ঢাকা ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

এশিয়ান গেমস কুস্তিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য অভিজ্ঞতা অর্জন,ভারতের প্রত্যাশা দুটি পদক জয়

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৮২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এশিয়ান গেমস শুরু হতে আর মাত্র ছয়দিন বাকি। এশিয়ার ৪৫টি দেশের ক্রীড়াবিদরা ভীড় জমাচ্ছেন গেমস ভিলেজ জাপানের আইসি-নাগোয়া সিটিতে। ইতোমধ্যে প্রায় চার হাজার ক্রীড়াবিদের পদভারে সরব হয়ে উঠেছে জাপানের এই ইন্ড্রাসিয়াল শহরটি। বাংলাদেশ দলের একটি অংশ গত ৯ সেপ্টেম্বর জাপানে পৌছানোর পর ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল পৌছায় জাপানের এই শহরে। পর্যায়ক্রমে খেলা শুরুর আগে আগে বাকি ইভেন্টে ক্রীড়াবিদরাও রওনা হবেন জাপানের উদ্দেশ্যে। বাংলাদদেশের দু’জন কুস্তিবিদ এই গেমসে অংশ নিতে যাচ্ছেন। এই ইভেন্টে পদক জেতার কোনই সম্ভাবনা নেই। কোচ শিরিন সুলতানার মতে, অ্যাথলেটরা টুর্নামেন্টে নিজের সেরা দেওয়ার সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করবেন। বাংলাদেশের ক্রীড়া অভিবাবক বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মতে কুস্তিতে সরাসরি পদক জয়ের বড় কোনো জোরালো সম্ভাবনা বা চাপ না থাকলেও, এশিয়ার শীর্ষ সারির অ্যাথলেটদের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজেদের সক্ষমতা যাচাই করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বড় অভিজ্ঞতা অর্জন করাই এই দলের মূল লক্ষ্য।

এশিয়ান গেমস কুস্তিতে বাংলাদেশের পদক জয়ের প্রত্যাশা না থাকলেও পাশবর্তী দেশ ভারত থেকে এই ইভেন্টে দুই জন ক্রীড়াবিদের উপর প্রত্যাশা রাখছে তারা, যথাক্রমে সুজিত কালকাল ও আমন সেহরাওয়াত। এই দুই ক্রীড়াবিদ যথাক্রমে ৬৫ কেজিও ৫৭ কেসি ওজন শ্রেনীতে অংশ নিচ্ছেন। দুটি ইভেন্টেই শক্তিশালী কুস্তিগিরারা অংশ নিয়ে থাকেন। তবুও ভারত এই ইভেন্ট থেকে পদক জয়ে মরিয়া।

এই প্রত্যাশার যৌক্তিক একটি উদাহরণ টেনে ভারতীয় মিডিয়া হিন্দুস্তান টাইম তুলে ধরেছে। গত বছর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতীয় এই কুস্তিগিরকে নিয়ে প্রত্যাশার মাত্রা বেড়ে যায়। ওই লড়াইয়ে তিনি মুখোমুখি হয়েছিলেন ইরানের প্যারিস অলিম্পিকস রৌপ্যজয়ী রহমান আমুজাদ খলিলির। ৬৫ কেজি বিভাগের অত্যন্ত কঠিন ড্র-তে সুজিতকে সেভাবে কেউ হিসেবেই ধরেনি, অথচ তিনি আমুজাদকে বেশ কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত অল্প ব্যবধানে (৫-৬) হারলেও, এই লড়াইটিই ছিল তাঁর জন্য এক রোমাঞ্চকর যাত্রার সূচনা।

সেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচটি জিতে আমুজাদ শেষ পর্যন্ত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। সুজিৎ কোনো পদক ছাড়াই ফিরেছিলেন ঠিকই, কিন্তু নিজের সক্ষমতার ওপর তাঁর অগাধ বিশ্বাস নিয়ে ফিরেছিলেন।

এরপর তাঁর ভাগ্যাকাশে এক নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। তিনি বর্তমানে টানা ১৫টি ম্যাচ জয়ের (১৫-০) এক দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন; এই সাফল্যের তালিকায় রয়েছে অনূর্ধ্ব-২৩ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ এবং এশিয়ান রেসলিং চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়। তাই এশিয়ান গেমসে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে থাকা সুজিৎ অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবেই লড়াইয়ে নামবেন।

পুরুষদের ফ্রিস্টাইল বিভাগে সুজিৎ এবং প্যারিস অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী আমন সেহরাওয়াত—এই দুজন ভারতের হয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবেন। আমনও দারুণ ছন্দে আছেন; গত জুলাই মাসে বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিং সিরিজে তিনি ৫৭ কেজি বিভাগে স্বর্ণপদক জিতেছেন। এ বছরের শুরুর দিকে তিনি অলিম্পিক-বহির্ভূত ৬১ কেজি বিভাগে অংশ নিয়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে রৌপ্যপদক জয় করেছিলেন। তবে এশিয়ান গেমসের আগে তিনি পুনরায় ৫৭ কেজি বিভাগে ফিরে এসেছেন।

তবে এশিয়ান গেমসে তাদের পথ মোটেও সহজ হবে না। ৫৭ ও ৬৫ কেজি ওজন শ্রেণিতে জাপান, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার প্রবল আধিপত্যের কারণে ড্র-এর বিষয়টি যেন এক মাইনফিল্ড বা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুজিতের প্রধান প্রতিপক্ষ হবেন জাপানের বর্তমান অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কোতারো কিয়ুওকা; এছাড়া উজবেকিস্তানের উমিদজন জালোলভ (বিশ্ব ও এশীয় পদকজয়ী), কিরগিজস্তানের এরনাজার আকমাতালিয়েভ এবং ইরানের আব্বাস ইব্রাহিমজাদেহও তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকবেন—যাদের সবারই রয়েছে বড় বড় শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব এবং কুস্তিতে শক্তিশালী ঐতিহ্যের পটভূমি।

নিজের ওজন শ্রেণিতে সোনা জিততে হলে আমানকেও কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। মোট ২১ জন কুস্তিগিরের এই লড়াইয়ে উত্তর কোরিয়ার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হান চং-সং এবং উজবেকিস্তানের অলিম্পিক ও বিশ্ব পদকজয়ী গুলামজন আবদুলায়েভই সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। এছাড়া ইরানের আলি মোমেনি, কাজাখস্তানের নুরদানাত আইতানোভ এবং মঙ্গোলিয়ার দাভাবান্দি মুনখ-এরদেনেও কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবদুলায়েভের সাফল্য ও অভিজ্ঞতা বেশ জোরালো হলেও, সোনা জয়ের লড়াইয়ে তাঁকে টেক্কা দেওয়ার মতো সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা আমানেরও রয়েছে। জাপানের ইয়ামাতো ওগাওয়াও হয়তো কোনো চমক দেখাতে পারেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এশিয়ান গেমস কুস্তিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য অভিজ্ঞতা অর্জন,ভারতের প্রত্যাশা দুটি পদক জয়

আপডেট সময় : ০৭:৩২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশিয়ান গেমস শুরু হতে আর মাত্র ছয়দিন বাকি। এশিয়ার ৪৫টি দেশের ক্রীড়াবিদরা ভীড় জমাচ্ছেন গেমস ভিলেজ জাপানের আইসি-নাগোয়া সিটিতে। ইতোমধ্যে প্রায় চার হাজার ক্রীড়াবিদের পদভারে সরব হয়ে উঠেছে জাপানের এই ইন্ড্রাসিয়াল শহরটি। বাংলাদেশ দলের একটি অংশ গত ৯ সেপ্টেম্বর জাপানে পৌছানোর পর ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল পৌছায় জাপানের এই শহরে। পর্যায়ক্রমে খেলা শুরুর আগে আগে বাকি ইভেন্টে ক্রীড়াবিদরাও রওনা হবেন জাপানের উদ্দেশ্যে। বাংলাদদেশের দু’জন কুস্তিবিদ এই গেমসে অংশ নিতে যাচ্ছেন। এই ইভেন্টে পদক জেতার কোনই সম্ভাবনা নেই। কোচ শিরিন সুলতানার মতে, অ্যাথলেটরা টুর্নামেন্টে নিজের সেরা দেওয়ার সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করবেন। বাংলাদেশের ক্রীড়া অভিবাবক বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মতে কুস্তিতে সরাসরি পদক জয়ের বড় কোনো জোরালো সম্ভাবনা বা চাপ না থাকলেও, এশিয়ার শীর্ষ সারির অ্যাথলেটদের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজেদের সক্ষমতা যাচাই করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বড় অভিজ্ঞতা অর্জন করাই এই দলের মূল লক্ষ্য।

এশিয়ান গেমস কুস্তিতে বাংলাদেশের পদক জয়ের প্রত্যাশা না থাকলেও পাশবর্তী দেশ ভারত থেকে এই ইভেন্টে দুই জন ক্রীড়াবিদের উপর প্রত্যাশা রাখছে তারা, যথাক্রমে সুজিত কালকাল ও আমন সেহরাওয়াত। এই দুই ক্রীড়াবিদ যথাক্রমে ৬৫ কেজিও ৫৭ কেসি ওজন শ্রেনীতে অংশ নিচ্ছেন। দুটি ইভেন্টেই শক্তিশালী কুস্তিগিরারা অংশ নিয়ে থাকেন। তবুও ভারত এই ইভেন্ট থেকে পদক জয়ে মরিয়া।

এই প্রত্যাশার যৌক্তিক একটি উদাহরণ টেনে ভারতীয় মিডিয়া হিন্দুস্তান টাইম তুলে ধরেছে। গত বছর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতীয় এই কুস্তিগিরকে নিয়ে প্রত্যাশার মাত্রা বেড়ে যায়। ওই লড়াইয়ে তিনি মুখোমুখি হয়েছিলেন ইরানের প্যারিস অলিম্পিকস রৌপ্যজয়ী রহমান আমুজাদ খলিলির। ৬৫ কেজি বিভাগের অত্যন্ত কঠিন ড্র-তে সুজিতকে সেভাবে কেউ হিসেবেই ধরেনি, অথচ তিনি আমুজাদকে বেশ কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত অল্প ব্যবধানে (৫-৬) হারলেও, এই লড়াইটিই ছিল তাঁর জন্য এক রোমাঞ্চকর যাত্রার সূচনা।

সেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচটি জিতে আমুজাদ শেষ পর্যন্ত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। সুজিৎ কোনো পদক ছাড়াই ফিরেছিলেন ঠিকই, কিন্তু নিজের সক্ষমতার ওপর তাঁর অগাধ বিশ্বাস নিয়ে ফিরেছিলেন।

এরপর তাঁর ভাগ্যাকাশে এক নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। তিনি বর্তমানে টানা ১৫টি ম্যাচ জয়ের (১৫-০) এক দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন; এই সাফল্যের তালিকায় রয়েছে অনূর্ধ্ব-২৩ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ এবং এশিয়ান রেসলিং চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়। তাই এশিয়ান গেমসে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে থাকা সুজিৎ অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবেই লড়াইয়ে নামবেন।

পুরুষদের ফ্রিস্টাইল বিভাগে সুজিৎ এবং প্যারিস অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী আমন সেহরাওয়াত—এই দুজন ভারতের হয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবেন। আমনও দারুণ ছন্দে আছেন; গত জুলাই মাসে বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিং সিরিজে তিনি ৫৭ কেজি বিভাগে স্বর্ণপদক জিতেছেন। এ বছরের শুরুর দিকে তিনি অলিম্পিক-বহির্ভূত ৬১ কেজি বিভাগে অংশ নিয়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে রৌপ্যপদক জয় করেছিলেন। তবে এশিয়ান গেমসের আগে তিনি পুনরায় ৫৭ কেজি বিভাগে ফিরে এসেছেন।

তবে এশিয়ান গেমসে তাদের পথ মোটেও সহজ হবে না। ৫৭ ও ৬৫ কেজি ওজন শ্রেণিতে জাপান, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার প্রবল আধিপত্যের কারণে ড্র-এর বিষয়টি যেন এক মাইনফিল্ড বা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুজিতের প্রধান প্রতিপক্ষ হবেন জাপানের বর্তমান অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কোতারো কিয়ুওকা; এছাড়া উজবেকিস্তানের উমিদজন জালোলভ (বিশ্ব ও এশীয় পদকজয়ী), কিরগিজস্তানের এরনাজার আকমাতালিয়েভ এবং ইরানের আব্বাস ইব্রাহিমজাদেহও তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকবেন—যাদের সবারই রয়েছে বড় বড় শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব এবং কুস্তিতে শক্তিশালী ঐতিহ্যের পটভূমি।

নিজের ওজন শ্রেণিতে সোনা জিততে হলে আমানকেও কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। মোট ২১ জন কুস্তিগিরের এই লড়াইয়ে উত্তর কোরিয়ার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হান চং-সং এবং উজবেকিস্তানের অলিম্পিক ও বিশ্ব পদকজয়ী গুলামজন আবদুলায়েভই সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। এছাড়া ইরানের আলি মোমেনি, কাজাখস্তানের নুরদানাত আইতানোভ এবং মঙ্গোলিয়ার দাভাবান্দি মুনখ-এরদেনেও কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবদুলায়েভের সাফল্য ও অভিজ্ঞতা বেশ জোরালো হলেও, সোনা জয়ের লড়াইয়ে তাঁকে টেক্কা দেওয়ার মতো সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা আমানেরও রয়েছে। জাপানের ইয়ামাতো ওগাওয়াও হয়তো কোনো চমক দেখাতে পারেন।