বাংলাদেশের চেয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবলে অনেক শক্তিশালী। তাই পরাজয়ের বিষয়টি ছিল একেবারেই বাস্তবতা। তবে ব্যবধানের দিকে ছিলো সবার দৃষ্টি। আগের ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে দশ গোল হজম করায় দক্ষিণ কোরিয়ার কাছেও বড় ব্যবধানের পরাজয় ছিলো নিশ্চিত। সেটা কতো গোলে সে দিকেই সবাই ছিলো তাকিয়ে। তবে আগের ম্যাচের তুলনায় যে কিছুটা ভালো করেছেন ঋতুপর্ণারা, সেটা কিন্তু পরিস্কার। প্রশ্ন জাগতে পারে ৬-০ গোলে হেরে যাওয়ার মধ্যে আবার ভালো করার কি আছে? হাঁ আছে, প্রথমার্ধে বাংলাদেশের মেয়েরা কিন্তু চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছিল। দম,স্ট্যামিনা,গতি এবং পাসিং পজিশন,ট্যাকনিকেল সব দিক থেকেই দক্ষিণ কোরিয়া নারী দলটি বাংলাদেশের চেয়ে যোজন যোজন প্রার্থক্য, অনেক এগিয়ে। বিশ্বকাপের ফাইটিং করা একটি দল। তাদের বিপক্ষে ছয় গোল হজম করাটাই এখানে অনেক বড় প্রাপ্তি। দ্বিতীয়ার্ধে দক্ষিন কোরিয়া চার গোল করে। তাও ছয় নাম্বার গোলটি হয়েছিল নব্বই মিনিটের পর অতিরিক্ত এক মিনিটের মাথায়। বড় এই দলটির বিপক্ষে এমন পরাজয়টাই ছিলো কঠিন বাস্তবতা।

ম্যাচ হারের পর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলারও সেই কথাটাই মনে করিয়ে দিলেন। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অকপটে স্বীকার করেছেন, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আর এশিয়ান পর্যায়ের ফুটবলের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। তার মতে, এই পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, সামর্থ্য ও মানসিক দৃঢ়তা এখনও বাংলাদেশের তৈরি হয়নি।
সাফ চ্যাম্পিয়ন হলেও এশিয়ার পরাশক্তিদের বিপক্ষে বাংলাদেশ যে এখনও অনেক পিছিয়ে, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বাটলার। বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই পর্যায়টা এই মুহূর্তে আমাদের জন্য অনেক বড় একটা ধাপ। আমি জোর দিয়ে বলছি, এই পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো সেই অবকাঠামো বা সামর্থ্য আমাদের নেই। আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, আমরা আমাদের ছোটখাটো সাফল্যেরই শিকার হয়েছি। সাফ পর্যায়ে খেলা আর এশিয়ান গেমস বা এশিয়ান কাপে খেলার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত।’
দক্ষিণ কোরিয়ার সামর্থ্যের প্রশংসাও করেছেন বাংলাদেশের কোচ। প্রতিপক্ষকে পুরো কৃতিত্ব দিয়ে বাটলার বলেন, ‘তারা খুব ভালো একটা দল। অলিম্পিক, এশিয়ান কাপের মতো আসরে তারা নিয়মিত খেলে। এত মানসম্পন্ন একটা দলের কাছে হারার মধ্যে কোনো লজ্জার কিছু নেই। তবে আপনি তো হতাশ হবেনই।’
উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে কঠিন ম্যাচ দুটিকে মূলত পরবর্তী মিয়ানমার ম্যাচের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন বাটলার। বড় ব্যবধানে হারের হতাশা পেছনে ফেলে এখন সেই ম্যাচেই মনোযোগ দিতে চান তিনি।
বাটলার বলেন, ‘নিজেদের সামলে নিয়ে, গায়ের ধুলো ঝেড়ে আমাদের আবার এগোতে হবে। যেমনটা বলেছিলাম, এই পুরো ব্যাপারটাই ছিল মিয়ানমার ম্যাচের প্রস্তুতি। মিয়ানমারও কোনো সহজ প্রতিপক্ষ হবে না। তাদের কোচ কলিন বেশ গোছানো একজন মানুষ এবং এই পর্যায়টা তিনি খুব ভালোভাবে চেনেন।’
বাংলাদেশ দল বর্তমানে একটি পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলেও মনে করেন বাটলার। এই পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে সময় ও বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।
বাটলার বলেন, ‘এই পর্যায়ে লড়াই করতে হলে আপনার সময় এবং বিনিয়োগের প্রয়োজন। এক দল খেলোয়াড় যখন তাদের ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে চলে আসে, তখন সেই শূন্যস্থান পূরণের জন্য নিয়মিত নতুন খেলোয়াড় খুঁজতে হয়। আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, আমরা একটি পালাবদলের মধ্যে আছি। দল হিসেবে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে আবার শুরু করাটাই এখন আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’