ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

আওয়ামী অপতৎপরতা ঠেকাতে ছয় জেলায় সেনা মোতায়েন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:১৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • / ৪২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পতিত আওয়ামী লীগ পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করে নিমিষেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর আড়ালে চলে যায় তারা। তারই ধারাবাহিকতায় এবার বড় ধরনের মিছিল বের করা কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে নিষিদ্ধ এই দলটির সমর্থকদের। গোয়েন্দা সূত্রে এমন তথ্যের কথা শোনালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ।
তবে আইন শৃঙ্খলার পরিবেশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি, সরকার সবসময় তৎপর আছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা লক্ষ্য করায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিস কক্ষের সামনে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগের তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে। সভা-সমাবেশ করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার, এতে গণতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি; কিন্তু আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ মাফিয়া বাহিনী আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় আমরা দেখেছি তারা মিছিল-মিটিং করার মতো কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এতে মনে হয়েছে, তারা অস্থিরতা তৈরির পাঁয়তারা করলেও করতে পারে।

তিনি বলেন, এজন্য আমাদের সব বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছি, যা সবসময় থাকে। তার বাইরে আমরা আজ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আমাদের সেনা সদস্যদের এনে আইন অনুসারে বেসামরিক ক্ষমতা দিয়েছি, যাতে যেকোনো রকম অপতৎপরতার সুরাহা করা যায়; এ জন্যই এটা করা হয়েছে।

তবে সেনা মোতায়েনে পুলিশ বাহিনীর ওপর আস্থাহীনতার কোনো বিষয় নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা সবসময় প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কখনো বিজিবি বা কখনো সেনাবাহিনীকে নিয়ে আসি। প্রায় দেড় বছর মাঠে থাকার পর গত ১৫ জুন সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত সরকার আসার পর যথাশিগগির সম্ভব তাদের মাঠ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই। যেসব জেলায় অপতৎপরতার চেষ্টা করা হয়েছে, সেসব জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে কোনো কোনো মহল অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সেজন্য সতর্ক থাকার অংশ হিসেবে আমরা সেনা মোতায়েন করেছি।’

নারায়ণগঞ্জের এক এমপির ছেলেকে গ্রেপ্তার করার পর আবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের চোখে সবাই সমান। কোনো এমপির ছেলের বিশেষাধিকার নেই। তার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। এ কারণে জিজ্ঞাসাবাদ করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে; সেখানে কি এক হিন্দু নারীর আলাদা প্রদেশ চাওয়া নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা নিয়ে তাদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। সেখানে ওই নারীর প্রসঙ্গও এসেছে। এটা তার স্লিপ অব টাং (মুখের ভুল) হতে পারে। তাকে যেন সেই বার্তাটি দেওয়া হয়। বক্তৃতা দেওয়ার সময় অতিউৎসাহী হয়ে অনেকে অনেক কথা বলে ফেলে।’

এর আগে সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে সেনা মোতায়েন চেয়ে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

এ অবস্থায় ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষার লক্ষ্যে আজ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আওয়ামী অপতৎপরতা ঠেকাতে ছয় জেলায় সেনা মোতায়েন

আপডেট সময় : ১০:১৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পতিত আওয়ামী লীগ পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করে নিমিষেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর আড়ালে চলে যায় তারা। তারই ধারাবাহিকতায় এবার বড় ধরনের মিছিল বের করা কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে নিষিদ্ধ এই দলটির সমর্থকদের। গোয়েন্দা সূত্রে এমন তথ্যের কথা শোনালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ।
তবে আইন শৃঙ্খলার পরিবেশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি, সরকার সবসময় তৎপর আছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা লক্ষ্য করায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিস কক্ষের সামনে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগের তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে। সভা-সমাবেশ করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার, এতে গণতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি; কিন্তু আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ মাফিয়া বাহিনী আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় আমরা দেখেছি তারা মিছিল-মিটিং করার মতো কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এতে মনে হয়েছে, তারা অস্থিরতা তৈরির পাঁয়তারা করলেও করতে পারে।

তিনি বলেন, এজন্য আমাদের সব বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছি, যা সবসময় থাকে। তার বাইরে আমরা আজ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আমাদের সেনা সদস্যদের এনে আইন অনুসারে বেসামরিক ক্ষমতা দিয়েছি, যাতে যেকোনো রকম অপতৎপরতার সুরাহা করা যায়; এ জন্যই এটা করা হয়েছে।

তবে সেনা মোতায়েনে পুলিশ বাহিনীর ওপর আস্থাহীনতার কোনো বিষয় নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা সবসময় প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কখনো বিজিবি বা কখনো সেনাবাহিনীকে নিয়ে আসি। প্রায় দেড় বছর মাঠে থাকার পর গত ১৫ জুন সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত সরকার আসার পর যথাশিগগির সম্ভব তাদের মাঠ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই। যেসব জেলায় অপতৎপরতার চেষ্টা করা হয়েছে, সেসব জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে কোনো কোনো মহল অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সেজন্য সতর্ক থাকার অংশ হিসেবে আমরা সেনা মোতায়েন করেছি।’

নারায়ণগঞ্জের এক এমপির ছেলেকে গ্রেপ্তার করার পর আবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের চোখে সবাই সমান। কোনো এমপির ছেলের বিশেষাধিকার নেই। তার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। এ কারণে জিজ্ঞাসাবাদ করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে; সেখানে কি এক হিন্দু নারীর আলাদা প্রদেশ চাওয়া নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা নিয়ে তাদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। সেখানে ওই নারীর প্রসঙ্গও এসেছে। এটা তার স্লিপ অব টাং (মুখের ভুল) হতে পারে। তাকে যেন সেই বার্তাটি দেওয়া হয়। বক্তৃতা দেওয়ার সময় অতিউৎসাহী হয়ে অনেকে অনেক কথা বলে ফেলে।’

এর আগে সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে সেনা মোতায়েন চেয়ে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

এ অবস্থায় ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষার লক্ষ্যে আজ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।