কাঁদলেন নেইমার, বিশ্বকাপকে বললেন বিদায়!
- আপডেট সময় : ০৭:০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
- / ৮২ বার পড়া হয়েছে
হালান্ডের দুই গোলে পিছিয়ে পড়া ব্রাজিল একেবারেই শেষ মূহুর্তে পায় দিনের দ্বিতীয় পেনাল্টি। সেখান থেকে এক গোল পরিশোধ দিয়ে গোলকিপার কে তেজি কণ্ঠে কিছু একটা বললেন নেইমার। যেন বলছিলেন আমি নেইমার,নেইমার। ঠিক এর কিছুক্ষণ পর শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠেই ভেঙে পড়লেন ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা । চোখের জল লুকানোর কোনও চেষ্টাই করেননি। সতীর্থরা ঘিরে ধরেছিলেন, কেউ কাঁধে হাত রেখেছেন, কেউ সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাতে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের আঘাত কমেনি এই ফরোয়ার্ডের। ম্যাচ শেষে যেন অবসরের ইঙ্গিতও দিলেন।
নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২–১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে দলের একমাত্র গোলটি করেছিলেন নেইমার। কিন্তু সেটি হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী জিই টিভিকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় আবেগাপ্লুত নেইমার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘চেষ্টা করেছি, চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখানেই সব শেষ। এখান থেকেই শুরু করেছিলাম, এখানেই শেষ করলাম।’
২০১০ বিশ্বকাপের পর যুক্তরাষ্ট্রেই তৎকালীন কোচ মানো মেনেজেসের অধীনে ব্রাজিল জাতীয় দলে প্রথম ডাক পেয়েছিলেন নেইমার। সেই স্মৃতির কথা মনে করিয়েই বিদায়ের মুহূর্তে কথাগুলো বলেন তিনি।
এই বিশ্বকাপ ছিল নেইমারের ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ। ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬—চারটি আসর খেলেও শিরোপার স্বাদ পাওয়া হলো না তার। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে না পারা মাত্র দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে চারটি বিশ্বকাপ খেলার তালিকায় নাম লেখালেন তিনি। আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এটি তার শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে।
কিন্তু বিশ্বকাপ মিশন থেকে এতোটা তাড়াতাড়ি বিদায় নিতে হবে, হয়ত ভাবতেই পারেন নি তিনি। ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথম অনেক আগেই বিদায় ঘটেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
সেই ২০০২ সালে ডুঙ্গা,রোনালদো,রিভালদোদের হাত ধরে সর্বশেষ বিশ্বকাপ ট্রফিতে চুমু খেয়েছিলো ব্রাজিল। এরপর কেটে গেলো ২৪টি বছর, অতিক্রম করলো ছয়টি বিশ্বকাপ। কিন্তু বিশ্বকাপের ট্রফি আর ঘরে ফিরানো সম্ভব হয়নি। এবারও ব্যর্থ,তাই ব্রাজিল সমর্থকদের অপেক্ষায় থাকতে হবে আরো চার বছর।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের মধ্যেই নেইমারসহ ব্রাজিলের ফুটবলারদের অশ্রুসিক্ত চোখ যেন কোটি সমর্থকের সেই ২৪ বছরের কান্নারই প্রতিচ্ছবি। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফির খোঁজে আসা সেলেসাওদের এখন আরও চার বছর অপেক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি ফুটবল ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হলো টানা ছয়টি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ট্রফিহীন থাকার এক অনাকাঙ্ক্ষিত দীর্ঘ খরা।
তবে মাঠের লড়াইয়ের আগে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের অবস্থান নিয়ে ছিলো শঙ্কা। কারণ বিশ্বকাপ পূর্ব লড়াইয়ে নরওয়ের সফলতা সেই দু:স্বপ্ন তৈরি করেছিল। শেষ দুই দলের মাঠের লড়াইয়ে সেই আশঙ্কার প্রতিফলন ঘটতে দেখা যায়। আজ বডি ল্যাঙ্গুয়েজে কেমন যেন ব্রাজিলের চেয়ে এগিয়ে ছিলো নরওয়ে। যদিও ভিনিসিয়ুসের আক্রমন গুলো নরওেয়ের রক্ষণে কম্পন ধরিয়েছিলো। গোল রক্ষকের দক্ষতায় প্রতিহত হয় ব্রাজিলের সব কয়টি আক্রমন।
মুলত ব্রাজিলের শনির দশা ভর করে সেই দশম মিনিটে পেনাল্টি মিসের মধ্য দিয়ে। বক্সের ভিতর মাতেউস কুনিয়া ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। কিন্তু সেই পেনাল্টিকে গোলে রূপান্তর করতে পারেননি ব্রুনো গিমারাইস। নরওয়ে গোল রক্ষক দৃঢ়তার সাথে ফিরিয়ে দেন পেনাল্টি। সেই ব্যর্থতা জের কাটিয়ে উঠতে পারেনি ব্রাজিল।
উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচের শেষ প্রান্তে হালান্ডের করা জোড়া গোলে নরওয়েরই বিজয় হলো। ৭৯ এবং ৮৯ মিনিটের সময় করা হালান্ডের গোল দুটি করে ব্রাজিলকে ম্যাচ থেকেই ছিটকে দিলো। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে নেইমার জুনিয়র পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমালেও তা কেবল সান্ত্বনার তালিকাই ভারী করেছে, তাতে আটকাতে পারেন ব্রাজিলের বিদায়।
ব্রাজিল ম্যাচে ১৪টি শট নিয়েছে, যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল মাত্র ৪টি। তাদের প্রত্যাশিত গোল (এক্সজি) ছিল ২.৭৩। অথচ নরওয়ের এক্সজি ছিল মাত্র ০.৮৪। অর্থাৎ তুলনামূলক কম সুযোগ তৈরি করেও সেগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছে নরওয়ে।
অথচ ২০০২ সালের পর থেকে প্রতিবারই ফেভারিটের তকমা নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে ব্রাজিল। সেই ২০০৬, ২০১০, ২০১৮, ২০২২ এবং এবার ২০২৬- পাঁচবারই কোয়ার্টার ফাইনাল বা তার আগেই থামতে হয়েছে তাদের। আর ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে সেমিফাইনালে ৭-১ গোলের দুঃস্বপ্ন তো রয়েছেই। সোনালী ট্রফি জয়ের মিশন নিয়ে এসে প্রতিবারই এভাবে খালি হাতে ফিরতে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
















