ঢাকা ১২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ল নরওয়ে

বদরুল আলম চৌধুরী
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৭:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • / ৭৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফুটবল বিশ্ব দেখল আরো একটি অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক রাত। রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে প্রথমবারের মতো বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল নরওয়ে। আর এই রূপকথার নায়কের নাম আর্লিং ব্রাউট হালাান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিনের চোখধাঁধানো জোড়া গোলে সেলেসাওদের ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিয়েছে নরওয়েজিয়ানরা। হালান্ড গোল দুটি করেন যথাক্রমে ৭৯ মিনিট ও ৮৯ মিনিটে। ব্রাজিলের সান্ত্বনা সূচকটি করেন নেইমার জুনিয়র। তাও পেনাল্টি থেকে। যদিও এই পেনাল্টি গোল নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। তবে শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো ব্রাজিল।

এরফলে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকেই বিদায় ঘটলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। পাশাপাশি সেলেসাওদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন হিসেবে পরিচিত ‘মিশন হেক্সা’র আরেকটি ব্যর্থ অভিযান শেষ হলো। সেই ২০০২ সালে এশিয়ার মাটিতে রোনালদো-রিভালদোদের হাত ধরে সর্বশেষ সোনালী ট্রফিতে চুমু খেয়েছিল সেলেসাওরা। এরপর দীর্ঘ ২৪টি বছর কেটে গেলেও বিশ্বকাপের ট্রফি আর ব্রাজিলে ফেরানো সম্ভব হয়নি।

ব্রাজিলকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টারে নরওয়েটানা ছয় বিশ্বকাপে শিরোপাহীন ব্রাজিলের ‘হেক্সা পূরণ’

বিজয়ের উচ্ছাসে হালান্ডের নরওয়ে                      কাঁদলেন নেইমার,হতাশায় ব্রাজিল দল

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল-নরওয়ে। ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। ম্যাচের শুরুতেই ব্রাজিলের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল ইউরোপের দলটি। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই ব্রাজিলের জালে বলও পাঠিয়ে দিয়েছিল ইউরোপের নরওয়ে। সঙ্গে সঙ্গে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পুরো স্টেডিয়াম। কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। তাতেই যেন প্রাণ ফিরে পায় ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা। আলিসনকে ফাঁকি দিয়ে অফসাইডে দেওয়া গোলটি ছিল প্যাটট্রিক বার্গের।

পেনাল্টি মিস ব্রাজিলের

এরপর স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ফুটবলে ফিরে এসে নরওয়ের রক্ষণভাগকেও ব্যস্ত করে তোলে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস-রদ্রিগোরা। তাতে ম্যাচর দশম  মিনিটে লিড নিতে পারতো ব্রাজিল। ডি-বক্সের ভেতরে ম্যাথিউস কুনহাকে ফাউল করেন নরওয়ের এক ডিফেন্ডার। ভিএআরের মাধ্যমে ফাউল ঘোষণা করে পেনাল্টি দেন রেফারি। পেনাল্টি কিক নিতে আসেন ব্রুনো গুইমারেস। তার নেওয়া শটটি বীরত্ব দেখিয়ে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নাইল্যান্ড।

পেনাল্টি মিসের হতাশা নিয়ে বিরতিতে ব্রাজিল, গোলশূন্য সমতায় শেষ হলো প্রথমার্ধ

টাইব্রেকার বা পেনাল্টি শুটআউট বাদে বিশ্বকাপের মূল ম্যাচের নির্ধারিত বা অতিরিক্ত সময়ে ব্রাজিলের কোনো খেলোয়াড়ের পেনাল্টি মিস করার এটিই প্রথম ঘটনা। সর্বশেষ ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের মূল ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার জিকো। এরপর দীর্ঘ চার দশক ধরে বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে গোল করার ক্ষেত্রে শতভাগ সফল ছিল সেলেসাওরা। আজ নরওয়ের বিপক্ষে স্পট-কিক থেকে গোল করতে ব্রুনো ব্যর্থ হওয়ায় জিকোর সেই পুরোনো ও তেতো স্মৃতিই যেন নতুন করে ফিরে এল ব্রাজিলিয়ান শিবিরে।

পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সামলে প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাথিউস কুনহা এবং মার্তিনেল্লি দূরপাল্লার শটে গোল করার চেষ্টা করলেও নরওয়ের ডিফেন্ডাররা তা প্রতিহত করেন। ফলে আক্রমণের পর আক্রমণ করেও গোলহীনভাবেই বিরতিতে যেতে হয় লাতিন আমেরিকার দলটিকে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একাদশে দুই পরিবর্তন আনে নরওয়ে। মাঠে নামেন অস্কার বব ও আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। এদিকে ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে কুনহা পরবির্তে এন্দ্রিককে মাঠে নামান কার্লো আনচেলত্তি। মাঠে নামার প্রথম মিনিটেই গোলের এক সুবর্ণ সুযোগ মিস করেন এই উদীয়মান ব্রাজিলিয়ান তারকা। বামপ্রান্ত থেকে আক্রমণে আসা ভিনিসিয়ুস এক দুর্দান্ত পাস দেন এন্দ্রিক করে। বল নিয়ে নরওয়ের বক্সের ভেতরে ঢুকে যান তিনি। সামনে ছিলেন কেবল গোলরক্ষক। টোকা দিয়ে বল জালে জড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বলটি চলে যায় গোলবার পাশ দিয়ে।

৬২তম মিনিটে বক্সের খানিক বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শট নিয়েছিলেন রায়ান। এবারও নরওয়ের ত্রাতা হয়ে উঠেন গোলরক্ষক নাইল্যান্ড। এক মিনিট পরেই দুর্দান্ত এক সুযোগ নষ্ট করেন গুইমারেস।

ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে আসে সেই মাহেদ্রক্ষণ। না, কোনো গোল হয়নি। এসময় বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র। তার সঙ্গে দানিলোকেও মাঠে নামান কোচ আনচেলত্তি।

ব্রাজিলের বিদায়, হালান্ডের জোড়া গোলে স্বপ্নভঙ্গ 'মিশন হেক্সা'

দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন ব্রেকের পর যেন নিজের কাঙ্ক্ষিত রূপে ফেরেন আর্লিং হালান্ড। ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে নিউজার্সির পুরো স্টেডিয়ামকে যেন স্তব্ধ করে দেন নরওয়ের ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আর্লিং হালান্ড। দুর্দান্ত এক হেডে আলিসনকে পরাস্ত করেন তিনি। তাতেই ১-০ গোল ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে।

এখানেই থামেননি হালান্ড। প্রথম গোলের ঠিক দশ মিনিট পর আরও একবার ব্রাজিলের জালে বল পাঠান তিনি। ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বুলেট গতির শট নেন হালান্ড। যা আটকাতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন বেকার। ম্যাচের শেষদিকে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করলেও দলের হার এড়াতে পারেননি নেইমার। ম্যাচটি শেষ হয় ২-১ ব্যবধানে। অতিরিক্ত সময়ে ব্রাজিলের পাওয়া পেনাল্টিতে স্কোর করেন নেইমার, যা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। এই পরাজয়ে আরেকবার বিশ্বকাপ থেকে হতাশা নিয়ে বিদায় নিলো পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।

২০০২ সালের পর থেকে প্রতিবারই ফেভারিটের তকমা নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে ব্রাজিল। কিন্তু ২০০৬, ২০১০, ২০১৮, ২০২২ এবং এবার ২০২৬- পাঁচবারই কোয়ার্টার ফাইনাল বা তার আগেই থামতে হয়েছে তাদের। আর ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে সেমিফাইনালের সেই ৭-১ গোলের দুঃস্বপ্ন তো রয়েছেই। সোনালী ট্রফি জয়ের মিশন নিয়ে এসে প্রতিবারই এভাবে খালি হাতে ফিরতে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের মধ্যেই নেইমারসহ ব্রাজিলের ফুটবলারদের অশ্রুসিক্ত চোখ যেন কোটি সমর্থকের সেই ২৪ বছরের কান্নারই প্রতিচ্ছবি। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফির খোঁজে আসা সেলেসাওদের এখন আরও চার বছর অপেক্ষা করতে হবে, আর ফুটবল ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হলো টানা ছয়টি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ট্রফিহীন থাকার এক অনাকাঙ্ক্ষিত দীর্ঘ খরা।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ল নরওয়ে

আপডেট সময় : ০৪:৪৭:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

ফুটবল বিশ্ব দেখল আরো একটি অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক রাত। রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে প্রথমবারের মতো বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল নরওয়ে। আর এই রূপকথার নায়কের নাম আর্লিং ব্রাউট হালাান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিনের চোখধাঁধানো জোড়া গোলে সেলেসাওদের ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিয়েছে নরওয়েজিয়ানরা। হালান্ড গোল দুটি করেন যথাক্রমে ৭৯ মিনিট ও ৮৯ মিনিটে। ব্রাজিলের সান্ত্বনা সূচকটি করেন নেইমার জুনিয়র। তাও পেনাল্টি থেকে। যদিও এই পেনাল্টি গোল নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। তবে শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো ব্রাজিল।

এরফলে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকেই বিদায় ঘটলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। পাশাপাশি সেলেসাওদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন হিসেবে পরিচিত ‘মিশন হেক্সা’র আরেকটি ব্যর্থ অভিযান শেষ হলো। সেই ২০০২ সালে এশিয়ার মাটিতে রোনালদো-রিভালদোদের হাত ধরে সর্বশেষ সোনালী ট্রফিতে চুমু খেয়েছিল সেলেসাওরা। এরপর দীর্ঘ ২৪টি বছর কেটে গেলেও বিশ্বকাপের ট্রফি আর ব্রাজিলে ফেরানো সম্ভব হয়নি।

ব্রাজিলকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টারে নরওয়েটানা ছয় বিশ্বকাপে শিরোপাহীন ব্রাজিলের ‘হেক্সা পূরণ’

বিজয়ের উচ্ছাসে হালান্ডের নরওয়ে                      কাঁদলেন নেইমার,হতাশায় ব্রাজিল দল

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল-নরওয়ে। ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। ম্যাচের শুরুতেই ব্রাজিলের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল ইউরোপের দলটি। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই ব্রাজিলের জালে বলও পাঠিয়ে দিয়েছিল ইউরোপের নরওয়ে। সঙ্গে সঙ্গে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পুরো স্টেডিয়াম। কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। তাতেই যেন প্রাণ ফিরে পায় ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা। আলিসনকে ফাঁকি দিয়ে অফসাইডে দেওয়া গোলটি ছিল প্যাটট্রিক বার্গের।

পেনাল্টি মিস ব্রাজিলের

এরপর স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ফুটবলে ফিরে এসে নরওয়ের রক্ষণভাগকেও ব্যস্ত করে তোলে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস-রদ্রিগোরা। তাতে ম্যাচর দশম  মিনিটে লিড নিতে পারতো ব্রাজিল। ডি-বক্সের ভেতরে ম্যাথিউস কুনহাকে ফাউল করেন নরওয়ের এক ডিফেন্ডার। ভিএআরের মাধ্যমে ফাউল ঘোষণা করে পেনাল্টি দেন রেফারি। পেনাল্টি কিক নিতে আসেন ব্রুনো গুইমারেস। তার নেওয়া শটটি বীরত্ব দেখিয়ে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নাইল্যান্ড।

পেনাল্টি মিসের হতাশা নিয়ে বিরতিতে ব্রাজিল, গোলশূন্য সমতায় শেষ হলো প্রথমার্ধ

টাইব্রেকার বা পেনাল্টি শুটআউট বাদে বিশ্বকাপের মূল ম্যাচের নির্ধারিত বা অতিরিক্ত সময়ে ব্রাজিলের কোনো খেলোয়াড়ের পেনাল্টি মিস করার এটিই প্রথম ঘটনা। সর্বশেষ ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের মূল ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার জিকো। এরপর দীর্ঘ চার দশক ধরে বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে গোল করার ক্ষেত্রে শতভাগ সফল ছিল সেলেসাওরা। আজ নরওয়ের বিপক্ষে স্পট-কিক থেকে গোল করতে ব্রুনো ব্যর্থ হওয়ায় জিকোর সেই পুরোনো ও তেতো স্মৃতিই যেন নতুন করে ফিরে এল ব্রাজিলিয়ান শিবিরে।

পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সামলে প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাথিউস কুনহা এবং মার্তিনেল্লি দূরপাল্লার শটে গোল করার চেষ্টা করলেও নরওয়ের ডিফেন্ডাররা তা প্রতিহত করেন। ফলে আক্রমণের পর আক্রমণ করেও গোলহীনভাবেই বিরতিতে যেতে হয় লাতিন আমেরিকার দলটিকে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একাদশে দুই পরিবর্তন আনে নরওয়ে। মাঠে নামেন অস্কার বব ও আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। এদিকে ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে কুনহা পরবির্তে এন্দ্রিককে মাঠে নামান কার্লো আনচেলত্তি। মাঠে নামার প্রথম মিনিটেই গোলের এক সুবর্ণ সুযোগ মিস করেন এই উদীয়মান ব্রাজিলিয়ান তারকা। বামপ্রান্ত থেকে আক্রমণে আসা ভিনিসিয়ুস এক দুর্দান্ত পাস দেন এন্দ্রিক করে। বল নিয়ে নরওয়ের বক্সের ভেতরে ঢুকে যান তিনি। সামনে ছিলেন কেবল গোলরক্ষক। টোকা দিয়ে বল জালে জড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বলটি চলে যায় গোলবার পাশ দিয়ে।

৬২তম মিনিটে বক্সের খানিক বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শট নিয়েছিলেন রায়ান। এবারও নরওয়ের ত্রাতা হয়ে উঠেন গোলরক্ষক নাইল্যান্ড। এক মিনিট পরেই দুর্দান্ত এক সুযোগ নষ্ট করেন গুইমারেস।

ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে আসে সেই মাহেদ্রক্ষণ। না, কোনো গোল হয়নি। এসময় বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র। তার সঙ্গে দানিলোকেও মাঠে নামান কোচ আনচেলত্তি।

ব্রাজিলের বিদায়, হালান্ডের জোড়া গোলে স্বপ্নভঙ্গ 'মিশন হেক্সা'

দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন ব্রেকের পর যেন নিজের কাঙ্ক্ষিত রূপে ফেরেন আর্লিং হালান্ড। ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে নিউজার্সির পুরো স্টেডিয়ামকে যেন স্তব্ধ করে দেন নরওয়ের ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আর্লিং হালান্ড। দুর্দান্ত এক হেডে আলিসনকে পরাস্ত করেন তিনি। তাতেই ১-০ গোল ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে।

এখানেই থামেননি হালান্ড। প্রথম গোলের ঠিক দশ মিনিট পর আরও একবার ব্রাজিলের জালে বল পাঠান তিনি। ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বুলেট গতির শট নেন হালান্ড। যা আটকাতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন বেকার। ম্যাচের শেষদিকে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করলেও দলের হার এড়াতে পারেননি নেইমার। ম্যাচটি শেষ হয় ২-১ ব্যবধানে। অতিরিক্ত সময়ে ব্রাজিলের পাওয়া পেনাল্টিতে স্কোর করেন নেইমার, যা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। এই পরাজয়ে আরেকবার বিশ্বকাপ থেকে হতাশা নিয়ে বিদায় নিলো পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।

২০০২ সালের পর থেকে প্রতিবারই ফেভারিটের তকমা নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে ব্রাজিল। কিন্তু ২০০৬, ২০১০, ২০১৮, ২০২২ এবং এবার ২০২৬- পাঁচবারই কোয়ার্টার ফাইনাল বা তার আগেই থামতে হয়েছে তাদের। আর ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে সেমিফাইনালের সেই ৭-১ গোলের দুঃস্বপ্ন তো রয়েছেই। সোনালী ট্রফি জয়ের মিশন নিয়ে এসে প্রতিবারই এভাবে খালি হাতে ফিরতে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের মধ্যেই নেইমারসহ ব্রাজিলের ফুটবলারদের অশ্রুসিক্ত চোখ যেন কোটি সমর্থকের সেই ২৪ বছরের কান্নারই প্রতিচ্ছবি। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফির খোঁজে আসা সেলেসাওদের এখন আরও চার বছর অপেক্ষা করতে হবে, আর ফুটবল ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হলো টানা ছয়টি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ট্রফিহীন থাকার এক অনাকাঙ্ক্ষিত দীর্ঘ খরা।