ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফেরানোর চেষ্টায় সরকার, কিন্তু কতো টা সম্ভব

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • / ৪২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আবুদাবীতে আটক বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমদে। গত ১২ জুন তিনি দুবাইয়ের একটি বিপণিবিতান বা শপিং মল থেকে  গ্রেপ্তার হন। তার বিরুদ্ধে দূর্ণীতি, বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও পাসপোর্ট জালিয়াতিরও অভিযোগ রয়েছে। এরই ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে দূর্ণীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা করেছিল। এ সব মামলার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছিল।

ইন্টারপোলের এই রেড নোটিশের সূত্র ধরেই বেনজীর আহমেদকে আটক করা হয়। তার আটকের বিষয়টি  সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থিত ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (NCB) থেকে ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে বেনজীরের সহকর্মীরাই তাকে আটক করিয়েছেন।এর পেছনে সক্রিয় ব্যক্তিরা দুবাই পুলিশকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ও বেনজীরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ব্যবহার করেছে।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ইতোমধ্যে দুবাই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুতই তাকে দেশে ফেরত আনাও সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অবদানের জন্য পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন বলেন, তার (বেনজীর) বিরুদ্ধে থাকা মামলাসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সেই দেশে পাঠানো হয়েছে। আশা করি দেশটির সরকার দ্রুতই সমস্ত প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে।

এ সময় তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার অপরাধীদের নির্মূল করাসহ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী বলেন, মোহাম্মদপুর এলাকা বহু বছর ধরেই অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে রয়েছে। এই মোহাম্মদপুরকেও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হবে। এখানকার অপরাধীদের নির্মূল করা হবে।

কিন্তু প্রশ্ন দাড়িয়েছে, এই আসামীকে দেশে ফেরানো কতোটা সম্ভব। যদিও দন্ডপ্রাপ্ত আসামি বা অপরাধী বিনিময়ের জন্য দু’দেশের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি রয়েছে। ২০১৪ সালের অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি স্থানান্তর’ ও ‘নিরাপত্তা সহযোগিতা’ সংক্রান্ত এই চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়।

এছাড়া, কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না থাকলেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তার (Mutual Legal Assistance) মাধ্যমেও দেশ দুটি থেকে আসামি ফিরিয়ে আনার আইনি সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু এই চুক্তির আওতায় আজো পর্যন্ত আবুদাবী কোন দাগী আসামিকে ফেরত বা হস্তান্তর করেছে কিনা। তথ্যমতে জানা যায়, আবুদাবী হচ্ছে অপরাধিদের অভয়ারন্য। বিশ্বের বড় বড় দাগী আসামীরা আবুদাবীতে গিয়ে আবাসন গড়ে তুলেছে, স্বয়ং সেখানকার সরকারী মদদে। যে কারণে ভারত,পাকিস্তানসহ আরো অন্যান্য দেশের নামকরা আসামীদের ফেরত দেয়ার কোন নজির দেখা যায়নি। বিশেষ করে ভারত,পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মাপিয়া ডন,চোরাচালান এবং মাদক ব্যবসায়ীরা দুবাইতে বসেই তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করা হচ্ছে বলে মতবিনিময় করেছেন একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তার মতে এই মাপিয়‍া ডনরাই হচ্ছে দুবাইয়ের অর্থ সংস্থাপনের মূল কারিগর। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে এই দুবাইতে।। এ রকম আরো কয়েকটি দেশ রয়েছে যেখান থেকে বড় আসামী ফেরত আনাটা তাই কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফেরানোর চেষ্টায় সরকার, কিন্তু কতো টা সম্ভব

আপডেট সময় : ০৬:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

আবুদাবীতে আটক বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমদে। গত ১২ জুন তিনি দুবাইয়ের একটি বিপণিবিতান বা শপিং মল থেকে  গ্রেপ্তার হন। তার বিরুদ্ধে দূর্ণীতি, বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও পাসপোর্ট জালিয়াতিরও অভিযোগ রয়েছে। এরই ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে দূর্ণীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা করেছিল। এ সব মামলার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছিল।

ইন্টারপোলের এই রেড নোটিশের সূত্র ধরেই বেনজীর আহমেদকে আটক করা হয়। তার আটকের বিষয়টি  সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থিত ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (NCB) থেকে ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে বেনজীরের সহকর্মীরাই তাকে আটক করিয়েছেন।এর পেছনে সক্রিয় ব্যক্তিরা দুবাই পুলিশকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ও বেনজীরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ব্যবহার করেছে।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ইতোমধ্যে দুবাই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুতই তাকে দেশে ফেরত আনাও সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অবদানের জন্য পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন বলেন, তার (বেনজীর) বিরুদ্ধে থাকা মামলাসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সেই দেশে পাঠানো হয়েছে। আশা করি দেশটির সরকার দ্রুতই সমস্ত প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে।

এ সময় তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার অপরাধীদের নির্মূল করাসহ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী বলেন, মোহাম্মদপুর এলাকা বহু বছর ধরেই অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে রয়েছে। এই মোহাম্মদপুরকেও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হবে। এখানকার অপরাধীদের নির্মূল করা হবে।

কিন্তু প্রশ্ন দাড়িয়েছে, এই আসামীকে দেশে ফেরানো কতোটা সম্ভব। যদিও দন্ডপ্রাপ্ত আসামি বা অপরাধী বিনিময়ের জন্য দু’দেশের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি রয়েছে। ২০১৪ সালের অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি স্থানান্তর’ ও ‘নিরাপত্তা সহযোগিতা’ সংক্রান্ত এই চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়।

এছাড়া, কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না থাকলেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তার (Mutual Legal Assistance) মাধ্যমেও দেশ দুটি থেকে আসামি ফিরিয়ে আনার আইনি সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু এই চুক্তির আওতায় আজো পর্যন্ত আবুদাবী কোন দাগী আসামিকে ফেরত বা হস্তান্তর করেছে কিনা। তথ্যমতে জানা যায়, আবুদাবী হচ্ছে অপরাধিদের অভয়ারন্য। বিশ্বের বড় বড় দাগী আসামীরা আবুদাবীতে গিয়ে আবাসন গড়ে তুলেছে, স্বয়ং সেখানকার সরকারী মদদে। যে কারণে ভারত,পাকিস্তানসহ আরো অন্যান্য দেশের নামকরা আসামীদের ফেরত দেয়ার কোন নজির দেখা যায়নি। বিশেষ করে ভারত,পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মাপিয়া ডন,চোরাচালান এবং মাদক ব্যবসায়ীরা দুবাইতে বসেই তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করা হচ্ছে বলে মতবিনিময় করেছেন একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তার মতে এই মাপিয়‍া ডনরাই হচ্ছে দুবাইয়ের অর্থ সংস্থাপনের মূল কারিগর। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে এই দুবাইতে।। এ রকম আরো কয়েকটি দেশ রয়েছে যেখান থেকে বড় আসামী ফেরত আনাটা তাই কষ্টসাধ্য ব্যাপার।