ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

১৯ বছর আগের কোলের শিশুটি যখন প্রতিপক্ষ

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:০০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • / ৪২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাঠ এবং মাঠের বাইরে প্রতিনিয়ত নতুন কোন ঘটনার জন্ম দিয়ে আসছে বিশ্বকাপ ফুটবল। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ স্পেন। আলোচনাটা দুটি দল নিয়ে নয়। দুই দলে দুই মহাতারাকা নিয়েই চলছে দারুণ এক খুস গল্প। একজন হচ্ছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার মেসি,অন্যজন উদীয়মান স্পেনিশ তারকা লামিন ইয়ামাল। দু‘জনেরই শৈশবের ক্লাব বার্সেলোনা। আবার দু‘জনে রয়েছে অন্যরকম এক সেতু বন্ধন।

মাত্র বার্সায় ক্যারিয়ার গড়ে উঠায় মনোযোগী ছিলেন ২৬ বছর আগে বার্সায় যোগ দেয়া মেসির। ২০০৪ সালে বার্সার মূল দলে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে।  এরপর সেখানে কেটে যায় দীর্ঘ সতের বছর। মেসি যখন বার্সা ছেড়ে আমেরিকায় মেজর সকার লীগে নাম লিখান, তখন বার্সার মূল দলে আগমন ঘটে এক ওয়ান্ডার বয়ের, লামিন ইয়ামাল। ২০১৪ সালে মাত্র ৬ বছর বয়সে বার্সায় যোগ দিয়েছিলেন। এরপর ২০২৩ সালে হলেন ক্লাবের মুল দলের নিয়মিত খেলোয়াড়। শুধু নয়, ইয়মাল এখন জাতীয় দলেরও নির্ভরতা প্রতীক হয়ে উঠেছেন।  যার শিশুকালের কোন এক সময় মেসির কোলেও উঠেছিলেন শিশু লামিন ইয়ামাল। উনিশ বছর আগে যে শিশুকে হাত ধুইয়ে দিয়েছিলেন  কোলে নিয়েছিলেন মেসি, সেই শিশুই আজ ফাইনালে দাঁড়াবে তার মুখোমুখি। বার্সেলোনার এক দাতব্য ফটোশুট থেকে শুরু হওয়া সেই গল্প আজ বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চে রূপ নিতে যাচ্ছে মহাকাব্যে।

এটি যেন সিনেমার কোন গল্পকেও হার মানায়। একজন ছুটছেন ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে আরো  একটি বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে, অন্যজন ছুটছেন তরুণ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনের খোঁজে।

এই অবিশ্বাস্য রূপকথার শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে। কাতালান সংবাদপত্র ‘দিয়ারিও স্পোর্ত’ আয়োজিত ইউনিসেফের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন ২০ বছর বয়সি তরুণ মেসি। বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্থানীয় সাধারণ পরিবারের শিশুদের নিয়ে এ প্রচারণামূলক ক্যাম্পেইনটি করা হয়েছিল।

ভাগ্যচক্রে, মেসির কোলো তুলে দেওয়া হয়েছিল মাত্র কয়েক মাস বয়সি এক শিশুকে, যার নাম ছিল লামিন ইয়ামাল। পরম যত্নে সেই শিশুকে গোসল করানো এবং কোলে নিয়ে ছবি তোলার সময় মেসি নিজেও জানতেন না যে, তার কোলে থাকা এই ছোট্ট শিশুটিই একদিন বিশ্ব ফুটবলের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র হয়ে উঠবে। কোন একদিন শিরোপা লড়াইয়ে তার মুখোমুখি দাঁড়াবে।

বছরের পর বছর ধরে সেই ছবিগুলো সবার অলক্ষ্যেই ধুলোবালি মেখে পড়ে ছিল। ২০২৪ সালে ইয়ামালের বাবা স্যোশাল মিডিয়ায় ছবিগুলো শেয়ার করতেই ফুটবলবিশ্ব চমকে ওঠে। মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যাওয়া সেই ছবিগুলো দেখে ভক্তদের স্তব্ধ হয়ে যাওয়ারই কথা — মেসির কোল আলো করে থাকা সেই ছোট্ট শিশুই যে আজকের বার্সেলোনার নতুন জাদুকর, বিস্ময়কার বালক।

ইয়ামাল এরপর থেকে সব প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছেন। কৈশোরের গণ্ডি না পেরোতেই ক্লাব ও দেশের হয়ে একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছেন। অসাধারণ ড্রিবলিং, ক্ষুরধার দৃষ্টি এবং পরিণত ফুটবলীয় মস্তিষ্কের মাধ্যমে তিনি নিজেকে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা আকর্ষণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

অন্যদিকে সময়ের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন ইয়ামালের শৈশবের নায়ক লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক খেলছেন অবিশ্বাস্য ফুটবল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে যখন ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম, তখন শেষ মুহূর্তের দুটি জাদুকরী অ্যাসিস্টে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে গেছেন ফাইনালে।

ফুটবলবিশ্ব এখন এমন এক অসম লড়াইয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, যা রূপকথাকেও হার মানায়। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে এক প্রান্তে ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে আরও একটি সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরার লড়াইয়ে কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। আর অন্য প্রান্তে ফুটবলবিশ্বে নতুন এক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার প্রত্যয়ে দীপ্ত কিশোর লামিন ইয়ামাল। ইতিহাস এখন কার মাথায় মুকুট পরাবে, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

১৯ বছর আগের কোলের শিশুটি যখন প্রতিপক্ষ

আপডেট সময় : ১০:০০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

মাঠ এবং মাঠের বাইরে প্রতিনিয়ত নতুন কোন ঘটনার জন্ম দিয়ে আসছে বিশ্বকাপ ফুটবল। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ স্পেন। আলোচনাটা দুটি দল নিয়ে নয়। দুই দলে দুই মহাতারাকা নিয়েই চলছে দারুণ এক খুস গল্প। একজন হচ্ছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার মেসি,অন্যজন উদীয়মান স্পেনিশ তারকা লামিন ইয়ামাল। দু‘জনেরই শৈশবের ক্লাব বার্সেলোনা। আবার দু‘জনে রয়েছে অন্যরকম এক সেতু বন্ধন।

মাত্র বার্সায় ক্যারিয়ার গড়ে উঠায় মনোযোগী ছিলেন ২৬ বছর আগে বার্সায় যোগ দেয়া মেসির। ২০০৪ সালে বার্সার মূল দলে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে।  এরপর সেখানে কেটে যায় দীর্ঘ সতের বছর। মেসি যখন বার্সা ছেড়ে আমেরিকায় মেজর সকার লীগে নাম লিখান, তখন বার্সার মূল দলে আগমন ঘটে এক ওয়ান্ডার বয়ের, লামিন ইয়ামাল। ২০১৪ সালে মাত্র ৬ বছর বয়সে বার্সায় যোগ দিয়েছিলেন। এরপর ২০২৩ সালে হলেন ক্লাবের মুল দলের নিয়মিত খেলোয়াড়। শুধু নয়, ইয়মাল এখন জাতীয় দলেরও নির্ভরতা প্রতীক হয়ে উঠেছেন।  যার শিশুকালের কোন এক সময় মেসির কোলেও উঠেছিলেন শিশু লামিন ইয়ামাল। উনিশ বছর আগে যে শিশুকে হাত ধুইয়ে দিয়েছিলেন  কোলে নিয়েছিলেন মেসি, সেই শিশুই আজ ফাইনালে দাঁড়াবে তার মুখোমুখি। বার্সেলোনার এক দাতব্য ফটোশুট থেকে শুরু হওয়া সেই গল্প আজ বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চে রূপ নিতে যাচ্ছে মহাকাব্যে।

এটি যেন সিনেমার কোন গল্পকেও হার মানায়। একজন ছুটছেন ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে আরো  একটি বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে, অন্যজন ছুটছেন তরুণ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনের খোঁজে।

এই অবিশ্বাস্য রূপকথার শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে। কাতালান সংবাদপত্র ‘দিয়ারিও স্পোর্ত’ আয়োজিত ইউনিসেফের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন ২০ বছর বয়সি তরুণ মেসি। বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্থানীয় সাধারণ পরিবারের শিশুদের নিয়ে এ প্রচারণামূলক ক্যাম্পেইনটি করা হয়েছিল।

ভাগ্যচক্রে, মেসির কোলো তুলে দেওয়া হয়েছিল মাত্র কয়েক মাস বয়সি এক শিশুকে, যার নাম ছিল লামিন ইয়ামাল। পরম যত্নে সেই শিশুকে গোসল করানো এবং কোলে নিয়ে ছবি তোলার সময় মেসি নিজেও জানতেন না যে, তার কোলে থাকা এই ছোট্ট শিশুটিই একদিন বিশ্ব ফুটবলের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র হয়ে উঠবে। কোন একদিন শিরোপা লড়াইয়ে তার মুখোমুখি দাঁড়াবে।

বছরের পর বছর ধরে সেই ছবিগুলো সবার অলক্ষ্যেই ধুলোবালি মেখে পড়ে ছিল। ২০২৪ সালে ইয়ামালের বাবা স্যোশাল মিডিয়ায় ছবিগুলো শেয়ার করতেই ফুটবলবিশ্ব চমকে ওঠে। মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যাওয়া সেই ছবিগুলো দেখে ভক্তদের স্তব্ধ হয়ে যাওয়ারই কথা — মেসির কোল আলো করে থাকা সেই ছোট্ট শিশুই যে আজকের বার্সেলোনার নতুন জাদুকর, বিস্ময়কার বালক।

ইয়ামাল এরপর থেকে সব প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছেন। কৈশোরের গণ্ডি না পেরোতেই ক্লাব ও দেশের হয়ে একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছেন। অসাধারণ ড্রিবলিং, ক্ষুরধার দৃষ্টি এবং পরিণত ফুটবলীয় মস্তিষ্কের মাধ্যমে তিনি নিজেকে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা আকর্ষণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

অন্যদিকে সময়ের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন ইয়ামালের শৈশবের নায়ক লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক খেলছেন অবিশ্বাস্য ফুটবল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে যখন ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম, তখন শেষ মুহূর্তের দুটি জাদুকরী অ্যাসিস্টে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে গেছেন ফাইনালে।

ফুটবলবিশ্ব এখন এমন এক অসম লড়াইয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, যা রূপকথাকেও হার মানায়। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে এক প্রান্তে ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে আরও একটি সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরার লড়াইয়ে কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। আর অন্য প্রান্তে ফুটবলবিশ্বে নতুন এক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার প্রত্যয়ে দীপ্ত কিশোর লামিন ইয়ামাল। ইতিহাস এখন কার মাথায় মুকুট পরাবে, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।