সিং নিয়ে ফের উত্তাল বাংলাদেশের ক্রিকেট। বাংলাাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আহবায়ক কমিটি যখন আরেকটি বিপিএল আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ঠিক তখনি আলোচনার ঝড় বইছে ২০২৫ সালের ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে। মাত্র চার মাস আগে সম্পন্ন হওয়া বিপিএল নিয়ে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ক্রিকেটারসহ অন্তত ৪ জনের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমানও পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ ছাড়া অন্য আসরে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও একজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিসিবি জানিয়েছে, বিপিএল ২০২৫ ফিক্সিং কাণ্ডে তদন্ত শেষে শাস্তি পাচ্ছেন ক্রিকেটারসহ ৪ জন। এর মধ্যে ক্রিকেটার হিসেবে শাস্তি পেয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার। এ ছাড়া টিম ম্যানেজার লাবলুর রহমান, ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ।

সর্বশেষ বিপিএল নিয়ে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করার পর বিসিবি অন্তত পাঁচজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পাঁচজনের বিপক্ষে নিষেধাজ্ঞা জারির কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটি। এই পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন অমিত মজুমদার নামে চট্টগ্রাম রয়্যালসের এক ক্রিকেটার। এছাড়া রয়েছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও কর্মকর্তার নাম।

বিসিবি থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ঘিরে আবারও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের তদন্তে জুয়া, দুর্নীতির প্রস্তাব, তদন্তে অসহযোগিতা এবং তথ্য গোপনের মতো গুরুতর অভিযোগে কয়েকজন ক্রিকেটার, টিম কর্মকর্তা ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য নোটিশ পাওয়ার পর থেকে ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এই পর্যায়ে বিসিবি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করবে না বলেও জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া বিপিএলের ৯ম, ১০ম এবং ১১তম আসরে দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘বিসিবি এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’ (বহিষ্কৃত ব্যক্তি নীতিমালা) এর অধীনে একটি ‘এক্সক্লুশন অর্ডার’ বা বহিষ্কারাদেশ জারি করেছে বিসিবি। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম, খেলোয়াড় ও এজেন্টদের দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া এবং দেশি-বিদেশি বেটিং সিন্ডিকেটের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে ম্যাচ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিতে ভূমিকা রেখেছেন। নোটিশ পাওয়ার পর জনাব রহমান তার আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ত্যাগ করে এই বহিষ্কারাদেশ মেনে নিয়েছেন।

বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসি দুর্নীতি বিরোধী কোড বা বিধিমালার (দ্য ‘কোড’) বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের দায়ে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়, দলের কর্মকর্তা, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক এবং অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টি (বিপিএল টি-টোয়েন্টি) এর ১২তম আসরকে কেন্দ্র করে বিসিবি ইনটেগ্রিটি ইউনিটের (বিসিবিআইইউ) তদন্তের প্রেক্ষিতে এই অভিযোগগুলো আনা হয়েছে। তদন্তে দুর্নীতির চেষ্টা, বেটিং বা জুয়ায় সম্পৃক্ততা, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্ত কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগগুলো মূলত জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম, দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া, বিধিমালার অনুচ্ছেদ ৪.৩ এর অধীনে জারি করা নোটিশ পালনে ব্যর্থতা, তথ্য আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ গোপন বা মুছে ফেলা এবং নির্ধারিত দুর্নীতি বিরোধী কর্মকর্তার (ড্যাকো) সাথে সহযোগিতা না করার সাথে সম্পর্কিত।

অভিযুক্তদের মধ্যে টিম ম্যানেজার মো. লাবলুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সহযোগিতা না করা এবং আইসিসির দুর্নীতি দমন বিধির ৪.৩ আর্টিকেল অনুযায়ী পাঠানো ‘ডিমান্ড নোটিশ’র জবাব না দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তদন্ত কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি, তথ্য গোপন ও যোগাযোগের তথ্য ডিলিট করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজির সহ-মালিক মো. তৌহিদুল হক তৌহিদের বিরুদ্ধেও। বিসিবির দাবি, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্ত বিলম্বিত করতে তথ্য গোপন বা ধ্বংস করার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।

অন্যদিকে ক্রিকেটার অমিত মজুমদারের (চট্টগ্রাম রয়্যালস) বিরুদ্ধে সরাসরি ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে বাজি ধরার অভিযোগ আনা হয়েছে। আইসিসির দুর্নীতি দমন বিধির ২.২.১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি বা অন্য যে কোনো বিষয়ে বাজি ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকীও।

বিসিবি জানিয়েছে, অভিযুক্ত সবাইকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে আপিলের সুযোগ পাচ্ছেন না। অভিযোগপত্র পাওয়ার পর তাদের হাতে ১৪ দিন সময় থাকবে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য। এ বিষয়ে আপাতত আর কোনো মন্তব্য করবে না বলেও জানিয়েছে বিসিবি। এদিকে পৃথক আরেক তদন্তে সামিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিসিবির ‘এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের বিপিএল চলাকালেই ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিসিবির তৎকালীন সভাপতি ফারুক আহমেদ একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পর কমিটি বিসিবির কাছে প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার একটি বিশাল তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্ট এরপর তুলে দেওয়া হয় বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালকে। এরপর যাচাই বাছাই করে ক্রিকেটার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার প্রমাণ পান।

সবশেষ বিপিএলের নিলামে ছিলেন না এনামুল হক বিজয়-মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতসহ আরো বেশ কিছু ক্রিকেটার। মূলত বিপিএলের ২০২৫ মৌসুম আসরে ফিক্সিং সন্দেহের কারণে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে খেলতে দেয়া হয়নি এবারের বিপিএলে। যদিও বিসিবির চূড়ান্ত রিপোর্টে তাদের নাম নেই।

অভিযুক্তরা হচ্ছেন 

মো. লাবলুর রহমান (টিম ম্যানেজার)
মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ (ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক)
অমিত মজুমদার (ঘরোয়া ক্রিকেটার)
রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী (টিম ম্যানেজার)