ঢাকা ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ার পথে বাংলাদেশ দল

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৩৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেই ২০০৩ সালে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন টাইগাররা। খালেদা জিয়া সরকারের সময় তখন  ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ছিলেন আলী আসগর লবি। এবার দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবারো অস্ট্রেলিয়ার পথে উড়াল ‍দিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

তখন দেশের ক্ষমতায় ছিলো খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। সেই বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই আবারো অস্ট্রেলিয়ায় দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে রওনা হলো ক্রিকেট দল।

দীর্ঘ এই সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক পরিবর্তনের হাওয়া বয়ে যায়। সে সুবাদে বদলায় দেশের ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা বিভাগও। তখন ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি ছিলেন আলী আসগর লবি। এবার দেশের ক্রিকেটের হাল ধরেছে তামিম ইকবাল খান। যার কিনা  ২৩ বছর আগে ক্রিকেটে সবে মাত্র হাতে খড়ি দেযা শুরু। তামিম ইকবালের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারই শুরু হয় ২০০৮ সালে। এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একের পর এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তারকা ক্রিকেটারের খ্যাতি অর্জন করেন তামিম।  খেলার মাঠ থেকে এখনো ঘামের গন্ধ ঠিক মতো না শুকাতেই তামিম বনে যান দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ব্যক্তি, নীতি নির্ধারক।

নির্বাচন পাল্টা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ক্রিকেট বোর্ডে। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এই চিত্র নতুন কিছু নয়। তবে কাকতালীয় ভাবে বিএনপি সরকারের ক্ষমতার সঙ্গে জাতীয় দলের অস্ট্রেলিয়া সফরটা কাকতালীয় ভাবে মিলে মিশে একেকার!

তবে ২৩ বছর আগের টেস্ট দল হিসেবে বাংলাদেশের সবে মাত্র শুরু। ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা লাভ করে বাংলাদেশ। তখন অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশ দলটির কাছে বড় কিছু প্রত্যাশা করাই ছিলো অনেকটা বাড়াবাড়ি। সেই সফরে বাংলাদেশ সিরিজ পরাজিত হয়েছিল।

তবে এবারের চিত্র ভিন্ন দেখছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। এই দুই দশকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের মানে অনেক পরিবর্তন এসেছে। ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষের দলের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জের একটি দল। ২০১৭ সালে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে রুখে দিয়েছিল, ১-১ সিরিজ সমতা রেখে। চলতি বছর ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হোয়াইট ওয়াশ হলেও বাংলাদেশ ওয়ান ডে সিরিজ অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে।

পরিবর্তনের এই হাওয়ায় ভেসে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়া জয় করার সাহস দেখাতেই পারে। তবে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত প্রত্যাশা করছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলার। অর্থাৎ  নিজেদের সামর্থ্যের নতুন প্রমাণ দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই দেশ ছেড়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয় বাংলাদেশ দলের প্রথম বহর। প্রথম দফায় দেশ ছাড়েন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম, অমিত হাসানসহ দলের কয়েকজন সদস্য।

তাদের সঙ্গে রয়েছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স, ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল, স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ এবং সাপোর্ট স্টাফের সদস্যরা। দলের বাকি সদস্যরা পৃথক ফ্লাইটে পরে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে যোগ দেবেন দলের সঙ্গে।
সিরিজের আগে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা আগেভাগেই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ। সেখানে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত টেস্ট লড়াই।
প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনের মারারা ওভালে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়।

সফরের আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ডারউইনের কন্ডিশন সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য না থাকলেও দলের বিশ্লেষকরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে যাওয়াকে নিজের জন্য বড় সৌভাগ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শান্ত বলেন, “অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাদের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে পারাটা আমার অনেক বড় সৌভাগ্যের।’

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ার পথে বাংলাদেশ দল

আপডেট সময় : ০৮:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেই ২০০৩ সালে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন টাইগাররা। খালেদা জিয়া সরকারের সময় তখন  ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ছিলেন আলী আসগর লবি। এবার দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবারো অস্ট্রেলিয়ার পথে উড়াল ‍দিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

তখন দেশের ক্ষমতায় ছিলো খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। সেই বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই আবারো অস্ট্রেলিয়ায় দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে রওনা হলো ক্রিকেট দল।

দীর্ঘ এই সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক পরিবর্তনের হাওয়া বয়ে যায়। সে সুবাদে বদলায় দেশের ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা বিভাগও। তখন ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি ছিলেন আলী আসগর লবি। এবার দেশের ক্রিকেটের হাল ধরেছে তামিম ইকবাল খান। যার কিনা  ২৩ বছর আগে ক্রিকেটে সবে মাত্র হাতে খড়ি দেযা শুরু। তামিম ইকবালের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারই শুরু হয় ২০০৮ সালে। এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একের পর এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তারকা ক্রিকেটারের খ্যাতি অর্জন করেন তামিম।  খেলার মাঠ থেকে এখনো ঘামের গন্ধ ঠিক মতো না শুকাতেই তামিম বনে যান দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ব্যক্তি, নীতি নির্ধারক।

নির্বাচন পাল্টা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ক্রিকেট বোর্ডে। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এই চিত্র নতুন কিছু নয়। তবে কাকতালীয় ভাবে বিএনপি সরকারের ক্ষমতার সঙ্গে জাতীয় দলের অস্ট্রেলিয়া সফরটা কাকতালীয় ভাবে মিলে মিশে একেকার!

তবে ২৩ বছর আগের টেস্ট দল হিসেবে বাংলাদেশের সবে মাত্র শুরু। ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা লাভ করে বাংলাদেশ। তখন অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশ দলটির কাছে বড় কিছু প্রত্যাশা করাই ছিলো অনেকটা বাড়াবাড়ি। সেই সফরে বাংলাদেশ সিরিজ পরাজিত হয়েছিল।

তবে এবারের চিত্র ভিন্ন দেখছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। এই দুই দশকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের মানে অনেক পরিবর্তন এসেছে। ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষের দলের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জের একটি দল। ২০১৭ সালে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে রুখে দিয়েছিল, ১-১ সিরিজ সমতা রেখে। চলতি বছর ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হোয়াইট ওয়াশ হলেও বাংলাদেশ ওয়ান ডে সিরিজ অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে।

পরিবর্তনের এই হাওয়ায় ভেসে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়া জয় করার সাহস দেখাতেই পারে। তবে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত প্রত্যাশা করছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলার। অর্থাৎ  নিজেদের সামর্থ্যের নতুন প্রমাণ দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই দেশ ছেড়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয় বাংলাদেশ দলের প্রথম বহর। প্রথম দফায় দেশ ছাড়েন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম, অমিত হাসানসহ দলের কয়েকজন সদস্য।

তাদের সঙ্গে রয়েছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স, ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল, স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ এবং সাপোর্ট স্টাফের সদস্যরা। দলের বাকি সদস্যরা পৃথক ফ্লাইটে পরে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে যোগ দেবেন দলের সঙ্গে।
সিরিজের আগে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা আগেভাগেই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ। সেখানে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত টেস্ট লড়াই।
প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনের মারারা ওভালে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়।

সফরের আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ডারউইনের কন্ডিশন সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য না থাকলেও দলের বিশ্লেষকরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে যাওয়াকে নিজের জন্য বড় সৌভাগ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শান্ত বলেন, “অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাদের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে পারাটা আমার অনেক বড় সৌভাগ্যের।’