ঢাকা ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মিশরের প্রথম জয়,ড্রয়ে আবারো চমক দেখালো ইরান ও কেপ ভার্দে

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • / ৪২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বকাপ মিশনে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে মিশর। আগের ম্যাচে বেলজিয়ামের জন্য ড্র করার কষ্ট তাতে কিছুটা লাগব হয়েছে মিশরীয়দের। এদিন তারকা ফুটবলার সালেহও পেয়েছেন বিশ্বকাপে প্রথম গোল। তার নৈপুন্যে দূর্দান্ত কাম ব্যাক। রীতি মতো ৩-১ গোলে হারিয়েছে হোসাম হাসানের দল নিউজিল্যান্ডকে। অথচ শুরুতেই পিছিয়ে পড়েছিল মিশর। সে হতাশা কাটিয়ে লিখলো প্রত্যাবর্তনের গল্প। যা কিনা উত্তর আফ্রিকার দেশটিকে রাখলো নকআউট পর্বের দৌড়ে সুবিধাজনক অবস্থানে।
একই দিন দেখা মিললো নবাগত কেপভার্দে ও ইরানের চমক। এই দুটি দল আটকে দিয়েছে যথাক্রমে উরুগুয়ে ও বেলজিয়ামকে। কেপভার্দে ও উরুগুয়ে ম্যাচটি শেষ হয় ২-২ গোলে। অন্যদিকে আক্রমন-পাল্টাআক্রমনের ম্যাচে ইরান ও বেলজিয়াম ম্যাচটি গোলশুন্যে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে।

মিশর ৩-১ গোলে দক্ষিণ আফ্রিকা হারালো

কানাডার ভেনকুভারে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে কিক অফের ১৫ মিনিটেই গোল হজম করে মিশর। ডিফেন্ডার ফিন সারম্যানের নিখুত হেডে এগিয়ে যাওয়া নিউজিল্যান্ড অবশ্য শেষ পর্যন্ত আটকে রাখতে পারেনি মিশরের আক্রমনের চাপ। গোল খেয়েও দলটি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল পেয়ে যায়। এ সময় মিশরকে ১-১ সমতায় ফিরান এম জিকো। এরপর ৬৭ ও ৮২ মিনিটে আরো দুটি গোল করে বিজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সালাহ‘র মিশর।

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়েও উত্তেজনার কমতি ছিল না। ৯৩ মিনিটে জিজো নিউজিল্যান্ডের গোলরক্ষককে কাটিয়ে ফাঁকা পোস্টে শট নিলেও গোললাইন থেকে তা প্রতিহত করেন কিউই ডিফেন্ডার ক্রোকোম্ব। শেষ মুহূর্তে মাথায় আঘাত পেয়ে মিশরের ডিফেন্ডার আবদেলমাজিদ মাঠ ছাড়লে বড় কোনো অঘটন ছাড়াই ৩–১ গোলের মহাকাব্যিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মিশর। গ্রুপের শেষ ম্যাচে এখন ইরানের মুখোমুখি হবে তারা।

স্পেনের পর উরুগুয়েকে আটকালো কেপভার্দে
শুরুতে এগিয়ে গেলেও প্রথমার্ধে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে আসা কেপ ভার্দে। কিন্তু এরপরও দমে যায়নি তারা। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রথমবার মেলে ধরা আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে দেখাল লড়াকু ফুটবলের আসল রূপ। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের পর এবার ফুটবল পরাশক্তি উরুগুয়েকেও আটকে দিল তারা। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এইচ’র রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।
কিক অফের ২১ মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে কেভিন পিনার নেওয়া ফ্রি-কিক উরুগুয়ের জাল কাঁপালে রূপকথার শুরু হওয়া কেপ ভার্দের। দেশের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ গোলের দেখা পায় তারা।

তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে (৪৪ মিনিটে) ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো এবং যোগ করা সময়ে (৪৫+৫ মিনিটে) আগুস্তিন কানোপিওর ব্যাক-টু-ব্যাক গোলে ২-১ ব্যবধানে লিড নিয়ে বিরতিতে যায় মার্সেলো বিয়েলসার উরুগুয়ে।
বিরতি থেকে ফিরে লিড ধরে রাখতে মরিয়া উরুগুয়ে আক্রমণাত্মক ধার বজায় রাখলেও কেপ ভার্দের জমাট রক্ষণভাগ আর ফাটল ধরতে দেয়নি। উল্টো ম্যাচের ৬১তম মিনিটে হেলিও ভারেলার করা গোল স্তব্ধ করে দেন লা সেলেস্তেদের। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত ২-২ সমতা ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে দুদল।
এই ড্রয়ের পর দুদলেরই পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ২। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় দুই নম্বরে অবস্থান করছে উরুগুয়ে, তিনে কেপ ভার্দে। এদিকে সর্বোচ্চ ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান স্পেনের। আর তলানিতে আছে সৌদি আরব।

লুকাকু-ব্রুইনাদের সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে ছিলেন বেইরানভান্দ
শুরু থেকেই প্রচন্ড আক্রমনের চাপ বেলজিয়ামের। কিন্তু কিছুতেই ইরানের রক্ষণ ভেদ করতে পারেন নি বেলজিয়ামের ডি ব্রুইনা,রোমেল লুকাকুর মতো ইংলিশ লীগ কাপানোর তারকা ফুটবলাররা। ম্যাচের আগে সবার ধারনা ছিলো হয়ত খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে ইরানের রক্ষণভাগ।
তবে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে সব হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দিলেন ইরানের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ। পুরো ম্যাচ জুড়ে পোস্টের নিচে একাই যেন ‘চীনের প্রাচীর’ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এই জাদুকরী গোলকিপার।

Iran

বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে আজ বেলজিয়ামকে ০-০ গোলে রুখে দিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠেছে ইরান। এই ঐতিহাসিক ড্রতে ও মূল্যবান ১ পয়েন্ট পাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান বেইরানভান্দের বীরত্বগাথা পারফরম্যান্স।

ম্যাচের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে ইরান রক্ষণকে কোণঠাসা করে ফেলেছিল বেলজিয়াম। তবে পোস্টের নিচে বেইরানভান্দ ছিলেন অটল ও নির্ভীক। ম্যাচের প্রথমার্ধে ডি ব্রুইনার বানিয়ে দেওয়া বল থেকে লুকাকুর নেওয়া দুটি নিশ্চিত অন-টার্গেট শট অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্সে রুখে দেন এই ইরানি বাজপাখি। বেলজিয়ানদের দূরপাল্লার শটগুলো যেভাবে তিনি শরীর ভাসিয়ে গ্রিপে নিয়েছেন, তা গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের বারবার হাততালি দিতে বাধ্য করেছে।

শুধু শট ঠেকানোই নয়, ডি-বক্সের ভেতর আকাশপথের নিয়ন্ত্রণও ছিল পুরোপুরি বেইরানভান্দের দখলে। বেলজিয়ামের উইঙ্গারদের বিপজ্জনক সব ক্রস ও কর্নার কিউব নিখুঁত টাইমিংয়ে পাঞ্চ করে দলকে বারবার বিপদমুক্ত করেছেন তিনি।

ম্যাচের শেষ দিকে বেলজিয়াম ১০ জনের দলে পরিণত হলে ইরান নির্ভয়ে অল-আউট আক্রমণে যাওয়ার সাহস পায়। প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২ গোল হজম করা ইরান যে আজ বেলজিয়ামের মতো দলের বিরুদ্ধে কোনো গোল না খেয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে, তার পুরো কৃতিত্বই বেইরানভান্দের। গ্লাভস হাতে তার এই বীরত্বই এখন ইরানকে নকআউট পর্বের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মিশরের প্রথম জয়,ড্রয়ে আবারো চমক দেখালো ইরান ও কেপ ভার্দে

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ মিশনে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে মিশর। আগের ম্যাচে বেলজিয়ামের জন্য ড্র করার কষ্ট তাতে কিছুটা লাগব হয়েছে মিশরীয়দের। এদিন তারকা ফুটবলার সালেহও পেয়েছেন বিশ্বকাপে প্রথম গোল। তার নৈপুন্যে দূর্দান্ত কাম ব্যাক। রীতি মতো ৩-১ গোলে হারিয়েছে হোসাম হাসানের দল নিউজিল্যান্ডকে। অথচ শুরুতেই পিছিয়ে পড়েছিল মিশর। সে হতাশা কাটিয়ে লিখলো প্রত্যাবর্তনের গল্প। যা কিনা উত্তর আফ্রিকার দেশটিকে রাখলো নকআউট পর্বের দৌড়ে সুবিধাজনক অবস্থানে।
একই দিন দেখা মিললো নবাগত কেপভার্দে ও ইরানের চমক। এই দুটি দল আটকে দিয়েছে যথাক্রমে উরুগুয়ে ও বেলজিয়ামকে। কেপভার্দে ও উরুগুয়ে ম্যাচটি শেষ হয় ২-২ গোলে। অন্যদিকে আক্রমন-পাল্টাআক্রমনের ম্যাচে ইরান ও বেলজিয়াম ম্যাচটি গোলশুন্যে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে।

মিশর ৩-১ গোলে দক্ষিণ আফ্রিকা হারালো

কানাডার ভেনকুভারে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে কিক অফের ১৫ মিনিটেই গোল হজম করে মিশর। ডিফেন্ডার ফিন সারম্যানের নিখুত হেডে এগিয়ে যাওয়া নিউজিল্যান্ড অবশ্য শেষ পর্যন্ত আটকে রাখতে পারেনি মিশরের আক্রমনের চাপ। গোল খেয়েও দলটি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল পেয়ে যায়। এ সময় মিশরকে ১-১ সমতায় ফিরান এম জিকো। এরপর ৬৭ ও ৮২ মিনিটে আরো দুটি গোল করে বিজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সালাহ‘র মিশর।

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়েও উত্তেজনার কমতি ছিল না। ৯৩ মিনিটে জিজো নিউজিল্যান্ডের গোলরক্ষককে কাটিয়ে ফাঁকা পোস্টে শট নিলেও গোললাইন থেকে তা প্রতিহত করেন কিউই ডিফেন্ডার ক্রোকোম্ব। শেষ মুহূর্তে মাথায় আঘাত পেয়ে মিশরের ডিফেন্ডার আবদেলমাজিদ মাঠ ছাড়লে বড় কোনো অঘটন ছাড়াই ৩–১ গোলের মহাকাব্যিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মিশর। গ্রুপের শেষ ম্যাচে এখন ইরানের মুখোমুখি হবে তারা।

স্পেনের পর উরুগুয়েকে আটকালো কেপভার্দে
শুরুতে এগিয়ে গেলেও প্রথমার্ধে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে আসা কেপ ভার্দে। কিন্তু এরপরও দমে যায়নি তারা। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রথমবার মেলে ধরা আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে দেখাল লড়াকু ফুটবলের আসল রূপ। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের পর এবার ফুটবল পরাশক্তি উরুগুয়েকেও আটকে দিল তারা। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এইচ’র রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।
কিক অফের ২১ মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে কেভিন পিনার নেওয়া ফ্রি-কিক উরুগুয়ের জাল কাঁপালে রূপকথার শুরু হওয়া কেপ ভার্দের। দেশের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ গোলের দেখা পায় তারা।

তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে (৪৪ মিনিটে) ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো এবং যোগ করা সময়ে (৪৫+৫ মিনিটে) আগুস্তিন কানোপিওর ব্যাক-টু-ব্যাক গোলে ২-১ ব্যবধানে লিড নিয়ে বিরতিতে যায় মার্সেলো বিয়েলসার উরুগুয়ে।
বিরতি থেকে ফিরে লিড ধরে রাখতে মরিয়া উরুগুয়ে আক্রমণাত্মক ধার বজায় রাখলেও কেপ ভার্দের জমাট রক্ষণভাগ আর ফাটল ধরতে দেয়নি। উল্টো ম্যাচের ৬১তম মিনিটে হেলিও ভারেলার করা গোল স্তব্ধ করে দেন লা সেলেস্তেদের। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত ২-২ সমতা ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে দুদল।
এই ড্রয়ের পর দুদলেরই পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ২। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় দুই নম্বরে অবস্থান করছে উরুগুয়ে, তিনে কেপ ভার্দে। এদিকে সর্বোচ্চ ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান স্পেনের। আর তলানিতে আছে সৌদি আরব।

লুকাকু-ব্রুইনাদের সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে ছিলেন বেইরানভান্দ
শুরু থেকেই প্রচন্ড আক্রমনের চাপ বেলজিয়ামের। কিন্তু কিছুতেই ইরানের রক্ষণ ভেদ করতে পারেন নি বেলজিয়ামের ডি ব্রুইনা,রোমেল লুকাকুর মতো ইংলিশ লীগ কাপানোর তারকা ফুটবলাররা। ম্যাচের আগে সবার ধারনা ছিলো হয়ত খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে ইরানের রক্ষণভাগ।
তবে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে সব হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দিলেন ইরানের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ। পুরো ম্যাচ জুড়ে পোস্টের নিচে একাই যেন ‘চীনের প্রাচীর’ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এই জাদুকরী গোলকিপার।

Iran

বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে আজ বেলজিয়ামকে ০-০ গোলে রুখে দিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠেছে ইরান। এই ঐতিহাসিক ড্রতে ও মূল্যবান ১ পয়েন্ট পাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান বেইরানভান্দের বীরত্বগাথা পারফরম্যান্স।

ম্যাচের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে ইরান রক্ষণকে কোণঠাসা করে ফেলেছিল বেলজিয়াম। তবে পোস্টের নিচে বেইরানভান্দ ছিলেন অটল ও নির্ভীক। ম্যাচের প্রথমার্ধে ডি ব্রুইনার বানিয়ে দেওয়া বল থেকে লুকাকুর নেওয়া দুটি নিশ্চিত অন-টার্গেট শট অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্সে রুখে দেন এই ইরানি বাজপাখি। বেলজিয়ানদের দূরপাল্লার শটগুলো যেভাবে তিনি শরীর ভাসিয়ে গ্রিপে নিয়েছেন, তা গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের বারবার হাততালি দিতে বাধ্য করেছে।

শুধু শট ঠেকানোই নয়, ডি-বক্সের ভেতর আকাশপথের নিয়ন্ত্রণও ছিল পুরোপুরি বেইরানভান্দের দখলে। বেলজিয়ামের উইঙ্গারদের বিপজ্জনক সব ক্রস ও কর্নার কিউব নিখুঁত টাইমিংয়ে পাঞ্চ করে দলকে বারবার বিপদমুক্ত করেছেন তিনি।

ম্যাচের শেষ দিকে বেলজিয়াম ১০ জনের দলে পরিণত হলে ইরান নির্ভয়ে অল-আউট আক্রমণে যাওয়ার সাহস পায়। প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২ গোল হজম করা ইরান যে আজ বেলজিয়ামের মতো দলের বিরুদ্ধে কোনো গোল না খেয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে, তার পুরো কৃতিত্বই বেইরানভান্দের। গ্লাভস হাতে তার এই বীরত্বই এখন ইরানকে নকআউট পর্বের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।