বাংলাদেশে আইএস আইয়ের অবাধ সুযোগ পাওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন বললো পাকিস্তান
- আপডেট সময় : ০৭:১৯:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ৪১ বার পড়া হয়েছে
৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর ভূমিকা বা অবাধ সুযোগ পাওয়ার অভিযোগ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সজীব ওয়াজেদ জয়ের করা একটি মন্তব্যের জবাবে তিনি জানান, আইএসআই নিয়ে ভারতের ভীতি সম্ভবত অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশে কোনো আইএসআই এজেন্ট নেই এবং এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় অভিযোগ তুলে মন্তব্য করেছিলেন যে,বাংলাদেশ ভারতের জন্য আরেকটি পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে এবং সেখানে আইএসআইয়ের অবাধ প্রভাব বা দখল রয়েছে। জয় আরও দাবি করেন যে বর্তমান প্রশাসনের আমলে শত শত দণ্ডিত জঙ্গি ও অপরাধীকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।ভারতের কিছু প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও গণমাধ্যমেও বাংলাদেশে পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এই ধরনের দাবি ও অভিযোগ দৃঢ়ভাবে নাকচ করে দেন। তিনি মন্তব্য করেন যে আইএসআই বা পাকিস্তান নিয়ে ভারত অতিরিক্ত আতঙ্ক বা সন্দেহপ্রবণতায় ভুগছে। পাকিস্তান সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা নিরাপত্তায় আইএসআইয়ের কোনো ভূমিকা বা এজেন্ট সক্রিয় নেই৷
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনা ও বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের মধ্যকার রাজনৈতিক বিরোধ নিয়ে পাকিস্তান কোনো মন্তব্য করবে না। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় থেকে দূরে থাকাই পাকিস্তানের নীতি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তাহির আন্দ্রাবির কাছে জানতে চাওয়া হয়, শেখ হাসিনা ও তার ছেলের পাকিস্তান-সংক্রান্ত মন্তব্যের পর ইসলামাবাদ ও ঢাকার মধ্যে কোনো কূটনৈতিক যোগাযোগ হয়েছে কি না।
জবাবে আন্দ্রাবি বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাভাবিক কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং তা কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা বক্তব্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
মুখপাত্র বলেন, দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রয়েছে। হস্তক্ষেপ না করার পাকিস্তানের নীতির পুনরুল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য বা তা ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইসলামাবাদের কোনো মন্তব্য নেই।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু ওই বক্তব্য ভারত থেকে দেওয়া হয়েছে, তাই বিষয়টি মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যাপার।
মুখপাত্র আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণ বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে সক্ষম।
তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের প্রতি পাকিস্তানের শ্রদ্ধার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, ইসলামাবাদ বাংলাদেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিকে সমর্থন জানিয়ে যাবে।
সূত্র : দ্য কারেন্ট ও বিবিসি বাংলা






















