ঢাকা ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

দুদককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুললেন আসিফ মাহমুদ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:১৯:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৪১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত শুরু করেছে৷ দুদকের এই অভিযানকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা৷ তার মতে, দুদকের সাম্প্রতিক অভিযোগের সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনো সামঞ্জস্য নেই৷

৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পরবর্তীতে ১৫০ জনের পদায়নকে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত করে দুদক যে অভিযোগ এনেছে, সেটিতে আদালতের রায় বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান আসিফ মাহমুদ।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘আদালতের রায়ের কারণেই তাদের নবম গ্রেডের চলতি দায়িত্ব বাতিল করে দশম গ্রেডের মূল পদে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ওই ৩৮টি পদসহ বিদ্যমান শূন্য পদে পদোন্নতির জন্য পিএসসির মতামত চাওয়া হয়। জ্যেষ্ঠতার তালিকা, সার্ভিস রেকর্ড, এসিআর ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনার জন্য পিএসসিতে পাঠানো হয়। পিএসসি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এই প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়ের নিজস্বভাবে কাউকে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ নেই।’

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘পিএসসি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে একটি তালিকা তৈরি করে সুপারিশ করে এবং মন্ত্রণালয় সেই জ্যেষ্ঠতার তালিকা অনুযায়ী তাদের পদোন্নতি দেয়।’

আদালতের রায় বাস্তবায়ন এবং পিএসসির পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় নিজের ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা ছিল না বলেও জানান এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘এ দুটি প্রক্রিয়ার কোনোটিতেই আমার ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ ছিল না। একটি আদালতের, আরেকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের।’

দুদকের অনুসন্ধানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে অভিযোগে করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বিরোধী দলকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনকে আবারও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার জন্যই বিএনপি সরকার দুদকের সংস্কার প্রক্রিয়া বাতিল করেছে।’

দুদক মুখপাত্রের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপিনেতা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘দুদকের মুখপাত্র যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার না করেন, তাহলে আমি আইনি ব্যবস্থা নেব।’

একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব নথি ও তথ্য পর্যালোচনার আহ্বান জানান আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘সত্যতা উদঘাটনের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত আছি।’

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে ১০ম গ্রেডের ১১২ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি ছাড়াই ৯ম গ্রেডের উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই আদেশ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে ২০২৫ সালে আদালত তা অবৈধ ঘোষণা করেন। সে সময় ১১২ জনের মধ্যে ৩৮ জন চলতি দায়িত্বে ছিলেন। বাকিরা ইতোমধ্যে অবসরে গিয়েছিলেন অথবা নিয়মিত পদোন্নতি পেয়েছিলেন। আদালতের রায় অনুসারে ওই ৩৮ জনকে চলতি দায়িত্ব বাতিল করে মূল পদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়৷

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দুদককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুললেন আসিফ মাহমুদ

আপডেট সময় : ০২:১৯:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত শুরু করেছে৷ দুদকের এই অভিযানকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা৷ তার মতে, দুদকের সাম্প্রতিক অভিযোগের সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনো সামঞ্জস্য নেই৷

৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পরবর্তীতে ১৫০ জনের পদায়নকে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত করে দুদক যে অভিযোগ এনেছে, সেটিতে আদালতের রায় বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান আসিফ মাহমুদ।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘আদালতের রায়ের কারণেই তাদের নবম গ্রেডের চলতি দায়িত্ব বাতিল করে দশম গ্রেডের মূল পদে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ওই ৩৮টি পদসহ বিদ্যমান শূন্য পদে পদোন্নতির জন্য পিএসসির মতামত চাওয়া হয়। জ্যেষ্ঠতার তালিকা, সার্ভিস রেকর্ড, এসিআর ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনার জন্য পিএসসিতে পাঠানো হয়। পিএসসি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এই প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়ের নিজস্বভাবে কাউকে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ নেই।’

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘পিএসসি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে একটি তালিকা তৈরি করে সুপারিশ করে এবং মন্ত্রণালয় সেই জ্যেষ্ঠতার তালিকা অনুযায়ী তাদের পদোন্নতি দেয়।’

আদালতের রায় বাস্তবায়ন এবং পিএসসির পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় নিজের ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা ছিল না বলেও জানান এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘এ দুটি প্রক্রিয়ার কোনোটিতেই আমার ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ ছিল না। একটি আদালতের, আরেকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের।’

দুদকের অনুসন্ধানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে অভিযোগে করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বিরোধী দলকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনকে আবারও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার জন্যই বিএনপি সরকার দুদকের সংস্কার প্রক্রিয়া বাতিল করেছে।’

দুদক মুখপাত্রের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপিনেতা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘দুদকের মুখপাত্র যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার না করেন, তাহলে আমি আইনি ব্যবস্থা নেব।’

একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব নথি ও তথ্য পর্যালোচনার আহ্বান জানান আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘সত্যতা উদঘাটনের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত আছি।’

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে ১০ম গ্রেডের ১১২ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি ছাড়াই ৯ম গ্রেডের উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই আদেশ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে ২০২৫ সালে আদালত তা অবৈধ ঘোষণা করেন। সে সময় ১১২ জনের মধ্যে ৩৮ জন চলতি দায়িত্বে ছিলেন। বাকিরা ইতোমধ্যে অবসরে গিয়েছিলেন অথবা নিয়মিত পদোন্নতি পেয়েছিলেন। আদালতের রায় অনুসারে ওই ৩৮ জনকে চলতি দায়িত্ব বাতিল করে মূল পদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়৷