নিউ লুক নিউ রেকর্ড, ফুটবলের অনন্য উচ্চতায় জাদুকরী মেসি
- আপডেট সময় : ০৭:৪১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
- / ৩৯ বার পড়া হয়েছে
চলতি বিশ্বকাপের শুরুতেই বুড়িয়ে যাওয়া মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে ছিলো সন্দেহ। মেসি কি পারবেন তার সেই আগের নৈপুন্য তুলে ধরতে? নাকি হতাশা দিয়েই যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো বিশ্বকাপের ইতি টানবেন! মাঠের লড়াইয়ের আগে ফুটবল বিশ্বে এ নিয়ে ছিলো রাজ্যের বিতর্ক।
প্রখম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক গোল করে সকল ধোঁয়াশা কাটিয়ে মেসি বুজিয়ে দিলেন বয়স কেবলই একটি সংখ্যা। মাঠের পারফরম্যান্সে এখনও তারুণ্যতায় ভরপুর মেসি। দ্বিতীয় ম্যাচেও দেখালেন চমক। তার জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় জয়ে উঠে গেলো নক আউটে। এই ম্যাচেও হ্যাটট্রিক প্রায় হয়েই গিয়েছিল আর্জেন্টিনার এই যাদুকরি ফুটবলারের। ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ায় মিসের রেকর্ডটাও করে নিলেন লিওনেল মেসি।
মেসির জাদুকরি শুরুটা যেন বার্তা দিচ্ছে আবারো শিরোপা জেতার পথে ছুটছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কাতার বিশ্বকাপে মোট ৭ গোল ছিলো মেসির গোলের খাতায়। সেখানে এবারের বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচেই করেছেন ৫ গোল। শুধু তাই নয়, চারটি রেকর্ডও গড়লেন দ্বিতীয় এই ম্যাচে। বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত সর্বাধিক ১৮ গোলের কৃতিত্ব এককভাবে মেসির দখলে। সর্বাধিক ২৮ ম্যাচ ও সর্বাধিক ২৪৮৯ মিনিট সময় মাঠে খেলেন। তার এই কৃতিত্ব যেন গিনেজ ওয়াল্ড রেকর্ড বুকে ঠাই করে নিয়েছে।
বয়স যেন তাকে থামিয়ে রাখতে পারছে না।নতুন নতুন রেকর্ড গড়ার দিকে ছুটছেন তিনি।অথচ কাতার বিশ্বকাপেই যে মেসির ফুটবলে ইতি হওয়ার কথা ছিলো, সে মেসি ছুটছেন আপন গতিতে। এখনো তার গতি,স্কীল ড্রিবলিং নিখুত পাসিং এবং প্রি কিকে রয়েছে যাদুর ছোঁয়া।
ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্টিনেজ বক্সে ঢোকা মাত্রই শ্লাগার ও পশের চ্যালেঞ্জের মুখে ডি-বক্সের ভেতরে পড়ে যান লাউতারো মার্টিনেজ।
রেফারি প্রথমে পেনাল্টি দেননি। পরে ফাউলটি আবার পরীক্ষা করতে ভিএআর স্ক্রিনের দিকে এগিয়ে যান। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন।
অষ্টম মিনিটে মেসি শট নেওয়ার জন্য এগিয়ে যান। গোল করতে পারলেই বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন। কিন্তু মেসি প্রমাণ করলেন যে তিনিও একজন মানুষ! তিনি শটটি পোস্টের ডান দিক দিয়ে বাইরে মেরে দিলেন। গোলরক্ষক ঠিক দিক অনুমান করতে পেরেছিলেন, কিন্তু তাকে কোনো সেভ করতে হয়নি।
মেসির সামনে দারুণ সুযোগ ছিল ২১ মিনিটে! তিনি কাট-ইন করে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন, কিন্তু আলাবা পেছন থেকে বলটি ছুঁয়ে দেন। তাতে বল শ্লাগারের গায়ে লেগে বিপদমুক্ত হয়। হাইড্রেশন ব্রেকের আগে হতাশা আর্জেন্টিনা শিবিরে।
৩৩ মিনিটে অস্ট্রিয়ার ডি-বক্সের ভেতর ফের্নান্দেসের উদ্দেশ্যে দেওয়া একটি পাস দারুণভাবে এগিয়ে এসে আটকে দেন শ্লাগার। কিন্তু তিনি বলটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে সরাসরি মেসির পায়ে ঠেলে দেন। মেসিও কোনো সময় নষ্ট না করে সরাসরি গোলে শট নেন। গোলপোস্ট সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকায় আলাবা একেবারে সঠিক জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে নিশ্চিত গোল ব্লক করে দেন।
৩৮ মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বাম দিক থেকে আর্জেন্টিনার আক্রমণের সূত্রপাত করেন মেসি নিজেই এবং পেনাল্টি বক্সের প্রান্ত থেকে বলটিকে নিখুঁত শটে পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে জালে জড়িয়ে ফিনিশিং করেন। বিশ্বকাপের রেকর্ড ১৭তম গোলে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে তো গেলেনই, দলকেও এগিয়ে দিলেন। ওই এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে আর্জেন্টিনা।
৬৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার একটি দুর্দান্ত আক্রমণ শেষ হয় ফের্নান্দেসের জোরালো শটের মাধ্যমে। অস্ট্রিয়ার এক ডিফেন্ডার তা ব্লক করে দেন।
৭৪ মিনিটে গঞ্জালেসের হেড পোস্টের বাইরে যায়। মেসি বাম দিক থেকে একটি চমৎকার কর্নার কিকে বল ডি-বক্সে বাড়ান এবং গঞ্জালেস দুর্দান্তভাবে এগিয়ে এসে হেড করেন। চেষ্টাটি দারুণ ছিল এবং বলটি পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে ঘেঁষে চলে যায়।
দ্বিতীয় গোলের জন্য আর্জেন্টিনা চাপ দিতে থাকে। ম্যাচটি পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দারুণ সুযোগ এসেছিল গঞ্জালেসের সামনে। কিন্তু অস্ট্রিয়ার ডি-বক্সের ভেতর তার নেওয়া শটটি ব্লক হয়ে যায় ৮৭ মিনিটে।
মেসি শেষ দিকে করেছেন আরেকটি গোল। ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে বাম দিক থেকে আলভারেস বল নিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আর্জেন্টিনা এক বিধ্বংসী কাউন্টার-অ্যাটাকে ওঠে। তার নেওয়া শটটি শ্লাগার ঠেকিয়ে দিলেও বল চলে যায় মেসির পায়ে, যদিও তখন বেশ কয়েকজন অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার গোললাইন আগলে দাঁড়িয়েছিলেন।
মেসির প্রথম প্রচেষ্টাটি সাইওয়াল্ডের গায়ে লেগে ফিরে আসে। কিন্তু দ্বিতীয় শটে তিনি গোললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দানসোকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান।
জে গ্রুপে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়াকেও হারিয়ে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট। তাতে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে নামার আগেই পরের পর্ব নিশ্চিত করল আলবিসেলেস্তেরা।





















