ঢাকা ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

থামছে না হাম, বেড়েই চলেছে শিশু মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৯:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • / ৪৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৩৪ শিশু। রোববার (২৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৫২৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৮৬ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৪২ শিশু।

একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৮ হাজার ৬২২ শিশু। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৬৩ হাজার ৮১৩ শিশু। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২২৪ শিশুর, আক্রান্ত হয়েছে ৩৬ হাজার ১৭৬ শিশু।
এই হিসাব গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ২৪ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, আক্রান্তদের প্রায় ৭৯ থেকে ৮১ শতাংশই এই বয়সসীমার শিশু। অনেক শিশু টিকার আওতার বাইরে থাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

ডিজিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি থেকে ২৩ মে পর্যন্ত দেশে ৬২ হাজার ৫০৭টি সন্দেহজনক হাম রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৪৯৪। একই সময়ে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচও বলছে, গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন, টিকার ঘাটতি এবং শিশুদের মধ্যে ‘জিরো-ডোজ’ হার বেড়ে যাওয়াই বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ। সংস্থাগুলোর ভাষ্য, করোনাকালের পর থেকে অনেক এলাকায় শিশুদের নিয়মিত টিকা গ্রহণ কমে যায়, যার প্রভাব এখন প্রকট হয়ে উঠেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। ইউনিসেফ, গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় প্রথম ধাপে ১৮ জেলার ৩০টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

থামছে না হাম, বেড়েই চলেছে শিশু মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৩৪ শিশু। রোববার (২৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৫২৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৮৬ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৪২ শিশু।

একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৮ হাজার ৬২২ শিশু। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৬৩ হাজার ৮১৩ শিশু। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২২৪ শিশুর, আক্রান্ত হয়েছে ৩৬ হাজার ১৭৬ শিশু।
এই হিসাব গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ২৪ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, আক্রান্তদের প্রায় ৭৯ থেকে ৮১ শতাংশই এই বয়সসীমার শিশু। অনেক শিশু টিকার আওতার বাইরে থাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

ডিজিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি থেকে ২৩ মে পর্যন্ত দেশে ৬২ হাজার ৫০৭টি সন্দেহজনক হাম রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৪৯৪। একই সময়ে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচও বলছে, গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন, টিকার ঘাটতি এবং শিশুদের মধ্যে ‘জিরো-ডোজ’ হার বেড়ে যাওয়াই বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ। সংস্থাগুলোর ভাষ্য, করোনাকালের পর থেকে অনেক এলাকায় শিশুদের নিয়মিত টিকা গ্রহণ কমে যায়, যার প্রভাব এখন প্রকট হয়ে উঠেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। ইউনিসেফ, গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় প্রথম ধাপে ১৮ জেলার ৩০টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।