ঢাকা ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

পুতুল-মাসরুর বিবাহ বিচ্ছেদের রোষাণলে দেশান্তর হয়েছিলেন ইঞ্জিয়ার মোশাররফ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • / ৭৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ক্ষমতাচ্যূত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং তাঁর স্বামী খন্দকার মাশরুর হোসেনের দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের আনুষ্ঠানিক বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। দুবাই আদালতের ফ্যামিলি গাইডেন্স অ্যান্ড রিফর্মেশন বিভাগে স্বাক্ষরিত এই বিচ্ছেদ চুক্তির আইনি প্রক্রিয়ায় সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়।

পুতুল-মাসরুর বিবাহ বিচ্ছেদের প্রভা পড়ে রাজনৈতি অঙ্গনেও। শেখ হাসিনার রোষানলে পড়ে মন্ত্রীত্ব, এমন কি দেশান্তর হতেও বাধ্য হয়েছিলেন পুতুলের শ্বশুর ইনিঞ্জিয়ার মোশারফ হোসেনকে।  

পতুল-মাসরুর বিয়ে হয় ১৯৯৫ সালে ঢাকায়। দুজনই কানাডার নাগরিক ছিলেন৷ কিন্তু দীর্ঘ দাম্পত্য কোলহের কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় ২০২১ সালে, দুবাইয়ের একটি আদালতে। যদিও শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকায় তখন বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা সবার সামনে আসেনি।

প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, বিচ্ছেদ চুক্তির অংশ হিসেবে খন্দকার মাশরুর হোসেন সায়মা ওয়াজেদকে নগদ আড়াই লাখ মার্কিন ডলার দিয়েছেন। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর মূল্য তিন কোটি টাকারও বেশি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে তাদের যৌথ মালিকানাধীন দুটি বাড়ির মালিকানাও তার কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাড়ি দুটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে নগদ অর্থ ও সম্পত্তির মূল্য প্রায় ১৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার সমান।

দুবাই আদালতের ফ্যামিলি গাইডেন্স অ্যান্ড রিফর্মেশন বিভাগে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে, ফ্লোরিডার সেন্ট জনস কাউন্টির ফ্রুট কোভ এলাকার ৪৫৬ বে পয়েন্ট ওয়ে এবং মেইটল্যান্ডের ৮৪৫ ইয়র্ক ওয়ে-এ অবস্থিত দুটি বাড়ি ‘নেভা ইনকরপোরেটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ওই প্রতিষ্ঠানের একমাত্র আইনি মালিক ও সুবিধাভোগী সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিয়ের সময় পাওয়া উপহার, ব্যক্তিগত আসবাবপত্র, পোশাক, অলঙ্কার ও অন্যান্য স্মারকও পুতুলকে ফিরিয়ে দিতে হবে। তিনি যেখানে নির্দেশ দেবেন, সেখানে এসব সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও থাকবে খন্দকার মাশরুরের।

সরকারি সম্পত্তি রেকর্ড অনুযায়ী, সেন্ট জনস কাউন্টির বাড়িটি ২০০৫ সালের ১ নভেম্বর যৌথ নামে ২ লাখ ৪৫ হাজার ডলারে কেনা হয়েছিল। বর্তমানে এর বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪৪০ ডলার। অন্যদিকে মেইটল্যান্ডের চার শয়নকক্ষ ও দুই বাথরুমবিশিষ্ট একতলা বাড়িটির বর্তমান মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৮৪ হাজার থেকে ৫ লাখ ডলারের মধ্যে।

পুতুল ও মাশরুরের চার সন্তান। বিচ্ছেদের চুক্তিতে, অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই সন্তানের আইনগত অভিভাবক থাকবেন খন্দকার মাশরুর, তবে তাদের কাস্টডি বা জিম্মায় থাকবেন সায়মা ওয়াজেদ। সন্তানদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের সব ব্যয় বহন করবেন মাশরুর।

পুতুল- মাসরুর বিয়ের পর থেকে ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশারফ হোসেন এবং শেখ হাসিনার পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধিপায়। খন্দকার মোশাররফ হোসেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বড় নেতা হিসেবে আবির্ভাব হন৷ সাধারন একজন প্রকৌশলী পর্যায়ক্রমে এমপি এবং মন্ত্রী হন। আবার সম্পর্কের ছেদ ধরতেই তাকে পড়তে হয় শেখ হাসিনার রষানলে।

সুসম্পর্কের কারণে ১৯৯৬ সালে ফরিদপুর-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পান ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ। যদি তিনি নির্বাচিত হতে পারেননি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৯ সালে মন্ত্রিসভায় স্থান পান। প্রথমে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী এবং পরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন৷ 

নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর থেকে পুতুল ও মাশরুরের দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন শুরু হয়। আর তখনি শেখ হাসিনার চক্ষুশূল হয়ে উঠেন খন্দকার মোশাররফ। এতে করে তার রাজনৈতিক প্রভাব কমে আসতে শুরু করে। বাদ পড়েন মন্ত্রিসভা থেকে এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদও হারান। বাদ পড়েন মন্ত্রিসভা থেকে এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদও হারান।

শুধু তাই নয়, ২০২১ সালে পুতুল ও মাশরুরের বিবাহবিচ্ছেদের পর খন্দকার মোশাররফের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ তুলে অভিযান শুরু হয়। ২০২২ সালে তার ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর গ্রেফতার হন। শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা পরায়ন মনোভাব দেখে খন্দকার মোশাররফ দেশ ছেড়ে সুইজারল্যান্ডে চলে যান।


অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়নে সায়মা ওয়াজেদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হন এবং ভারতের দিল্লিতে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আপত্তির মুখে তিনি অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে তিনি কানাডার পাসপোর্ট ব্যবহার করে দুবাইয়ে সন্তানদের কাছে এবং দিল্লিতে মায়ের কাছে যাতায়াত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পুতুল-মাসরুর বিবাহ বিচ্ছেদের রোষাণলে দেশান্তর হয়েছিলেন ইঞ্জিয়ার মোশাররফ

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ক্ষমতাচ্যূত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং তাঁর স্বামী খন্দকার মাশরুর হোসেনের দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের আনুষ্ঠানিক বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। দুবাই আদালতের ফ্যামিলি গাইডেন্স অ্যান্ড রিফর্মেশন বিভাগে স্বাক্ষরিত এই বিচ্ছেদ চুক্তির আইনি প্রক্রিয়ায় সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়।

পুতুল-মাসরুর বিবাহ বিচ্ছেদের প্রভা পড়ে রাজনৈতি অঙ্গনেও। শেখ হাসিনার রোষানলে পড়ে মন্ত্রীত্ব, এমন কি দেশান্তর হতেও বাধ্য হয়েছিলেন পুতুলের শ্বশুর ইনিঞ্জিয়ার মোশারফ হোসেনকে।  

পতুল-মাসরুর বিয়ে হয় ১৯৯৫ সালে ঢাকায়। দুজনই কানাডার নাগরিক ছিলেন৷ কিন্তু দীর্ঘ দাম্পত্য কোলহের কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় ২০২১ সালে, দুবাইয়ের একটি আদালতে। যদিও শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকায় তখন বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা সবার সামনে আসেনি।

প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, বিচ্ছেদ চুক্তির অংশ হিসেবে খন্দকার মাশরুর হোসেন সায়মা ওয়াজেদকে নগদ আড়াই লাখ মার্কিন ডলার দিয়েছেন। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর মূল্য তিন কোটি টাকারও বেশি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে তাদের যৌথ মালিকানাধীন দুটি বাড়ির মালিকানাও তার কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাড়ি দুটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে নগদ অর্থ ও সম্পত্তির মূল্য প্রায় ১৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার সমান।

দুবাই আদালতের ফ্যামিলি গাইডেন্স অ্যান্ড রিফর্মেশন বিভাগে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে, ফ্লোরিডার সেন্ট জনস কাউন্টির ফ্রুট কোভ এলাকার ৪৫৬ বে পয়েন্ট ওয়ে এবং মেইটল্যান্ডের ৮৪৫ ইয়র্ক ওয়ে-এ অবস্থিত দুটি বাড়ি ‘নেভা ইনকরপোরেটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ওই প্রতিষ্ঠানের একমাত্র আইনি মালিক ও সুবিধাভোগী সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিয়ের সময় পাওয়া উপহার, ব্যক্তিগত আসবাবপত্র, পোশাক, অলঙ্কার ও অন্যান্য স্মারকও পুতুলকে ফিরিয়ে দিতে হবে। তিনি যেখানে নির্দেশ দেবেন, সেখানে এসব সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও থাকবে খন্দকার মাশরুরের।

সরকারি সম্পত্তি রেকর্ড অনুযায়ী, সেন্ট জনস কাউন্টির বাড়িটি ২০০৫ সালের ১ নভেম্বর যৌথ নামে ২ লাখ ৪৫ হাজার ডলারে কেনা হয়েছিল। বর্তমানে এর বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪৪০ ডলার। অন্যদিকে মেইটল্যান্ডের চার শয়নকক্ষ ও দুই বাথরুমবিশিষ্ট একতলা বাড়িটির বর্তমান মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৮৪ হাজার থেকে ৫ লাখ ডলারের মধ্যে।

পুতুল ও মাশরুরের চার সন্তান। বিচ্ছেদের চুক্তিতে, অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই সন্তানের আইনগত অভিভাবক থাকবেন খন্দকার মাশরুর, তবে তাদের কাস্টডি বা জিম্মায় থাকবেন সায়মা ওয়াজেদ। সন্তানদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের সব ব্যয় বহন করবেন মাশরুর।

পুতুল- মাসরুর বিয়ের পর থেকে ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশারফ হোসেন এবং শেখ হাসিনার পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধিপায়। খন্দকার মোশাররফ হোসেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বড় নেতা হিসেবে আবির্ভাব হন৷ সাধারন একজন প্রকৌশলী পর্যায়ক্রমে এমপি এবং মন্ত্রী হন। আবার সম্পর্কের ছেদ ধরতেই তাকে পড়তে হয় শেখ হাসিনার রষানলে।

সুসম্পর্কের কারণে ১৯৯৬ সালে ফরিদপুর-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পান ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ। যদি তিনি নির্বাচিত হতে পারেননি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৯ সালে মন্ত্রিসভায় স্থান পান। প্রথমে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী এবং পরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন৷ 

নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর থেকে পুতুল ও মাশরুরের দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন শুরু হয়। আর তখনি শেখ হাসিনার চক্ষুশূল হয়ে উঠেন খন্দকার মোশাররফ। এতে করে তার রাজনৈতিক প্রভাব কমে আসতে শুরু করে। বাদ পড়েন মন্ত্রিসভা থেকে এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদও হারান। বাদ পড়েন মন্ত্রিসভা থেকে এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদও হারান।

শুধু তাই নয়, ২০২১ সালে পুতুল ও মাশরুরের বিবাহবিচ্ছেদের পর খন্দকার মোশাররফের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ তুলে অভিযান শুরু হয়। ২০২২ সালে তার ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর গ্রেফতার হন। শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা পরায়ন মনোভাব দেখে খন্দকার মোশাররফ দেশ ছেড়ে সুইজারল্যান্ডে চলে যান।


অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়নে সায়মা ওয়াজেদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হন এবং ভারতের দিল্লিতে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আপত্তির মুখে তিনি অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে তিনি কানাডার পাসপোর্ট ব্যবহার করে দুবাইয়ে সন্তানদের কাছে এবং দিল্লিতে মায়ের কাছে যাতায়াত করেন।