ঢাকা ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ট্রাম্পের ফোনে লাল কার্ড প্রত্যাহারে ফুটবল বিশ্বে সমালোচনার ঝড়

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • / ৪৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম ম্যাচের আগেই ভিন্ন এক উত্তেজনা চলছে ফুটবল বিশ্বে৷ শেষ আটে উঠার লড়াইয়ে এ দুদল মুখোমুখি হচ্ছে৷ কিন্তু তার আগেই লাল কার্ড প্রত্যাহারের নিয়ে চলছে তুলকালাম কান্ড৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের এক ফোনেই কিনা লাল কার্ড প্রত্যাহার হয়ে যায়৷ রাউন্ড অব বত্রিশের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিলো আমেরিকান স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানেকে৷ কিন্তু আমেরিকার এই স্ট্রাইকারের এক  ম্যাচ বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা আকস্মিকভাবে স্থগিত করে ফিফা৷ এর ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার মাঠে নামতে কোন বাধা থাকলো না৷

ফিফার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে স্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব৷ এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বেলজিয়াম শিবিরে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আরবিএফএ) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা এই সিদ্ধান্তে ‘স্তম্ভিত’ এবং ফুটবলের ‘ফেয়ার প্লে বা সততার নীতি রক্ষার্থে’ সব ধরনের পথ খতিয়ে দেখছে। বেলজিয়ামের প্রধান কোচ রুডি গার্সিয়া ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘আমি জানতাম না যে বিশ্বকাপে ৫ জুলাই এখন ১ এপ্রিল—অর্থাৎ এপ্রিল ফুল (বোকা বানানোর দিন) হয়ে গেছে। আমরা ফুটবল এবং এর নৈতিকতা রক্ষা করার চেষ্টা করছি।’

বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আরও জোর দিয়ে বলেছে, এই পদক্ষেপটি ফিফার নিজস্ব টুর্নামেন্ট বিধিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সরাসরি লাল কার্ডের ক্ষেত্রে পরবর্তী ম্যাচটিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ থাকার নিয়মটি গত মে মাসে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর কাছে পাঠানো ফিফা বিশ্বকাপের এক সার্কুলারেও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছিল।
এই বিষয়ে ফিফা কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে ব্যর্থ হওয়ার পর, ফিফা তড়িঘড়ি করে একটি ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ (ফিফা শান্তি পুরস্কার) তৈরি করে তা ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিল।

বোদ্ধাদের অনেকের কাছেই ‘তামাশার’ মতো মনে হচ্ছে। তবে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘সঠিক কাজটি করার জন্য এবং একটি বড় অবিচারকে বদলে দেওয়ার জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ!’

ফিফা সভাপতিকে ট্রাম্পের ফোন
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বয়ং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করেছেন বলে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ খবর প্রকাশ্যে আসার পর ফুটবলবিশ্বে বেশ শোরগোল পড়ে গেছে।
হোয়াইট হাউসের একাধিক সূত্র ডেইলি মেইলকে নিশ্চিত করেছে, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার মতো ফিফার এই বিস্ময়কর সিদ্ধান্তের আগে ট্রাম্প নিজেই ইনফ্যান্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগের ‘অভূতপূর্ব’ পদক্ষেপটি নেন। এই ঘোষণার কিছু মুহূর্ত পরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফিফাকে ধন্যবাদ জানান।
 গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প, বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লাটনিক এবং হোয়াইট হাউসের টাস্কফোর্স প্রধান অ্যান্ড্রু গিউলিয়ানি মিলে বালোগানের বহিষ্কারাদেশকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য একটি আইনি দল গঠন করেছিলেন।

পর্দার আড়ালে যা ঘটেছে
ট্রাম্প যে এই বিষয়ে ইনফ্যান্তিনোকে লাল কার্ডের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করতে ফোন করেছিলেন, সেই খবর প্রকাশের আগেই ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার জন্ম দেয়। সেই জল্পনার আগুনে ঘি ঢালেন ‘বারস্টুল স্পোর্টস’-এর প্রধান ডেভ পোর্টনয়।
ফিফার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে পোর্টনয় এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছিলেন, ‘ডেভি পিচের ফুটবল সূত্রগুলো বলছে যে খুব শিগগিরই একটি লাল কার্ড বাতিল হতে যাচ্ছে।’ এরপর বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের খবর আসতেই পোর্টনয় ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের একটি এডিটেড ছবি (যেখানে দুজনের মাথাতেই ‘ইউএস সকার’-এর ক্যাপ ছিল) পোস্ট করে ইঙ্গিত দেন যে ট্রাম্প আসলেই এর পেছনে ছিলেন। তিনি লেখেন, অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করছেন কীভাবে এই লাল কার্ড বাতিল হলো? পর্দার আড়ালে কী ঘটেছিল? কে এটা করালো? কোন সূত্রের ভিত্তিতে আমি আমার পুরো সম্মান বাজি রেখে এই ডেভি পিচ বোমা ফাটিয়েছিলাম? একজন মহান সাংবাদিক কখনোই তার সূত্র প্রকাশ করেন না। দুঃখিত।’

জানা গেছে, মার্কিন ফুটবল ফেডারেশনের আইনি দল ফিফার কাছে একটি আবেদন জমা দিয়েছিল, যেখানে তাদের মূল যুক্তি ছিল বালোগানকে লাল কার্ড দেখানোর আগে রেফারিরা স্লো-মোশন রিপ্লের ভুল ব্যবহার করেছিলেন।

পেছনের দরজা দিয়ে নিয়ম বদল

ফিফার ফিফার টুর্নামেন্ট বিধিমালা অনুযায়ী লাল কার্ডের শাস্তি হিসেবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বাধ্যতামূলক এবং পূর্বে ফিফা কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছিলেন যে লাল কার্ডের বিরুদ্ধে কোনো দলের আপিল করারও সুযোগ নেই। তবে ফিফার জুডিশিয়াল কমিটি এবার ২৭ নম্বর ধারার একটি বিরল ফাঁকফোকর ব্যবহার করে এই নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সক্ষম হয়েছে।ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাদের শৃঙ্খলা বিধির ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা আগামী এক বছরের জন্য স্থগিত থাকবে। তবে এই সময়ের মধ্যে তিনি যদি একই ধরনের কোনো গুরুতর ফাউল বা নিয়মভঙ্গ না করেন, তবে এই নিষেধাজ্ঞা আর কার্যকর হবে না। প্রসঙ্গত, পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রেও ফিফা এই একই পরীক্ষামূলক নিয়ম প্রয়োগ করেছিল। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কনুই দিয়ে আঘাত করার কারণে রোনালদোকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। এরপর আর্মেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটানোর পর, ফিফা হস্তক্ষেপ করে তাঁর বাকি দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করে দেয়, যার ফলে তিনি চলতি বিশ্বকাপের শুরু থেকেই পর্তুগালকে নেতৃত্ব দিতে পারছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ট্রাম্পের ফোনে লাল কার্ড প্রত্যাহারে ফুটবল বিশ্বে সমালোচনার ঝড়

আপডেট সময় : ০৭:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম ম্যাচের আগেই ভিন্ন এক উত্তেজনা চলছে ফুটবল বিশ্বে৷ শেষ আটে উঠার লড়াইয়ে এ দুদল মুখোমুখি হচ্ছে৷ কিন্তু তার আগেই লাল কার্ড প্রত্যাহারের নিয়ে চলছে তুলকালাম কান্ড৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের এক ফোনেই কিনা লাল কার্ড প্রত্যাহার হয়ে যায়৷ রাউন্ড অব বত্রিশের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিলো আমেরিকান স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানেকে৷ কিন্তু আমেরিকার এই স্ট্রাইকারের এক  ম্যাচ বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা আকস্মিকভাবে স্থগিত করে ফিফা৷ এর ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার মাঠে নামতে কোন বাধা থাকলো না৷

ফিফার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে স্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব৷ এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বেলজিয়াম শিবিরে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আরবিএফএ) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা এই সিদ্ধান্তে ‘স্তম্ভিত’ এবং ফুটবলের ‘ফেয়ার প্লে বা সততার নীতি রক্ষার্থে’ সব ধরনের পথ খতিয়ে দেখছে। বেলজিয়ামের প্রধান কোচ রুডি গার্সিয়া ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘আমি জানতাম না যে বিশ্বকাপে ৫ জুলাই এখন ১ এপ্রিল—অর্থাৎ এপ্রিল ফুল (বোকা বানানোর দিন) হয়ে গেছে। আমরা ফুটবল এবং এর নৈতিকতা রক্ষা করার চেষ্টা করছি।’

বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আরও জোর দিয়ে বলেছে, এই পদক্ষেপটি ফিফার নিজস্ব টুর্নামেন্ট বিধিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সরাসরি লাল কার্ডের ক্ষেত্রে পরবর্তী ম্যাচটিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ থাকার নিয়মটি গত মে মাসে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর কাছে পাঠানো ফিফা বিশ্বকাপের এক সার্কুলারেও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছিল।
এই বিষয়ে ফিফা কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে ব্যর্থ হওয়ার পর, ফিফা তড়িঘড়ি করে একটি ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ (ফিফা শান্তি পুরস্কার) তৈরি করে তা ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিল।

বোদ্ধাদের অনেকের কাছেই ‘তামাশার’ মতো মনে হচ্ছে। তবে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘সঠিক কাজটি করার জন্য এবং একটি বড় অবিচারকে বদলে দেওয়ার জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ!’

ফিফা সভাপতিকে ট্রাম্পের ফোন
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বয়ং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করেছেন বলে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ খবর প্রকাশ্যে আসার পর ফুটবলবিশ্বে বেশ শোরগোল পড়ে গেছে।
হোয়াইট হাউসের একাধিক সূত্র ডেইলি মেইলকে নিশ্চিত করেছে, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার মতো ফিফার এই বিস্ময়কর সিদ্ধান্তের আগে ট্রাম্প নিজেই ইনফ্যান্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগের ‘অভূতপূর্ব’ পদক্ষেপটি নেন। এই ঘোষণার কিছু মুহূর্ত পরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফিফাকে ধন্যবাদ জানান।
 গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প, বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লাটনিক এবং হোয়াইট হাউসের টাস্কফোর্স প্রধান অ্যান্ড্রু গিউলিয়ানি মিলে বালোগানের বহিষ্কারাদেশকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য একটি আইনি দল গঠন করেছিলেন।

পর্দার আড়ালে যা ঘটেছে
ট্রাম্প যে এই বিষয়ে ইনফ্যান্তিনোকে লাল কার্ডের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করতে ফোন করেছিলেন, সেই খবর প্রকাশের আগেই ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার জন্ম দেয়। সেই জল্পনার আগুনে ঘি ঢালেন ‘বারস্টুল স্পোর্টস’-এর প্রধান ডেভ পোর্টনয়।
ফিফার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে পোর্টনয় এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছিলেন, ‘ডেভি পিচের ফুটবল সূত্রগুলো বলছে যে খুব শিগগিরই একটি লাল কার্ড বাতিল হতে যাচ্ছে।’ এরপর বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের খবর আসতেই পোর্টনয় ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের একটি এডিটেড ছবি (যেখানে দুজনের মাথাতেই ‘ইউএস সকার’-এর ক্যাপ ছিল) পোস্ট করে ইঙ্গিত দেন যে ট্রাম্প আসলেই এর পেছনে ছিলেন। তিনি লেখেন, অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করছেন কীভাবে এই লাল কার্ড বাতিল হলো? পর্দার আড়ালে কী ঘটেছিল? কে এটা করালো? কোন সূত্রের ভিত্তিতে আমি আমার পুরো সম্মান বাজি রেখে এই ডেভি পিচ বোমা ফাটিয়েছিলাম? একজন মহান সাংবাদিক কখনোই তার সূত্র প্রকাশ করেন না। দুঃখিত।’

জানা গেছে, মার্কিন ফুটবল ফেডারেশনের আইনি দল ফিফার কাছে একটি আবেদন জমা দিয়েছিল, যেখানে তাদের মূল যুক্তি ছিল বালোগানকে লাল কার্ড দেখানোর আগে রেফারিরা স্লো-মোশন রিপ্লের ভুল ব্যবহার করেছিলেন।

পেছনের দরজা দিয়ে নিয়ম বদল

ফিফার ফিফার টুর্নামেন্ট বিধিমালা অনুযায়ী লাল কার্ডের শাস্তি হিসেবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বাধ্যতামূলক এবং পূর্বে ফিফা কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছিলেন যে লাল কার্ডের বিরুদ্ধে কোনো দলের আপিল করারও সুযোগ নেই। তবে ফিফার জুডিশিয়াল কমিটি এবার ২৭ নম্বর ধারার একটি বিরল ফাঁকফোকর ব্যবহার করে এই নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সক্ষম হয়েছে।ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাদের শৃঙ্খলা বিধির ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা আগামী এক বছরের জন্য স্থগিত থাকবে। তবে এই সময়ের মধ্যে তিনি যদি একই ধরনের কোনো গুরুতর ফাউল বা নিয়মভঙ্গ না করেন, তবে এই নিষেধাজ্ঞা আর কার্যকর হবে না। প্রসঙ্গত, পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রেও ফিফা এই একই পরীক্ষামূলক নিয়ম প্রয়োগ করেছিল। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কনুই দিয়ে আঘাত করার কারণে রোনালদোকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। এরপর আর্মেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটানোর পর, ফিফা হস্তক্ষেপ করে তাঁর বাকি দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করে দেয়, যার ফলে তিনি চলতি বিশ্বকাপের শুরু থেকেই পর্তুগালকে নেতৃত্ব দিতে পারছেন।