ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

প্রখ্যাত লেখক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:১২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • / ৪১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অজানা দেশে চলে গেছেন প্রখ্যাত লেখক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (৫ ‍জুলাই) দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের পুত্রবধূ রাজিয়া রহমান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রোববার দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেয়া হয়। পরবর্তীতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি।

১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৬৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। পরবর্তীতে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

গুণী এই অধ্যাপকের ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দু’টি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই রয়েছে। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’ (১৯৭৬), ‘মুক্তিসংগ্রাম’ (১৯৭২), ‘কালের যাত্রার ধ্বনি’ (১৯৭৩), ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’, ‘উনিশ শতকের মধ্যশ্রেণি ও বাংলা সাহিত্য’ (১৯৭৯), ‘মানুষ ও তার পরিবেশ’ (১৯৮৮), ‘সাহিত্য জিজ্ঞাসা: সাহিত্য সৃষ্টি ও সাহিত্য বিচার’, ‘জাতীয়তাবাদ, আন্তর্জাতিকতাবাদ, বিশ্বায়ন ও ভবিষ্যৎ’, ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ও উত্তরকাল’, ‘আধুনিকতাবাদ ও জীবনানন্দের জীবনোৎকণ্ঠা’ এবং বার্ট্রান্ড রাসেলের রাজনৈতিক আদর্শের বাংলা অনুবাদের মতো তার লেখা অন্তত ২০টির বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘স্বদেশচিন্তা’র মতো একাধিক গ্রন্থও। এছাড়াও অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

প্রখ্যাত লেখক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

আপডেট সময় : ০৯:১২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

অজানা দেশে চলে গেছেন প্রখ্যাত লেখক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (৫ ‍জুলাই) দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের পুত্রবধূ রাজিয়া রহমান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রোববার দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেয়া হয়। পরবর্তীতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি।

১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৬৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। পরবর্তীতে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

গুণী এই অধ্যাপকের ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দু’টি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই রয়েছে। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’ (১৯৭৬), ‘মুক্তিসংগ্রাম’ (১৯৭২), ‘কালের যাত্রার ধ্বনি’ (১৯৭৩), ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’, ‘উনিশ শতকের মধ্যশ্রেণি ও বাংলা সাহিত্য’ (১৯৭৯), ‘মানুষ ও তার পরিবেশ’ (১৯৮৮), ‘সাহিত্য জিজ্ঞাসা: সাহিত্য সৃষ্টি ও সাহিত্য বিচার’, ‘জাতীয়তাবাদ, আন্তর্জাতিকতাবাদ, বিশ্বায়ন ও ভবিষ্যৎ’, ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ও উত্তরকাল’, ‘আধুনিকতাবাদ ও জীবনানন্দের জীবনোৎকণ্ঠা’ এবং বার্ট্রান্ড রাসেলের রাজনৈতিক আদর্শের বাংলা অনুবাদের মতো তার লেখা অন্তত ২০টির বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘স্বদেশচিন্তা’র মতো একাধিক গ্রন্থও। এছাড়াও অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।