ঢাকা ১১:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

চট্টগ্রামের খুলশিতে দেশ-বিদেশী চক্রদের আস্তানা, পুলিশের হাতে গ্রেফতার ৬৩

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৪৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের খুলশী এলাকার একটি বাড়ি থেকে পুলিশ ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। এরপর উঠে এসেছে নতুন তথ্য।  এক দুবাই প্রবাসী বাড়ি থেকে এই সংঘবদ্ধ চক্রটিকে গ্রেফতার করা হয়। সেখানে প্রবাসী ও দেশি-বিদেশি সহযোগীদের মাধ্যমে অপরাধমূলক অনলাইন নেটওয়ার্ক পরিচালনা হচ্ছিল। এটি অপরাধ চক্রটি সারা দেশে বসে নানা ধরণের অপরাধ মূলক কাজ করে আসছে।

প্রশ্ন উঠেছে নারী-পুরুষ মিলে এই অপরাধ চক্রটি করছেটা কি?  পুলিশি অভিযানে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য—চট্টগ্রামের অভিজাত এলাকা খুলশীতে বিলাসবহুল বাসা বা ভবন ভাড়া নিয়ে সম্প্রতি বড় ধরনের আন্তর্জাতিক ও আন্তঃদেশীয় অনলাইন অপরাধ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করার তথ্য উন্মোচিত হয়েছে।  চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ওই বাড়িতে প্রায় দেড় মাস ধরে অবস্থান করছিলেন চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিকরা। পুলিশের অভিযানে একসঙ্গে বিশাল বহর আটকের পর বেরিয়ে এসেছে এমন সব তথ্য।

খুলশীর জালালাবাদ ও কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি ৮ তলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাট পুরোটা ভাড়া নিয়ে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের এই  বিদেশি নাগরিক (যার মধ্যে ২০ জন নারী) অবস্থান করছিলেন।

সেখানকার ফ্ল্যাটগুলোতে সার্ভার, উচ্চগতির ইন্টারনেট, ল্যাপটপ, কম্পিউটার এবং বিভিন্ন ধরনের আধুনিক প্রযুক্তিগত ডিভাইস স্থাপন করে একটি অপরাধভিত্তিক ডেটা অ্যান্ড অপারেশন্স হাব তৈরি করা হয়েছিল।

 এসব ডিভাইস ব্যবহার করে ভুয়া বিনিয়োগ অ্যাপ, অনলাইন জুয়া, বিদেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরির লোভ দেখিয়ে নিবন্ধন ফি হাতিয়ে নেওয়া, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতারণা চালিয়ে আসছিল তারা।

 আটককৃত এসব বিদেশিদের কারও কাছে বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা পাওয়া যায়নি। মূল ভিসা ও পাসপোর্ট নথিগুলো দেশীয় একটি চক্র নিজেদের জিম্মায় রেখে তাদের দিয়ে অবৈধ কাজ করাত।

তাদের লজিস্টিক সহায়তা দিতেন দেশীয় চক্রের কয়েকজন সদস্য। যারা খুলশীতে এই ৮ তলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া, বিদ্যুৎ ও হাই-স্পিড ইন্টারনেট সংযোগ, খাওয়া-দাওয়া এবং নিরাপত্তা দেওয়ার সার্বিক ব্যবস্থা করেছিল।

অর্থ পাচার ও হুন্ডি দেশের ভেতর এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং তা ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করছিল চক্রটি।

অনলাইন প্রতারণা ছাড়াও ছদ্মবেশে করা হতো ডাকাতি ও অপহরণ। খুলশীর বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে ভুয়া পরিচয় দিয়ে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার নজির রয়েছে। যেমন, একটি চক্র নিজেদের ‘টিভি সাংবাদিক’ বা ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য’ পরিচয় দিয়ে বাড়িতে ঢুকে তল্লাশির নামে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও গাড়ি লুট করে সটকে পড়েছিল।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা পুলিশ সম্প্রতি যৌথ অভিযান চালিয়ে খুলশীর ওই আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ আইটি সরঞ্জামসহ এই বিদেশিদের গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের দেশীয় মাস্টারমাইন্ডদের খুঁজে বের করতে তদন্ত জোরদার করেছে।

 তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বাড়ির মালিক, আশপাশের বাসিন্দা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা জানতেন? আসামিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোন দেশের নাগরিক ছিলেন, কে বা কারা বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন এবং ভাড়াটেদের পরিচয় যাচাই কীভাবে হয়েছিল— এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনসের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ জানান, খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির মালিক একজন দুবাইপ্রবাসী। প্রায় দেড় মাস আগে বাড়িটি ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকতে শুরু করেন বিদেশি নাগরিকরা।

অভিযানে উদ্ধার করা ডিভাইসের সংখ্যা থেকে বোঝা যায়, বাড়িটিতে অনলাইনভিত্তিক কাজের জন্য একটি সংগঠিত সেটআপ ছিল। ৬৩ জনের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৩৪টি মোবাইল ফোন। অর্থাৎ গড়ে প্রায় দুইটি করে মোবাইল ছিল প্রত্যেকের জন্য। এর পাশাপাশি পাওয়া গেছে ৫৭টি ল্যাপটপ।

এ ছাড়া একটি অ্যাপল ট্যাব, সিপিইউ, স্যামসাং মনিটর, কিবোর্ড, মাউস, প্রিন্টার ও পাঁচটি পেনড্রাইভ উদ্ধার করা হয়েছে। পাওয়া গেছে চারটি সিমকার্ড। পাকিস্তানের তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং কম্বোডিয়ার একটি কর্মসংস্থান কার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, এতগুলো ডিভাইস কেন এবং কী কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল, এখন সেটিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে অনলাইন যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন, ব্যবহৃত ওয়েবসাইট ও প্ল্যাটফর্‌ম এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করবে তারা।

পুলিশ বলছে, এই চক্রের কার্যক্রম শুধু ওই বাড়ির ৬৩ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশীয় ও বিদেশি সহযোগীদের কথা জানিয়েছেন। তাদের কয়েকজন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন বলে পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন তারা।

এই সহযোগীরা কী ধরনের সহায়তা দিতেন, বাড়ি ভাড়া নেওয়া, যাতায়াত, যোগাযোগ, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সংগ্রহ কিংবা অর্থ লেনদেনে তাদের ভূমিকা ছিল কি না— এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাবে। কারণ, এতজন বিদেশি নাগরিকের জন্য বাসস্থান, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা এককভাবে পরিচালনা করা কঠিন।

অনলাইন অপরাধের জন্য ভৌগোলিক অবস্থান অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ না হলেও চট্টগ্রাম বন্দরনগরী হওয়ায় এখানে দেশি-বিদেশি মানুষের চলাচল তুলনামূলক বেশি। বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আনাগোনাও রয়েছে। সেই সুযোগকে অপরাধী চক্র ব্যবহার করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের চট্টগ্রামে আসার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, তারা কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন কিংবা তাদের ভিসার ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের ফরেনসিক বিশ্লেষণেই এসব প্রশ্নের অনেক উত্তর মিলতে পারে। একই সঙ্গে ওই বাড়ির ভাড়া চুক্তি, বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে আসার নথি এবং তাদের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছে।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, এ ঘটনায় খুলশী থানায় মামলা হচ্ছে। তদন্ত এগিয়ে গেলে চট্টগ্রামের ওই বাড়ি থেকে পরিচালিত অনলাইন কর্মকাণ্ডের ধরন এবং এর সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

চট্টগ্রামের খুলশিতে দেশ-বিদেশী চক্রদের আস্তানা, পুলিশের হাতে গ্রেফতার ৬৩

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামের খুলশী এলাকার একটি বাড়ি থেকে পুলিশ ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। এরপর উঠে এসেছে নতুন তথ্য।  এক দুবাই প্রবাসী বাড়ি থেকে এই সংঘবদ্ধ চক্রটিকে গ্রেফতার করা হয়। সেখানে প্রবাসী ও দেশি-বিদেশি সহযোগীদের মাধ্যমে অপরাধমূলক অনলাইন নেটওয়ার্ক পরিচালনা হচ্ছিল। এটি অপরাধ চক্রটি সারা দেশে বসে নানা ধরণের অপরাধ মূলক কাজ করে আসছে।

প্রশ্ন উঠেছে নারী-পুরুষ মিলে এই অপরাধ চক্রটি করছেটা কি?  পুলিশি অভিযানে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য—চট্টগ্রামের অভিজাত এলাকা খুলশীতে বিলাসবহুল বাসা বা ভবন ভাড়া নিয়ে সম্প্রতি বড় ধরনের আন্তর্জাতিক ও আন্তঃদেশীয় অনলাইন অপরাধ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করার তথ্য উন্মোচিত হয়েছে।  চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ওই বাড়িতে প্রায় দেড় মাস ধরে অবস্থান করছিলেন চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিকরা। পুলিশের অভিযানে একসঙ্গে বিশাল বহর আটকের পর বেরিয়ে এসেছে এমন সব তথ্য।

খুলশীর জালালাবাদ ও কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি ৮ তলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাট পুরোটা ভাড়া নিয়ে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের এই  বিদেশি নাগরিক (যার মধ্যে ২০ জন নারী) অবস্থান করছিলেন।

সেখানকার ফ্ল্যাটগুলোতে সার্ভার, উচ্চগতির ইন্টারনেট, ল্যাপটপ, কম্পিউটার এবং বিভিন্ন ধরনের আধুনিক প্রযুক্তিগত ডিভাইস স্থাপন করে একটি অপরাধভিত্তিক ডেটা অ্যান্ড অপারেশন্স হাব তৈরি করা হয়েছিল।

 এসব ডিভাইস ব্যবহার করে ভুয়া বিনিয়োগ অ্যাপ, অনলাইন জুয়া, বিদেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরির লোভ দেখিয়ে নিবন্ধন ফি হাতিয়ে নেওয়া, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতারণা চালিয়ে আসছিল তারা।

 আটককৃত এসব বিদেশিদের কারও কাছে বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা পাওয়া যায়নি। মূল ভিসা ও পাসপোর্ট নথিগুলো দেশীয় একটি চক্র নিজেদের জিম্মায় রেখে তাদের দিয়ে অবৈধ কাজ করাত।

তাদের লজিস্টিক সহায়তা দিতেন দেশীয় চক্রের কয়েকজন সদস্য। যারা খুলশীতে এই ৮ তলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া, বিদ্যুৎ ও হাই-স্পিড ইন্টারনেট সংযোগ, খাওয়া-দাওয়া এবং নিরাপত্তা দেওয়ার সার্বিক ব্যবস্থা করেছিল।

অর্থ পাচার ও হুন্ডি দেশের ভেতর এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং তা ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করছিল চক্রটি।

অনলাইন প্রতারণা ছাড়াও ছদ্মবেশে করা হতো ডাকাতি ও অপহরণ। খুলশীর বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে ভুয়া পরিচয় দিয়ে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার নজির রয়েছে। যেমন, একটি চক্র নিজেদের ‘টিভি সাংবাদিক’ বা ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য’ পরিচয় দিয়ে বাড়িতে ঢুকে তল্লাশির নামে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও গাড়ি লুট করে সটকে পড়েছিল।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা পুলিশ সম্প্রতি যৌথ অভিযান চালিয়ে খুলশীর ওই আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ আইটি সরঞ্জামসহ এই বিদেশিদের গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের দেশীয় মাস্টারমাইন্ডদের খুঁজে বের করতে তদন্ত জোরদার করেছে।

 তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বাড়ির মালিক, আশপাশের বাসিন্দা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা জানতেন? আসামিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোন দেশের নাগরিক ছিলেন, কে বা কারা বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন এবং ভাড়াটেদের পরিচয় যাচাই কীভাবে হয়েছিল— এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনসের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ জানান, খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির মালিক একজন দুবাইপ্রবাসী। প্রায় দেড় মাস আগে বাড়িটি ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকতে শুরু করেন বিদেশি নাগরিকরা।

অভিযানে উদ্ধার করা ডিভাইসের সংখ্যা থেকে বোঝা যায়, বাড়িটিতে অনলাইনভিত্তিক কাজের জন্য একটি সংগঠিত সেটআপ ছিল। ৬৩ জনের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৩৪টি মোবাইল ফোন। অর্থাৎ গড়ে প্রায় দুইটি করে মোবাইল ছিল প্রত্যেকের জন্য। এর পাশাপাশি পাওয়া গেছে ৫৭টি ল্যাপটপ।

এ ছাড়া একটি অ্যাপল ট্যাব, সিপিইউ, স্যামসাং মনিটর, কিবোর্ড, মাউস, প্রিন্টার ও পাঁচটি পেনড্রাইভ উদ্ধার করা হয়েছে। পাওয়া গেছে চারটি সিমকার্ড। পাকিস্তানের তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং কম্বোডিয়ার একটি কর্মসংস্থান কার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, এতগুলো ডিভাইস কেন এবং কী কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল, এখন সেটিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে অনলাইন যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন, ব্যবহৃত ওয়েবসাইট ও প্ল্যাটফর্‌ম এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করবে তারা।

পুলিশ বলছে, এই চক্রের কার্যক্রম শুধু ওই বাড়ির ৬৩ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশীয় ও বিদেশি সহযোগীদের কথা জানিয়েছেন। তাদের কয়েকজন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন বলে পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন তারা।

এই সহযোগীরা কী ধরনের সহায়তা দিতেন, বাড়ি ভাড়া নেওয়া, যাতায়াত, যোগাযোগ, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সংগ্রহ কিংবা অর্থ লেনদেনে তাদের ভূমিকা ছিল কি না— এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাবে। কারণ, এতজন বিদেশি নাগরিকের জন্য বাসস্থান, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা এককভাবে পরিচালনা করা কঠিন।

অনলাইন অপরাধের জন্য ভৌগোলিক অবস্থান অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ না হলেও চট্টগ্রাম বন্দরনগরী হওয়ায় এখানে দেশি-বিদেশি মানুষের চলাচল তুলনামূলক বেশি। বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আনাগোনাও রয়েছে। সেই সুযোগকে অপরাধী চক্র ব্যবহার করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের চট্টগ্রামে আসার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, তারা কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন কিংবা তাদের ভিসার ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের ফরেনসিক বিশ্লেষণেই এসব প্রশ্নের অনেক উত্তর মিলতে পারে। একই সঙ্গে ওই বাড়ির ভাড়া চুক্তি, বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে আসার নথি এবং তাদের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছে।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, এ ঘটনায় খুলশী থানায় মামলা হচ্ছে। তদন্ত এগিয়ে গেলে চট্টগ্রামের ওই বাড়ি থেকে পরিচালিত অনলাইন কর্মকাণ্ডের ধরন এবং এর সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।