মমতার কথায় বাংলাদেশের বড় খুনের মদদদাতা দিল্লী
- আপডেট সময় : ১০:৩৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
- / ৪১ বার পড়া হয়েছে
স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে অনেকগুলো রাজনৈতিক খুন হয়েছিলো। তবে গত সতের বছর আওয়ামী শাসনামলে রাজনৈতিক কিছু ভয়াবহ খুনের সংবাদ ছিলো চোখে পড়ার মতো। সেগুলো নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তাল বয়েছিলো ক্রমাগত। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উসমান হাদি খুন হবার পর বাংলাদেশের তরুণ সমাজে ক্ষোভের বহিপ্রকাশ ঘটেছে চরম পর্যায়ে। এ নিয়ে রাজনৈতিক মাঠে নানা আলোচনা শোনা যায়। সর্বশেষ পশ্চিম বঙ্গে উসমান হাদির খুনিকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এমন কি তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর না করে ভারতীয় আদালতেও রাখা হয়েছে। সর্মবমহলে সমালোচনা শুরু হয়ে যায়,তাহলে কি ভারত এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত!
এবার ভোটের রাজনীতিতে পরাজিত হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বাংলাদেশের একটি বড় হত্যাকান্ড নিয়ে রীতিমতো বোম ফোটালেন। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে শোনা যায় তার এই বিস্ফোরক মন্তব্য। তার বক্তব্যে বেরিয়ে এসেছে দিল্লীর মদদেই বাংলাদেশে ওই খুনটি হয়েছিলো। মমতার দাবি, ওই খুনের সঙ্গে ভারত সরকারের সম্পৃক্ততা ছিল। এমনকি এই হত্যা মামলার আসামিরা পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হলে যেন সেই খবর চেপে রাখা হয়, এ জন্য খোদ ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মমতা ব্যানার্জীকে ফোন করেছিলেন।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ দেশের রাজনৈতিক হত্যাকান্ড সম্পর্কে সব সময় ভারতকেই দায়ী করে আসতেন। এবার যেন সেই হত্যাকান্ডগুলোর প্রমান বহন করছে মমতার মন্তব্যে। বাংলাদেশের কাকে খুন করা হয়েছিলো সেটি তিনি প্রকাশ করেননি। তবে দূর থেকে ইশারায় বুজিয়ে দিলেন, ওই খুনের পর বাংলাদেশে বিশাল আন্দোলন হয়েছিলো। মমতা নিজেও যখন দিল্লীর রাজনীতির চাপে কোন ঠাসা তখন তুরুফের তাস হিসেবে তিনি এই গোপন তথ্যটি হাতে রাখলেন।
দিল্পলী সরাসরি প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতা হারায়। ক্ষমতা হারানোর প্রায় একমাস পর ২ জুন বড় আন্দোলন কর্মসূচিতে রাস্তায় নামলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। এই দিন তিনি কলকাতার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধরনায় বসে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন ।
মমতা ব্যানার্জী বলেন, বাংলাদেশের এক বড় খুনিকে এসটিএফ (স্পেশাল টাস্কফোর্স) গ্রেফতার করেছিল, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না, আমার বলার অধিকার নেই। কিন্তু আমি যেটা বলছি, তারপরে তারা (খুনি) মেঘালয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। তখন আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এটা এসটিএফের ক্রেডিট। তারপরে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে নিজে ফোন করেন।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এতদিন তো আমি বলিনি। আজ অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছে বলে বলছি। আমি এখনো নামটা বলছি না ভদ্রতা করে। বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে। আমি সেটা চাই না, আমি দেশকে ভালোবাসি।
ধরনা সভার সামনে বসে থাকা অসংখ্য তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থক সে সময় চিৎকার করে বলে ওঠেন নামটা বলে দেন।
তখন তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘না বলব না দেশের স্বার্থে। (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) বললেন, আপ থোরা বেঙ্গল পুলিশকে বলদো, এ বাত বাহার মে না যায় (আপনি পশ্চিমবঙ্গের পুলিশকে একটু বলে দেন, এই কথাটা যেন বাইরে না যায়) এটি দেশের জন্য।’
এরপরই মমতা বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন, কার কার নাম বেরিয়েছিল? আজ সরকার পরিবর্তন হলেও আমি তো সবটাই জানি। আমার হৃদয় তো একটা কথার ভান্ডার, তথ্য ভান্ডার, সত্য ভান্ডার।’











