দূর্দান্ত মরক্কোকে থামিয়ে দিয়ে সেমিফাইনালে ফান্স
- আপডেট সময় : ০৫:১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
- / ৫১ বার পড়া হয়েছে
বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালকে ঘিরে যতোটা না হাকডাক ছিলো, ম্যাচে যেন তার ছিটে ফোটাও দেখা মিলেনি। ফরাসী ফুটবলারদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় ছিলেন হাকিমির মরক্কো। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোলের ব্যবধানে।আর তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা। দুটি গোলই হয় বিরতির পর মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে। এমবাপ্পে ৬০ এবং দেম্বেলে ৬৬ মিনিটে গোল করেন।
অথচ ম্যাচের ২৯ মিনিটেই ফ্রান্সকে এগিয়ে নেয়ার সুযোগ ছিলো এমবাপ্পের। কিন্তু পেনাল্টি থেকে পাওয়া সহজ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেন নি এমবাপ্পে। ২৬ মিনটের সময় মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি। তবে এমবাপ্পের নেয়া স্পট কিকটি ফিরিয়ে দেন মরক্কোর গোল কিপার ইয়াসিন বুনু ।
এ যেন গোলের ন্যায় পেনাল্টি মিসেও মেসির পথ অনুসরণ করলেন এমবাপ্পে। এমন কি মাঠের রাজত্বেও তিনি ছিলেন দূরন্তপনা। তাকে ঠেকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছিলো মরক্কোর রক্ষণভাগের। এমন কি শেষ পর্যন্ত গোল করেছেন এবং করিয়েছেন।
ফ্রান্সের হয়ে টানা ১৫টি পেনাল্টি ও স্পট-কিক সফলভাবে জালে জড়িয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এবারই প্রথম তিনি ব্যর্থ হলেন। এর আগে ফ্রান্সের জার্সিতে এমবাপ্পে সর্বশেষ পেনাল্টি মিস করেছিলেন ২০২০ ইউরোর শেষ ষোলোয় সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে। এত দিন পর আবারও স্পট-কিক থেকে হতাশ করলেন এমবাপ্পে।
অন্যদিকে টাইব্রেকারসহ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত প্রতিপক্ষের নেওয়া ৯টি পেনাল্টির মুখোমুখি হয়েছেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। এর মধ্যে মাত্র ২টিতে তিনি পরাস্ত হয়েছেন। বাকি ৭টির মধ্যে ৪টি তিনি ঠেকিয়েছেন, আর ৩টি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।

পেনাল্টি মিসের পরেও ফ্রান্সের আক্রমন থেমে ছিলো না। ৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই। প্রথমার্ধে ফ্রান্সের দাপট থাকলেও, গোল মেলেনি। মরক্কো অবশ্য খুব একটা সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।
দু‘দলই গোলের উপর চোখে চোখ রেখে বিরতিতে যায় । কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।
এরপর ৬৬ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। গোলের ব্যবধান ২-০তে গড়ায়। এমন কি শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানেই ম্যাচের ইতি ঘটে। টানা ৩৪ ম্যাচ পর গতবার সেমিফাইনালে যাদের কাছে পরাজিত হয়েছিলে তাদের কাছেই হারলো এবার কোয়ার্টারে। যা ছিলো অনেকটাই হতাশার। দূর্দান্তভাবে শুরু করা হাকিমিরা এই ম্যাচে পারেন নি জেগে উঠতে। আর তাই হতাশা নিয়ে মাঠ টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো।






















