ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • / ৬৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও অন্যান্য প্রচারসামগ্রীতে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নতুন এ নির্দেশনার ফলে এখন থেকে সরকারি অর্থায়নে আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠান, প্রকল্প উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কিংবা রাষ্ট্রের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রচারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুত করা ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড বা অন্যান্য দৃশ্যমান প্রচারসামগ্রীতে প্রধানমন্ত্রী বা সরকারপ্রধানের ছবি কোনো আঙ্গিকেই ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি থ্রিডি বা ডিজিটাল উপস্থাপনাসহ কোনো ধরনের প্রতিকৃতিও ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি, প্রকল্প বা সেবার বিষয়বস্তু, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচারণা পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 প্রতিক্রিয়া : ব্যক্তি নির্ভরতা কমবে, সমগ্র নীতিমালায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সমতার দাবি

সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, সরকারি প্রচারণাকে ব্যক্তি-নির্ভরতা থেকে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক করার উদ্যোগ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, রাষ্ট্রের অর্থে পরিচালিত প্রচারণায় কোনো ব্যক্তির পরিবর্তে রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমকে প্রাধান্য দেওয়াই আধুনিক প্রশাসনিক চর্চার সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অন্যদিকে, সরকারের সমর্থকদের কেউ কেউ এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের বক্তব্য, সরকারি অর্থ ব্যয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণা কমিয়ে আনলে রাষ্ট্রের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য জনগণের সেবার ওপরই কেন্দ্রীভূত থাকবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করেছেন যে, সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচারে ব্যক্তি নয়, বরং প্রকল্প ও সেবার তথ্যই গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

তবে সমালোচনাও রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, শুধু ব্যানার-বিলবোর্ডে ছবি ব্যবহার বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়; সরকারি প্রচারব্যবস্থার সামগ্রিক নীতিমালায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সমতা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে কোনো ধরনের ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণা যেন ভবিষ্যতেও না হয়, সে জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।

সুশাসন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন পর্যবেক্ষকও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের ভাষ্য, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারি প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নাগরিকদের তথ্য প্রদান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবার বিষয়ে অবহিত করা। সে কারণে প্রচারণায় ব্যক্তি-ছবির পরিবর্তে কর্মসূচির তথ্য, সেবার ধরন এবং নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় বার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হলে তা জনস্বার্থ রক্ষায় অধিক কার্যকর হবে।

প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতে, নতুন নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার ফলে ভবিষ্যতে সরকারি অনুষ্ঠানগুলোর ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের নকশায় পরিবর্তন আসবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে নতুন নীতিমালা অনুসরণ করে প্রচারসামগ্রী প্রস্তুত করতে হবে। এ বিষয়ে মাঠ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এই সিদ্ধান্ত একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করতে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে নির্দেশনাটি কতটা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয় এবং ভবিষ্যতে সরকারি প্রচারণায় ব্যক্তি-নির্ভরতার পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গি কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়, তার ওপর।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও অন্যান্য প্রচারসামগ্রীতে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নতুন এ নির্দেশনার ফলে এখন থেকে সরকারি অর্থায়নে আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠান, প্রকল্প উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কিংবা রাষ্ট্রের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রচারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুত করা ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড বা অন্যান্য দৃশ্যমান প্রচারসামগ্রীতে প্রধানমন্ত্রী বা সরকারপ্রধানের ছবি কোনো আঙ্গিকেই ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি থ্রিডি বা ডিজিটাল উপস্থাপনাসহ কোনো ধরনের প্রতিকৃতিও ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি, প্রকল্প বা সেবার বিষয়বস্তু, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচারণা পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 প্রতিক্রিয়া : ব্যক্তি নির্ভরতা কমবে, সমগ্র নীতিমালায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সমতার দাবি

সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, সরকারি প্রচারণাকে ব্যক্তি-নির্ভরতা থেকে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক করার উদ্যোগ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, রাষ্ট্রের অর্থে পরিচালিত প্রচারণায় কোনো ব্যক্তির পরিবর্তে রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমকে প্রাধান্য দেওয়াই আধুনিক প্রশাসনিক চর্চার সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অন্যদিকে, সরকারের সমর্থকদের কেউ কেউ এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের বক্তব্য, সরকারি অর্থ ব্যয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণা কমিয়ে আনলে রাষ্ট্রের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য জনগণের সেবার ওপরই কেন্দ্রীভূত থাকবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করেছেন যে, সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচারে ব্যক্তি নয়, বরং প্রকল্প ও সেবার তথ্যই গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

তবে সমালোচনাও রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, শুধু ব্যানার-বিলবোর্ডে ছবি ব্যবহার বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়; সরকারি প্রচারব্যবস্থার সামগ্রিক নীতিমালায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সমতা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে কোনো ধরনের ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণা যেন ভবিষ্যতেও না হয়, সে জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।

সুশাসন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন পর্যবেক্ষকও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের ভাষ্য, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারি প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নাগরিকদের তথ্য প্রদান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবার বিষয়ে অবহিত করা। সে কারণে প্রচারণায় ব্যক্তি-ছবির পরিবর্তে কর্মসূচির তথ্য, সেবার ধরন এবং নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় বার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হলে তা জনস্বার্থ রক্ষায় অধিক কার্যকর হবে।

প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতে, নতুন নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার ফলে ভবিষ্যতে সরকারি অনুষ্ঠানগুলোর ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের নকশায় পরিবর্তন আসবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে নতুন নীতিমালা অনুসরণ করে প্রচারসামগ্রী প্রস্তুত করতে হবে। এ বিষয়ে মাঠ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এই সিদ্ধান্ত একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করতে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে নির্দেশনাটি কতটা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয় এবং ভবিষ্যতে সরকারি প্রচারণায় ব্যক্তি-নির্ভরতার পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গি কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়, তার ওপর।