ঢাকা ১২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বিশ্বব্যাপী দাবানলে আতঙ্ক জাতিসংঘ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৪০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বব্যাপী দাবানল ছড়ি পড়েছে। ক্রমাগত বাড়ছে পৃথিবীর তাপমাত্রা। একেকবার একেক রুপ ধারণ করে আসছে দাবানল। এবার এল  নিনোর ভয়াবহ প্রভাব। এ নিয়ে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বলতে থাকা দাবানলের কারণে আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তারা বলছে, আগামী মাসগুলোতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, দ্রুত তীব্রতর হতে থাকা এল নিনো আগামী মাসগুলোতে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার ধরনে আধিপত্য বিস্তার করবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পর্যায়ক্রমিক জলবায়ুগত ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, এই প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে চলমান বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘এল নিনো শুধু আমাদের দোরগোড়ায় নয়, এটি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে এবং তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি কেবল একটি প্রস্তুতি পর্ব। এল নিনো আরও শক্তিশালী হচ্ছে, যা ইতিমধ্যেই জ্বলতে থাকা অঞ্চলগুলোতে ইন্ধন যোগাচ্ছে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বাড়তে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের জলের এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা আবহাওয়া ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করবে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

এল নিনোর প্রভাব মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মিলিত হওয়ায় গুতেরেস দেশগুলোকে জলবায়ু কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বিশেষভাবে জীবাশ্ম জ্বালানির সম্প্রসারণকে সংকট বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাস প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বিশ্বের প্রায় সব স্থলভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস দিয়েছে। এর সবচেয়ে তীব্র প্রভাব আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায় দেখা যেতে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেন, ‘এল নিনোর ওপর নিবিড় নজর রাখা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার ও মানবিক সংস্থাগুলোকে আগাম সতর্কবার্তাগুলো বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘পূর্বাভাস নিজে থেকে বিপদ প্রতিরোধ করে না; মানুষকেই সেটা করতে হয়। আজ আমরা যে সিদ্ধান্তগুলো নেব, তা-ই আগামীকালের প্রভাব নির্ধারণ করবে।’
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, এ বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো যখন চরমে পৌঁছাবে, তখন এর তীব্রতা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে কম্পিউটার মডেলের পূর্বাভাস এখনো অনিশ্চিত।

সূত্র: আল জাজিরা

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিশ্বব্যাপী দাবানলে আতঙ্ক জাতিসংঘ

আপডেট সময় : ১০:২৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বব্যাপী দাবানল ছড়ি পড়েছে। ক্রমাগত বাড়ছে পৃথিবীর তাপমাত্রা। একেকবার একেক রুপ ধারণ করে আসছে দাবানল। এবার এল  নিনোর ভয়াবহ প্রভাব। এ নিয়ে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বলতে থাকা দাবানলের কারণে আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তারা বলছে, আগামী মাসগুলোতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, দ্রুত তীব্রতর হতে থাকা এল নিনো আগামী মাসগুলোতে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার ধরনে আধিপত্য বিস্তার করবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পর্যায়ক্রমিক জলবায়ুগত ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, এই প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে চলমান বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘এল নিনো শুধু আমাদের দোরগোড়ায় নয়, এটি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে এবং তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি কেবল একটি প্রস্তুতি পর্ব। এল নিনো আরও শক্তিশালী হচ্ছে, যা ইতিমধ্যেই জ্বলতে থাকা অঞ্চলগুলোতে ইন্ধন যোগাচ্ছে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বাড়তে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের জলের এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা আবহাওয়া ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করবে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

এল নিনোর প্রভাব মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মিলিত হওয়ায় গুতেরেস দেশগুলোকে জলবায়ু কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বিশেষভাবে জীবাশ্ম জ্বালানির সম্প্রসারণকে সংকট বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাস প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বিশ্বের প্রায় সব স্থলভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস দিয়েছে। এর সবচেয়ে তীব্র প্রভাব আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায় দেখা যেতে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেন, ‘এল নিনোর ওপর নিবিড় নজর রাখা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার ও মানবিক সংস্থাগুলোকে আগাম সতর্কবার্তাগুলো বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘পূর্বাভাস নিজে থেকে বিপদ প্রতিরোধ করে না; মানুষকেই সেটা করতে হয়। আজ আমরা যে সিদ্ধান্তগুলো নেব, তা-ই আগামীকালের প্রভাব নির্ধারণ করবে।’
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, এ বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো যখন চরমে পৌঁছাবে, তখন এর তীব্রতা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে কম্পিউটার মডেলের পূর্বাভাস এখনো অনিশ্চিত।

সূত্র: আল জাজিরা