ম্যাচ ফি দ্বিগুন করে ক্রিকেটারদের খুশি করলেন তামিম
- আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৬৯ বার পড়া হয়েছে
আগামী মৌসুমে মাঠে গড়াচ্ছে না বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। ফ্র্যাঞ্চাইজি এই ক্রিকেট লিগটির যাত্রা শুরুর পর থেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা অভিযোগের পাতা কেবল ভারী হয়েছে। টিমগুলো খেলোয়াড়দের বকেয়া দিচ্ছে না, হোটেল ভাড়া দিচ্ছে না। বিসিবি’র কোন নিয়ম কানুনই সঠিকভাবে পালন করছে না। খেলা শেষে প্রতিনিয়ত এমন অভিযোগ থেকেই যাচ্ছে। যে কারণে আগামী মৌসুমে বিপিএল পরিচারনা বন্ধ রেখেছে বিসিবি। তবে এর অর্থ এই নয় যে বিপিএল শুরু হবে না। শুরু হবে,তবে সব গুচিয়ে হবে। এমন সব বক্তব্য আজ হঠাৎ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেছেন বিসিবি’র তরুণ বস তামিম ইকবাল। তবে বিপিএল এর প্রভাব যেন ক্রিকেটারদের উপর যেন না পড়ে সে ব্যবস্থা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, জানালেন তামিম। তিনি পরিস্কার জানিয়েছেন,বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ক্রিকেটারদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তার দাবি, ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ডের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বরং তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই বর্তমান বোর্ডের অন্যতম লক্ষ্য। ক্রিকেটাররা যেন আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ্য না হয় সে জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটের পারিশ্রমিকও বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
তামিম বলেন, ‘এই ক্রিকেট বোর্ড প্রচণ্ড পরিমাণে ক্রিকেটারদের সম্মান করে। এই বোর্ডের মানসিকতাই হলো, আমরা এখানে ক্রিকেটারদের সেবা করার জন্য। বাংলাদেশের ক্রিকেট সঠিকভাবে এগিয়ে যাক, উন্নতি করুক, সুযোগ-সুবিধা বাড়ুক।’
অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব নেয়ার পরপরই একযোগে সব ক্রিকেটারদের বেতন বাড়িয়েছিলেন তামিম। এবার তাদের খুশি করতে ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করেছে বিসিবি। ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াতে ম্যাচ ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ওয়ানডেতে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা করা হয়েছে। নারী ক্রিকেটেও ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। তিন দিনের ম্যাচের পারিশ্রমিক ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা, অন্য ক্যাটাগরিতে ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
তামিমের দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে একজন নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেটার পুরো মৌসুম খেললে বেতনসহ বছরে আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন, ‘এটা দিয়ে হয়তো গাড়ি-বাড়ি সব করা যাবে না। কিন্তু একটা পরিবার ভালোভাবে চালানোর জন্য তাদের আর টেনশন করার দরকার পড়বে না।’
বিপিএল না হওয়ার কারণে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে শুধু এক বছরের জন্য ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন তামিম, ‘আমি যদি শুধু তাদের খুশি করার জন্য এটা করতাম, তাহলে এক বছরের জন্য করতাম। বলতাম, এক বছর এটা হবে, পরের বছর বিপিএল হলে আবার আগের মতো হয়ে যাবে। আমি ওই ধরনের মানসিকতার মানুষ নই, আমার বোর্ডও নয়।’
তামিম জানান, ভবিষ্যতে বিসিবির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলে এই পারিশ্রমিক আরও বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে ক্রিকেটারদের কাছেও পেশাদারিত্ব প্রত্যাশা করছে বোর্ড। ফিটনেস টেস্টসহ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের পেশাদার কাঠামো আরও কঠোরভাবে মনিটর করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বিপিএল নিয়ে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তামিম স্পষ্ট করেন, এবারের আসর বাতিল করা হয়নি।বরং স্থগিত করা হয়েছে। টুর্নামেন্টকে আরও গোছানো ও স্বচ্ছভাবে আয়োজন করাই তাদের লক্ষ্য, ‘আবারও বলছি, বিপিএল বন্ধ হয়নি, বিপিএল বাদও দেওয়া হয়নি। বিপিএল স্থগিত হয়েছে। আমরা বিপিএলকে ভালোভাবে করার যথেষ্ট চেষ্টা করব। বিসিবি তার অংশটা ভালোভাবে দেখবে, ফ্র্যাঞ্চাইজিরাও তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করবে। আমরা একটি নিট অ্যান্ড ক্লিন বিপিএল করার চেষ্টা করব।’
এ জন্য কিছুটা সময় বেশি লাগলে কিংবা কারও সাময়িক অসুবিধা হলে সেটিকে সমস্যা হিসেবে দেখছেন না তিনি। তামিমের ভাষায়, ‘এর জন্য যদি একটু সময় লাগে, কিছু মানুষের কষ্ট হয় বা খারাপ লাগে, সেটা একেবারেই ঠিক আছে। খেলোয়াড়েরা হতাশ। আমি সেটা মানি, হতাশ হওয়ারই কথা। কিন্তু কিছু সিদ্ধান্ত আমাকে নিতেই হবে। কে কী ভাবছে, কে কী বলছে সেটা না ভেবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত আমি নেব।’
বিপিএল না হওয়ায় স্থানীয় ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি কমাতে শুধু ৫০-৭০ জন খেলোয়াড়কে সুবিধা দেওয়ার পরিবর্তে দেশের সব ক্রিকেটারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তামিম। তিনি বলেন, ‘বিপিএলে হয়তো ৫০, ৬০, ৬৫ বা ৭০ জন স্থানীয় ক্রিকেটার খেলতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণি, লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ক্রিকেটার জড়িত। আমি এক বছরের সমাধান চাইনি। আমি এমন সমাধান চেয়েছি, যেটা বছরের পর বছর তারা উপকৃত হবে।’
তামিমের মতে, শুধু পুরুষ ক্রিকেটার নয়, নারী ক্রিকেটারদেরও সমানভাবে বিবেচনায় রাখতে হবে। তার ভাষায়, ‘আমি কেন শুধু ৬০ জন ক্রিকেটারের জন্য করব? যারা যারা খেলে, তাদের জন্য করতে হবে। আমাদের নারী দলের জন্যও করতে হবে। সবার জন্য করতে হবে। ‘সবারটাই হচ্ছে। আমরা একটি রিভিউ কমিটি করেছি। একজন কর্মী, স্কোরার, আম্পায়ার, কোচ, ট্রেইনার কিংবা ফিজিও…যে-ই ভালো করছে, সবার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। খুব দ্রুত তাদের সবার জন্য একটি মানসম্মত বেতন কাঠামো তৈরি করা হবে,’ বলেন তিনি।
বিপিএলকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নতুন ফ্রেমওয়ার্ক এবং রেভিনিউ মডেল তৈরির কাজ চলছে বলে জানান বিসিবি সভাপতি. ‘আমাদের ফ্রেমওয়ার্ক পরিবর্তন করতে হবে। একটি রেভিনিউ মডেল চালু করতে হবে। একটা বড় সফল টুর্নামেন্ট করতে বছরের পর বছর পরিকল্পনা করতে হয়। আমাদের ক্ষেত্রেও সময় লাগবে।’
তিনি জানান, নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি, বিদেশি বিনিয়োগ, কোনো এজেন্সির মাধ্যমে কাজ করা কিংবা বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।















