এশিয়ান গেমস: বাংলাদেশের ২৬০ কন্টিনজেন্টে পদক সম্ভাবনায় শুধু ক্রিকেট ও কাবাডি
- আপডেট সময় : ১০:০৭:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৮৫ বার পড়া হয়েছে
এশিয়ান গেমস কড়া নাড়ছে। জাপানের আইসি-নাগোয়া সিটিতে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। পর্দা নামবে আগামী ৪ অক্টোবর। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদদের প্রস্তুতি চলছে গেমস অংশ নেয়ার। আগামী সপ্তাহ থেকেই আয়োজক জাপানের নাগোয়া সিটিতে ক্রীড়াবিদদের পদচারণা শুরু হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টও প্রস্তুত নাগোয়া যাত্রায়। সর্বশেষ প্রস্তুতি শেষে এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়া ক্রীড়াবিদদের পদভারে আজ মুখোরিত ছিলো বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন। মিডিয়া কর্মীদের সামনে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের কোচ ও কর্মকর্তারা স্ব স্ব খেলার অবস্থান তুলে ধরেছেন। তুলে ধরা হয়েছে প্রত্যাশার গল্প। আইসি-নাগোয়াতে তা এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষা।
কয়টি পদক জেতার স্বপ্ন দেখছে বিওএ? কিংবা কোন কোন ইভেন্টে পদকের স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, এ নিয়ে সবার মধ্যে চলছে রাজ্যের আলোচনা। তবে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের অতীত ইতিহাস কখনোই আশাব্যঞ্জক ছিলো না। পিছনের রেকর্ড বলছে, স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হওয়ার পর বাংলাদেশ ১৯৭৮ সালে সর্বপ্রথম এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়, অস্টম এশিয়ান গেমসে। কোন পদক জিতে নি। ১৯৮২ সালেও ছিলো পদকশুন্য। ১৯৮৬ সালে তৃতীয় অংশগ্রহনে পদকে নাম লিখায় বাংলাদেশ। বক্সার মোশরাফ হোসেন লাইট হেভিওয়েটে ব্রোঞ্চ জিতে হৈচৈ ফেলে দেন। এরপর প্রতিটি আসরে পদক পেলেও প্রত্যাশা পূরণের অনেক দূরে অবস্থান বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের। বক্সার মোশারফের পর ব্যক্তিগত কোন ইভেন্টেই পদক জিতেনি বাংলাদেশ। তবে দলগত ইভেন্ট ক্রিকেট ও কাবাডিতে ধারাবাহিকভাবে পদক তালিকায় নাম লিখিয়ে আসছে বাংলাদেশ। সবমিলে গত ১২টি আসরে বাংলাদেশের ঘরে জমা পড়েছে ১৪টি এশিয়ান গেমসের পদক। যার মধ্যে ছিল ১টি স্বর্ণ,৩টি রোপ্য এবং৮টি ব্রোঞ্চপদক। স্বর্ণ পদকটি এসেছিলো এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্তির শুরুতেই,২০১০ সালে। ভারত,পাকিস্তান শক্তিশালী দল অংশ না নেওয়ায় বাংলাদেশের ভাগ্যে সোনার পদকের দেখা মিলে। বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডিতে জুটেছে তিনবার রৌপ্য পদক। কিন্তু প্রতিপক্ষ দলগুলো শক্তিশালী দল গঠন করতেই এই ডিসিপ্লিনেও টিকে থাকাটাও কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়ায়। বাংলাদেশী কোচ দ্বারা প্রশিক্ষণ নেয়া জাপান, ইরান ও এখন কাবাডিতে বাংলাদেশের কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে দাড়িয়েছে।
প্রতিযোগিতা বাড়ছে, প্রতিদ্বন্দিতা বাড়ছে, এমনকি বাংলাদেশ কন্টিনজেনজেন্টের সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু মানের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বদলায় নি। এবারও যে তার ব্যাতিক্রম হবে না তা কোচ ও কর্মকর্তাদের স্বপ্নের আড়ালে উকি মারছে। আইসি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ২২টি ডিসিপ্লিনে নারী-পুরুষ মিলে মোট ১৮৭ জন ক্রীড়াবিদ অংশ নিচ্ছেন। কর্মকর্তাসহ সেই সংখ্যা দাড়িয়েছে ২৬০জনে। এবারও পদক পাওয়ার স্বপ্ন ও সম্ভাবনার দুয়ারে দাড়িয়ে ক্রিকেট (নারী,পরুষ),কাবাডি (ননারী,পুরুষ), অ্যারচারি (নারী.পুরুষ) ও শুটিং (নারী,পুরুষ)। সাততটি ডিসিপ্লিন- জিমন্যাস্টিকস, বক্সিং, ভারোত্তোলন, কুস্তি, টেবিল টেনিস,জুডো,ব্যাডমিন্টন কঠিন প্রতিদ্বন্দিতা করার। বাকি গুলো একেবারেই নামেমাত্র অংশগ্রহন করা হচ্ছে বলে উপস্থিত কোচ ও কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। আর নাম মাত্র অংশগ্রহন করা ডিসিপ্লিনগুলো হচ্ছে যথাক্রমে- অ্যাথলেটিক্স, সাইক্লিং, ফুটবল (নারী), ফেন্সিং, গলফ, হকি (নারী,পুরষ), কারাতে, সার্ফিং (নারী,পুরুষ), সুইমিং (নারী,পুরুষ), উশু (নারী,পুরুষ)। প্রত্যাশা নিয়ে এই ডিসিপ্লিনগুলোর কোচ ও কর্মকর্তাদের বক্তব্যে পরিস্কার, এটি যেন তাদের জন্য একটি বিনোদন ট্যুর।
তবে বিশাল এই বহরের জাপান সফরের আগে বিওএ আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সর্বশেষ প্রশ্নটি ছিলো ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের কোচের। ঠিক প্রশ্ন না বলে দাবীও বলা যায়। তিনি হাত উচিয়ে কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বলেছেন, কোন গেমসের পূর্বে কম পক্ষে এক বছরের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চাই। তার আগে কোন প্রত্যাশা করা উচিত হবে না।’
এটা ঠিক যে কোন গেমস শুরুর ঠিক দুই/তিনমাস আগ থেকে প্রশিক্ষণ শুরু করা হয়। কোন কোন ডিসিপ্লিন তো পনের দিনের প্রস্তুতি নিয়েও অংশ নেয়। ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের এই পুরানো অভ্যাস বদলানোটাও যেন সময়ের দাবি।
চ্যালেঞ্জিং টুর্নামেন্ট তবে ফাইনালে যাবার সম্ভাবনাও রয়েছে : সালাউদ্দিন

তবে আজ সোমবার বিওএ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নপর্বে সবার দৃষ্টি ছিলো ক্রিকেটে। শক্তিশালী দল গঠন করা বাংলাদেশ দল পারবে তো সোনার পদক জিততে? কারণ এশিয়ান গেমসে এই প্রথম বাংলাদেশ পূর্ণশক্তির দল সাজিয়েছে। মূল একাদশ নিয়েই তারা এশিয়ান গেমসে যাচ্ছে। কিন্তু ভারত,পাকিস্তান ও শ্রীলংকাও যে শক্তিশালী দল পাঠাচ্ছে! তাই হয়ত ক্রিকেট কোচ সালাউদ্দিন খুব উচু গলায় প্রত্যাশা দেখাননি। হতে পারে এটি তার এক ধরণের কৌশল। যদিও এইচপি দল পাঠানোর কথা ছিলো জাপানে। কিন্তু ভারত,পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার শক্তিশালী দল অংশ নিতে দেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলায়। এ কারণেই হয়ত সালাউদ্দিন এশিয়ান গেমস ক্রিকেট কঠিণ চ্যালেঞ্জ মানছেন।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা একটা চ্যালেঞ্জিং টুর্নামেন্ট হবে। আমাদের যে সূচি আছে, আমি মনে করি আমাদের ফাইনালে যাওয়ার মতো খুব ভালো একটা সুযোগ আছে, আমরা যদি ভালো খেলি।’
‘গত কয়েকটা সিরিজে আমরা টি-টোয়েন্টি খেলছি না। আমরা যত তাড়াতাড়ি পারি এটা মানিয়ে নেব। টি-টোয়েন্টি আমরা যে ছন্দে ছিলাম তিন-চার মাস আগে সেই ছন্দটা কত তাড়াতাড়ি নিয়ে আসতে পারি- ছেলেদের জন্য এটাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। যেহেতু টেস্ট খেলছিলাম, ওয়ানডে খেলছিলাম, টি-টোয়েন্টি গত কয়েকটা মাস খেলিনি।’
এদিকে এশিয়ান গেমসের উইকেট বানিয়েছেন গামিনি ডি সিলভা। যে কারণে স্লো উইকেটের শঙ্কা থাকছে। সালাউদ্দিন বললেন, ‘গামিনির দোষ দিয়ে তো লাভ নেই। আমরা নিজেরাই বানাতে পারতাম এমন উইকেট, কারণ উইকেট একদম নতুন। দেশের আবহাওয়া ওপর নির্ভর করবে উইকেট কেমন হবে।’
এশিয়ান গেমস হলেও এই দলের নেতৃত্বে থাকাটায় নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আসলে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার ভাগ্য সবার সবসময় হয় না। আমি মনে করি এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সবাই আশা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভালো করবে। আমরা সাধারণত খুব বেশি পদকও পাই না। কিন্তু যেহেতু ক্রিকেট, আমি মনে করি পুরো দেশ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে যাতে আমরা ভালো করি।’
‘আমি আশাবাদী আমরা ভালো করব। দেখুন-যেহেতু খেলাধুলা করতে আসছি এখানে চ্যাম্পিয়ন চিন্তা করা ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করব ছেলে-মেয়েরা ভালো করবে এবং আমরা ভালো পদক নিয়ে আসব।’-যোগ করেন তিনি।
সালাউদ্দিনের কাছে ভালো খেলাই মূখ্য, ‘অন্য জায়গায় যখন আমরা খেলতে যাই তখন অনেক সুযোগ-সুবিধা পাই, দর্শকও থাকে। অনেক সময় ভালো রেজাল্ট করি না, সবসময় চ্যালেঞ্জিং। তবে দর্শক থাকাটা আমার কাছে খুব বড় একটা ফ্যাক্টর না। আমরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছি, আমরা ভালো খেলব এবং খেলাটাই মূখ্য। চ্যালেঞ্জ থাকবেই।’



















