আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময়
- আপডেট সময় : ০৯:০৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪১ বার পড়া হয়েছে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক দাতব্য, জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করেছেন। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় জনহিতকর ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) এবং রোটারি ইন্টারন্যাশনাল।
বৈঠকে বৈশ্বিক মানবিক সংকট, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে দাতব্য ও মানবিক সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দারিদ্র্য হ্রাস, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, প্রযুক্তি এবং জলবায়ু সহনশীলতার মতো খাতে আন্তর্জাতিক জনহিতকর সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের সুযোগ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচিতে মানবিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার প্রাতরাশ বৈঠকের পর তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: আ রিনিউড কল ফর আ ডিউরেবল সল্যুশন ফ্রম প্রোট্র্যাক্টেড ডিসপ্লেসমেন্ট, উইথ জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা এবং মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হবে।
একই দিনে প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেবেন। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান, জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো তাঁর সফরের জলবায়ু সংক্রান্ত কর্মসূচিতে গুরুত্ব পাচ্ছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ২৪ সেপ্টেম্বর। ওই দিন সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে সাধারণ বিতর্কে এটিই হবে তাঁর প্রথম ভাষণ।
সাধারণ বিতর্কের পাশাপাশি ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বের হুমকি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ ছাড়া মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং ধাত্রীবিদ্যা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানেও তিনি অংশ নেবেন।
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় ও সৌজন্য বৈঠকেরও কর্মসূচি রয়েছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এসব বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে।
২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এর আগে তিনি ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি প্রাতরাশ বৈঠকেও অংশ নেবেন।






















